📄 মুতাওয়াক্কিল আ’লাল্লাহ বিন আফতাস
মুতাওয়াক্কিল ছিলেন একজন উচ্চাভিলাষী এবং সংস্কৃতিমনা শাসক। তাঁর শাসনামলে বাত্তালইউস ছিল কাব্য ও সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তিনি নিজেই একজন সুদক্ষ গদ্য ও পদ্য লেখক ছিলেন। ৪৭২ হিজরীতে টলেডোর অরাজক পরিস্থিতির সুযোগে তিনি সেখানে প্রবেশ করেন এবং কিছুদিন শাসন করেন। তবে পরবর্তীতে খৃষ্টানদের চাপে তিনি সেখান থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন। খৃষ্টান রাজা ষষ্ঠ আলফোন্সো যখন মুসলিম রাজ্যগুলোর ওপর জিজিয়া আরোপ করেন, তখন একমাত্র মুতাওয়াক্কিলই সাহসের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং আলফোন্সোকে অত্যন্ত তেজস্বী একটি চিঠি লিখেছিলেন।
টিকাঃ
৮০৩. ইবনুল আব্বার, ২/৮৯; ইবনুল খতীব, পৃ: ১৩৫।
৮০৬. আলহাজার বিন খাওয়ার, ক্বিয়ানুল ই'ল্লান, পৃ: ৪২-৪৬。
📄 বনু আফতাসের দুর্যোগ
মুতাওয়াক্কিল বিন আফতাসের শেষ জীবন অত্যন্ত করুণ ছিল। যখন মাগরেব থেকে মুরাবিতীরা আন্দালুসে প্রবেশ করে এবং একের পর এক বিভক্ত রাষ্ট্রগুলো জয় করতে থাকে, তখন মুতাওয়াক্কিল ভয়ে খৃষ্টান রাজা আলফোন্সোর সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি এমনকি লিসবন ও সান্তারিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোও খৃষ্টানদের হাতে তুলে দেন। এই বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাত্তালইউসের জনগণ তাঁর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মুরাবিতীদের সহায়তা কামনা করে। ৪৮৭ হিজরীতে (১০৯৪ খৃষ্টাব্দে) মুরাবিতী সেনাপতি সায়র বিন আবু বকর বাত্তালইউস জয় করেন এবং মুতাওয়াক্কিল ও তাঁর দুই পুত্রকে বন্দি করে হত্যা করা হয়। এভাবেই বনু আফতাসের শাসনের অবসান ঘটে।
টিকাঃ
৮০৮. ইবনে সাঈদা আন্দালুসী, আলমুগরিব, পৃ: ২৯; ইবনুল খতীব, আ'মালুল আ'লাম, পৃ: ১৩৫-১৩৬।
📄 বাতালইযুস রাজদরবারের বিখ্যাত কয়েকজন আলিম
বনু আফতাসের পৃষ্ঠপোষকতায় বাত্তালইউস ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র। এখানকার শাসকদের মধ্যে মুজাফফার ও মুতাওয়াক্কিল উভয়েই ছিলেন বিদ্বান। তাঁদের দরবারে আবু ওমর ইবনে আবদুন নামক বিখ্যাত কবির নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বনু আফতাসের পতন নিয়ে তাঁর রচিত করুণ শোকগাথাটি আজও সাহিত্যের ইতিহাসে স্মরণীয়। এছাড়াও আবুল ওয়ালিদ আলবাজী ও ইবনু আবদিল বারের মতো জগতবিখ্যাত ফকীহগণ এই দরবারের সাথে যুক্ত ছিলেন।
📄 আবুল ওয়ালিদ আলবাজী রহ.
তাঁর পুরো নাম আবুল ওয়ালিদ সুলায়মান বিন খালাফ আলবাজী। তিনি ৪০২ হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে ফকীহ, মুহাদ্দিস এবং বাগ্মী। তিনি ইলম অন্বেষণে বাগদাদ, দামেশক ও মিসর সফর করেছিলেন। তাঁর সময়ে মুসলিম শাসকদের মধ্যে ব্যাপক বিভেদ দেখে তিনি ব্যথিত হতেন এবং রাজ্যগুলোতে ঘুরে ঘুরে শাসকদের একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাতেন। ৪৭৪ হিজরীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিখ্যাত রচনার মধ্যে ‘কিতাবুল মুনতাকা’ অন্যতম।
টিকাঃ
৪৯৭. ইবনে খালিকান, ওফায়াতুল আ’ইয়ান, ২/৪০৬-৪০৯।