📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 ভয়াবহ দুর্যোগ

📄 ভয়াবহ দুর্যোগ


আবুল ওয়ালিদের কনিষ্ঠ পুত্র আব্দুল মালিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং কিছুটা স্বেচ্ছাচারী প্রকৃতির ছিলেন। ক্ষমতা হাতে পেয়েই তিনি বড় ভাই আবদুর রহমানকে গৃহবন্দী করেন এবং নিজের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি জনগণের ওপর জুলুম শুরু করলে কর্ডোভার শান্ত পরিবেশ নষ্ট হয়। ৪৪৬ হিজরীতে তিনি তাঁর সুযোগ্য উযীর ইবনুল সাকাকে হত্যা করেন, যা তাঁর পতনের পথ প্রশস্ত করে। এই সুযোগে সেভিলের শাসক মু’তাদিদ এবং টলেডোর শাসক আল-মামুন কর্ডোভা দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। শেষ পর্যন্ত ৪৬২ হিজরীতে সেভিলের বাহিনীর সহায়তায় কর্ডোভা দখল করা হয় এবং বনু জাহওয়ারের শাসনের অবসান ঘটে। আব্দুল মালিক ও তাঁর পরিবারকে বন্দী করে সেভিলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

টিকাঃ
৫০৯. ইবনে বাসসাম, আয-যাখীরা, ২/৩০৫-৩০৬; ইবনে আযারী, ৩/১০২-১০৩।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 কর্ডোভা রাজদরবারের বিখ্যাত কয়েকজন আলিম

📄 কর্ডোভা রাজদরবারের বিখ্যাত কয়েকজন আলিম


বিরাজমান রাজনৈতিক অরাজকতা সত্ত্বেও কর্ডোভা তখনো জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র ছিল। কর্ডোভা রাজদরবার ছিল আলেম, ফকীহ এবং সাহিত্যিকদের মিলনস্থল। এ সময়ের অন্যতম প্রধান আলেম ছিলেন ইবনে হাযম আন্দালুসী এবং ইতিহাসবিদ আবু মারওয়ান ইবনে হাইয়ান। কর্ডোভার শিক্ষা ও সংস্কৃতির টানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও জ্ঞানপিপাসুরা এখানে ছুটে আসত।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 ইবনে হাযম আন্দালুসী রহ.

📄 ইবনে হাযম আন্দালুসী রহ.


ইমাম ইবনে হাযমের পুরো নাম আবু মুহাম্মাদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাযম। তিনি একাধারে মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ এবং সুসাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা পারস্যের অধিবাসী হলেও পরে আন্দালুসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। প্রথম জীবনে তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, পরে তিনি ‘যাহিরী’ মতবাদের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর রচিত ‘আল-মুহাল্লা’ ফিকহ শাস্ত্রের এক অনন্য কিতাব। তিনি বিভিন্ন ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের শাসকদের সমালোচনা করায় অনেক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন, এমনকি তাঁর বইও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। তবুও তিনি সত্য বলা থেকে পিছু হটেননি। ৪৫৬ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

টিকাঃ
৩৯১. যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১৮/১৯৪-২১২।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আবু মারওয়ান ইবনে হাইয়ান রহ.

📄 আবু মারওয়ান ইবনে হাইয়ান রহ.


আবু মারওয়ান হাইয়ান বিন খালাফ ছিলেন আন্দালুসের শ্রেষ্ঠতম ঐতিহাসিক। তিনি বিভক্ত রাষ্ট্রযুগের সব ঘটনাপ্রবাহ স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্যতার সাথে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর রচিত ‘আল-মুকতাবাস’ ও ‘আল-মাতীন’ আন্দালুসের ইতিহাসের প্রধান উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বনু জাহওয়ারের শাসনামলে কর্ডোভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ৪৬৯ হিজরীতে এই সুমহান ইতিহাসবেত্তা মৃত্যুবরণ করেন।

টিকাঃ
৩৯২. যাহাবী, ১৮/১৯০; মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইনান, ১/২৯-৩০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px