📄 বনু আব্বাদদের বংশ-পরিচিতি
বনু আব্বাদ আরব গোত্র বনু লাখম-এর একটি শাখা। তারা শামের হিমস থেকে আন্দালুসে এসেছিল। তাদের ঊর্ধ্বতন পুরুষ ইত্তাফ বিন খুশাইম সেভিলের নিকটবর্তী একটি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তারা সেভিলে চলে আসেন। বনু উমাইয়াদের শাসনামলে এই পরিবারের সদস্যরা বিচারক ও ইমামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
টিকাঃ
৩৯৩. ইবনে আযারী, ৫/১৮৩; মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইনান, ১/২৯-৩০।
📄 কাযী আবুল ওয়ালিদ ইসমাইল বিন আব্বাদ
বনু আব্বাদের রাজত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন কাযী আবুল ওয়ালিদ ইসমাইল। তিনি সেভিলের প্রধান বিচারক ছিলেন এবং নিজের প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন। উমাইয়া খেলাফতের পতনের পর তিনি সেভিলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং শহরটিকে বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করেন। ৪১৪ হিজরীতে তাঁর ইন্তেকাল হয়।
টিকাঃ
৭০. ইবনুল বদ্দীহ, আ’লামুল আ’লাম, পৃ: ১৫২।
📄 কাযী আবুল কাসিম মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন আব্বাদ
তিনি ছিলেন সেভিল রাষ্ট্রের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর শাসনামলে সেভিল একটি শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হয়। তিনি অত্যন্ত কৌশলী ছিলেন এবং ৪২৬ হিজরীতে হিশাম আলমুআইয়াদ জীবিত আছেন—এমন এক কৃত্রিম দাবি তুলে মানুষের সমর্থন আদায় করেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের শাসনের রাজনৈতিক বৈধতা তৈরি করেছিলেন। ৪৬০ হিজরীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
📄 আলমু’তাজিদ বিল্লাহ ইবনে আব্বাদ
আবু আমর আব্বাদ বিন মুহাম্মাদ ‘আলমু’তাজিদ বিল্লাহ’ উপাধি নিয়ে ক্ষমতায় বসেন। তিনি ছিলেন একাধারে অত্যন্ত মেধাবী এবং অসম্ভব নিষ্ঠুর। তিনি তাঁর রাজ্য সম্প্রসারণের জন্য প্রতিবেশী ক্ষুদ্র মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে একে একে গ্রাস করেন। তিনি এতটাই কঠোর ছিলেন যে নিজ অবাধ্য পুত্রকেও হত্যা করতে দ্বিধা করেননি। তাঁর আমলেই সেভিল সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। ৪৮১ হিজরীতে তাঁর মৃত্যু হয়।
টিকাঃ
৪৬৫. ইবনে খালদুন, আল-মুকাদ্দিমাহ, ৩/৬৯৭।