📄 বনু আফতাসের দুর্যোগ
মুতাওয়াক্কিল বিন আফতাসের শেষ জীবন অত্যন্ত করুণ ছিল। যখন মাগরেব থেকে মুরাবিতীরা আন্দালুসে প্রবেশ করে এবং একের পর এক বিভক্ত রাষ্ট্রগুলো জয় করতে থাকে, তখন মুতাওয়াক্কিল ভয়ে খৃষ্টান রাজা আলফোন্সোর সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি এমনকি লিসবন ও সান্তারিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোও খৃষ্টানদের হাতে তুলে দেন। এই বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাত্তালইউসের জনগণ তাঁর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মুরাবিতীদের সহায়তা কামনা করে। ৪৮৭ হিজরীতে (১০৯৪ খৃষ্টাব্দে) মুরাবিতী সেনাপতি সায়র বিন আবু বকর বাত্তালইউস জয় করেন এবং মুতাওয়াক্কিল ও তাঁর দুই পুত্রকে বন্দি করে হত্যা করা হয়। এভাবেই বনু আফতাসের শাসনের অবসান ঘটে।
টিকাঃ
৮০৮. ইবনে সাঈদা আন্দালুসী, আলমুগরিব, পৃ: ২৯; ইবনুল খতীব, আ'মালুল আ'লাম, পৃ: ১৩৫-১৩৬।
📄 বাতালইযুস রাজদরবারের বিখ্যাত কয়েকজন আলিম
বনু আফতাসের পৃষ্ঠপোষকতায় বাত্তালইউস ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র। এখানকার শাসকদের মধ্যে মুজাফফার ও মুতাওয়াক্কিল উভয়েই ছিলেন বিদ্বান। তাঁদের দরবারে আবু ওমর ইবনে আবদুন নামক বিখ্যাত কবির নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বনু আফতাসের পতন নিয়ে তাঁর রচিত করুণ শোকগাথাটি আজও সাহিত্যের ইতিহাসে স্মরণীয়। এছাড়াও আবুল ওয়ালিদ আলবাজী ও ইবনু আবদিল বারের মতো জগতবিখ্যাত ফকীহগণ এই দরবারের সাথে যুক্ত ছিলেন।
📄 আবুল ওয়ালিদ আলবাজী রহ.
তাঁর পুরো নাম আবুল ওয়ালিদ সুলায়মান বিন খালাফ আলবাজী। তিনি ৪০২ হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে ফকীহ, মুহাদ্দিস এবং বাগ্মী। তিনি ইলম অন্বেষণে বাগদাদ, দামেশক ও মিসর সফর করেছিলেন। তাঁর সময়ে মুসলিম শাসকদের মধ্যে ব্যাপক বিভেদ দেখে তিনি ব্যথিত হতেন এবং রাজ্যগুলোতে ঘুরে ঘুরে শাসকদের একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাতেন। ৪৭৪ হিজরীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিখ্যাত রচনার মধ্যে ‘কিতাবুল মুনতাকা’ অন্যতম।
টিকাঃ
৪৯৭. ইবনে খালিকান, ওফায়াতুল আ’ইয়ান, ২/৪০৬-৪০৯।
📄 ইবনু আবদিল বার রহ.
হাফিযুল মাগরিব আবু ওমর ইবনু আবদিল বার ছিলেন সমকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস। তিনি ৩৮৮ হিজরীতে কর্ডোভায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মুজাফফার বিন আফতাসের আমলে বাত্তালইউসে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ‘আল-ইসতিয়াব’ ও ‘আল-তামহীদ’-এর মতো কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করেন। ৪৬৩ হিজরীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
টিকাঃ
৪৯৮. যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ১৫/৩০৫-৩০৬।