📄 কাযী আবুল কাসিম মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন আব্বাদ
তিনি ছিলেন সেভিল রাষ্ট্রের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর শাসনামলে সেভিল একটি শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হয়। তিনি অত্যন্ত কৌশলী ছিলেন এবং ৪২৬ হিজরীতে হিশাম আলমুআইয়াদ জীবিত আছেন—এমন এক কৃত্রিম দাবি তুলে মানুষের সমর্থন আদায় করেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের শাসনের রাজনৈতিক বৈধতা তৈরি করেছিলেন। ৪৬০ হিজরীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
📄 আলমু’তাজিদ বিল্লাহ ইবনে আব্বাদ
আবু আমর আব্বাদ বিন মুহাম্মাদ ‘আলমু’তাজিদ বিল্লাহ’ উপাধি নিয়ে ক্ষমতায় বসেন। তিনি ছিলেন একাধারে অত্যন্ত মেধাবী এবং অসম্ভব নিষ্ঠুর। তিনি তাঁর রাজ্য সম্প্রসারণের জন্য প্রতিবেশী ক্ষুদ্র মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে একে একে গ্রাস করেন। তিনি এতটাই কঠোর ছিলেন যে নিজ অবাধ্য পুত্রকেও হত্যা করতে দ্বিধা করেননি। তাঁর আমলেই সেভিল সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। ৪৮১ হিজরীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
টিকাঃ
৪৬৫. ইবনে খালদুন, আল-মুকাদ্দিমাহ, ৩/৬৯৭।
📄 আলমু’তামিদ বিন আব্বাদ
মু’তামিদ বিন আব্বাদ ছিলেন বনু আব্বাদের শেষ সার্থক শাসক। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি এবং বীর যোদ্ধা। তাঁর শাসনামলে কর্ডোভাও সেভিলের অধীনে আসে। তবে খৃষ্টান রাজা ষষ্ঠ আলফোন্সোর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তিনি তাঁর রাজ্য হারান। শেষ জীবনে তিনি মুরাবিতীদের হাতে বন্দী হয়ে মরক্কোর আগমাত-এ নির্বাসিত হন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত কবিতাগুলো আজও আন্দালুসী সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
📄 সেভিল রাজপ্রাসাদের আলিমসমাজ
সেভিলের রাজদরবার ছিল সমকালীন কবি ও সাহিত্যিকদের স্বর্গরাজ্য। মু’তামিদ নিজে কবি হওয়ায় সেখানে জ্ঞানী-গুণীদের বিশেষ মূল্যায়ন করা হতো। ইবনুল যায়েদুন ও ইবনে আম্মারের মতো বিশ্ববিখ্যাত কবিরা এই দরবারের শোভা বৃদ্ধি করেছিলেন।