📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 বনু যিননুনের মূলধারা ও ইতিহাস

📄 বনু যিননুনের মূলধারা ও ইতিহাস


বনু যিন্নুন মূলত বার্বার বংশোদ্ভূত একটি পরিবার। তারা হুওয়ারা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আলমানসুর বিন আবু আমিরের শাসনামলে তারা বিশেষ প্রতিপত্তি লাভ করে। আবদুর রহমান বিন ইসমাইল বিন যিন্নুন ছিলেন সান্তামারিয়া অঞ্চলের প্রশাসক। তাঁর পুত্র ইসমাইল ফিতনার সময় টলেডোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

টিকাঃ
৬৪২. ইবনে আযারী, ৩/২৮৬; ইবনে খালদুন, ৪/৬১।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 টলেডোতে বনু যিননুনের শাসন

📄 টলেডোতে বনু যিননুনের শাসন


উমাইয়া খেলাফতের পতন এবং আমিরিয়া সালতানাতের অবসানের পর টলেডো একটি বিশৃঙ্খল জনপদে পরিণত হয়েছিল। এই সময় নগরীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সান্তামারিয়ার প্রভাবশালী নেতা ইসমাইল বিন যিন্নুনকে টলেডোর শাসনভার গ্রহণের প্রস্তাব পাঠান। এর মাধ্যমেই টলেডোতে বনু যিন্নুনের রাজত্বের সূচনা হয়।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আযযাফির ইসমাইল বিন যিননুন

📄 আযযাফির ইসমাইল বিন যিননুন


ইসমাইল বিন যিন্নুন ৪২৭ হিজরীতে টলেডোতে প্রবেশ করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ‘আয-যাফির’ উপাধি ধারণ করেন। তিনি অত্যন্ত ধূর্ত ও কৌশলী ছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আন্দালুসের মুসলিম রাষ্ট্রের ঐক্যে ভাঙন ধরিয়ে নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে টলেডো বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ৪৩৫ হিজরীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

টিকাঃ
৬৪৬. ইবনে হাইয়ান, ২/৩৮২।
৬৪৯. ইবনে খালদুন, ৪/৬১।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আলমামুন ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল

📄 আলমামুন ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল


আয-যাফিরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া ‘আল-মামুন’ উপাধি নিয়ে টলেডোর সিংহাসনে বসেন। তিনি ছিলেন বিভক্ত রাষ্ট্রযুগের অন্যতম শক্তিশালী এবং উচ্চাভিলাষী শাসক। তিনি প্রতিবেশী মুসলিম রাজ্যগুলোর সাথে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন, বিশেষ করে জারাগোসার বনু হুদ এবং সেভিলের বনু আব্বাদের সাথে। তিনি তাঁর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে খৃষ্টান রাজা ফার্দিনান্দের সাহায্য নিতেও দ্বিধা করেননি। ১০৭৫ খৃষ্টাব্দে (৪৬৭ হিজরীতে) তিনি ভ্যালেন্সিয়া জয় করেন।

আল-মামুনের রাজদরবার ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। তিনি ‘আল-মুক্বাররাম’ নামে এক বিস্ময়কর দরবার কক্ষ নির্মাণ করেছিলেন, যার দেওয়াল ও ছাদ ছিল সূক্ষ্ম কারুকার্য ও কৃত্রিম ঝরনা দ্বারা সুশোভিত। তাঁর আমলে টলেডো জ্ঞান-বিজ্ঞান ও কৃষিতে অভূতপূর্ব উন্নতি লাভ করেছিল। ৪৬৭ হিজরীতে তিনি কর্ডোভা জয় করার পর সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

টিকাঃ
৫৭. ইবনুল জাওযী, ৫/২৭৮-২৭৯।
৬০. ইবনুল জাওযী, ৫/১১৮-১১৯; ইবনে খালদুন, ৪/১১৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px