📄 আলমুজাফফার মুহাম্মাদ বিন আফতাস
পিতার মৃত্যুর পর মুহাম্মাদ ‘আল-মুজাফফার’ উপাধি ধারণ করে শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার মতোই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও প্রাজ্ঞ ছিলেন। তিনি সেভিলের বনু আব্বাদ ও টলেডোর বনু যিন্নুনের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজের রাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁর শাসনামলে বাত্তালইউস রাষ্ট্র যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তবে উত্তরের খৃষ্টান নৃপতি প্রথম ফার্দিনান্দের ক্রমাগত আক্রমণের মুখে তাঁকে কুম্বরিয়া (Coimbra) শহরসহ বেশ কিছু অঞ্চল হারাতে হয়। তিনি ৪৮০ হিজরীতে (১০৬৭ খৃষ্টাব্দে) মৃত্যুবরণ করেন।
মুজাফফার বিন আফতাস কেবল যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানানুরাগী। তিনি ‘কিতাবুল মুজাফফার’ নামে একটি সুবিশাল জ্ঞানকোষ রচনা করেন, যা ছিল তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক সংকলন। প্রখ্যাত ইমাম ইবনে হাযম আন্দালুসী এই গ্রন্থের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
টিকাঃ
৬০৩. ইবনুল আ‘বার, আলহুল্লাতুস সায়িরা, ১/৯৭; ইবনুল খতীব, পৃ: ১৮৩।
৬০৬. ইবন আ‘যারী, আলবায়ানুল মুগরিব, ৩/২৯৮-৩০০।
৬০৯. ইবন আ‘যারী, আলবায়ানুল মুগরিব, ৩/২০২-২০৭; ইবনুল খতীব, আ‘মালুল আ‘লাম, পৃ: ১৯৩-১৯৪।
📄 আলমানসুর ইয়াহইয়া বিন আফতাস
মুজাফফার বিন আফতাসের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র ইব্রাহীম ও ওমর ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। ইব্রাহীম ‘আল-মানসুর’ উপাধি নিয়ে বাত্তালইউসের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দুই ভাইয়ের এই দ্বন্দ্বের ফলে কাস্টেলো-রাজ আলফোন্সো মুসলিম ভূখণ্ডে আক্রমণের সুযোগ পায়। এই সংঘাতের এক পর্যায়ে ৪৬১ হিজরীতে ইব্রাহীম আল-মানসুর মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ভাই ওমর ‘মুতাওয়াক্কিল’ উপাধি নিয়ে একক ক্ষমতা লাভ করেন।
📄 মুতাওয়াক্কিল আ’লাল্লাহ বিন আফতাস
মুতাওয়াক্কিল ছিলেন একজন উচ্চাভিলাষী এবং সংস্কৃতিমনা শাসক। তাঁর শাসনামলে বাত্তালইউস ছিল কাব্য ও সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তিনি নিজেই একজন সুদক্ষ গদ্য ও পদ্য লেখক ছিলেন। ৪৭২ হিজরীতে টলেডোর অরাজক পরিস্থিতির সুযোগে তিনি সেখানে প্রবেশ করেন এবং কিছুদিন শাসন করেন। তবে পরবর্তীতে খৃষ্টানদের চাপে তিনি সেখান থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন। খৃষ্টান রাজা ষষ্ঠ আলফোন্সো যখন মুসলিম রাজ্যগুলোর ওপর জিজিয়া আরোপ করেন, তখন একমাত্র মুতাওয়াক্কিলই সাহসের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং আলফোন্সোকে অত্যন্ত তেজস্বী একটি চিঠি লিখেছিলেন।
টিকাঃ
৮০৩. ইবনুল আব্বার, ২/৮৯; ইবনুল খতীব, পৃ: ১৩৫।
৮০৬. আলহাজার বিন খাওয়ার, ক্বিয়ানুল ই'ল্লান, পৃ: ৪২-৪৬。
📄 বনু আফতাসের দুর্যোগ
মুতাওয়াক্কিল বিন আফতাসের শেষ জীবন অত্যন্ত করুণ ছিল। যখন মাগরেব থেকে মুরাবিতীরা আন্দালুসে প্রবেশ করে এবং একের পর এক বিভক্ত রাষ্ট্রগুলো জয় করতে থাকে, তখন মুতাওয়াক্কিল ভয়ে খৃষ্টান রাজা আলফোন্সোর সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি এমনকি লিসবন ও সান্তারিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোও খৃষ্টানদের হাতে তুলে দেন। এই বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাত্তালইউসের জনগণ তাঁর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মুরাবিতীদের সহায়তা কামনা করে। ৪৮৭ হিজরীতে (১০৯৪ খৃষ্টাব্দে) মুরাবিতী সেনাপতি সায়র বিন আবু বকর বাত্তালইউস জয় করেন এবং মুতাওয়াক্কিল ও তাঁর দুই পুত্রকে বন্দি করে হত্যা করা হয়। এভাবেই বনু আফতাসের শাসনের অবসান ঘটে।
টিকাঃ
৮০৮. ইবনে সাঈদা আন্দালুসী, আলমুগরিব, পৃ: ২৯; ইবনুল খতীব, আ'মালুল আ'লাম, পৃ: ১৩৫-১৩৬।