📄 আবুল হাযমের পররাষ্ট্রনীতি
আবুল হাযম বিন জাহওয়ারের পররাষ্ট্রনীতি ছিল শান্তি ও সহাবস্থানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তিনি প্রতিবেশী ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। যখনই কোনো দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বিবাদ দেখা দিত, তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসতেন। তাঁর দূরদর্শিতার কারণে কর্ডোভা রাষ্ট্র যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি থেকে মুক্ত ছিল। তিনি বড় রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব-প্রতিপত্তি স্বীকার করেও নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতেন।
📄 সেভিলে হিশাম আলমুআইয়াদ বিল্লাহর আত্মপ্রকাশের দাবির ক্ষেত্রে আবুল হাযমের অবস্থান
৪২৬ হিজরীতে সেভিলের প্রশাসক কাযী ইবনে আব্বাদ যখন দাবি করলেন যে মৃত খলীফা হিশাম আলমুআইয়াদ জীবিত আছেন এবং তিনি সেভিলে আশ্রয় নিয়েছেন, তখন আবুল হাযম বিন জাহওয়ার বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখেন। তিনি সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেভিলে দূত পাঠান। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ইবনে আব্বাদের দাবি মিথ্যা। তবে কর্ডোভার সাধারণ জনগণ এই সংবাদে উত্তেজিত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আবুল হাযম সাময়িকভাবে হিশামের নামে বাইআত গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে যখন ইবনে আব্বাদ খলীফার নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইলেন, তখন আবুল হাযম প্রকাশ্যে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিজের দায়মুক্তি ঘোষণা করেন।
টিকাঃ
৪৬. ইবনুল খতীব, আ’মালুল আ’লাম, পৃ: ১৫৩।
📄 বহিঃরাষ্ট্রসমূহের দ্বন্দ্ব নিরসন এবং শান্তির আহ্বান
আবুল হাযমের অন্যতম গুণ ছিল বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে শান্তি স্থাপন করা। সেভিলের মু’তাদিদ বিন আব্বাদ এবং বাদালইউসের মুযাফফার বিন আফতাসের মধ্যে যখন যুদ্ধ বেঁধে যায় এবং তা মুসলিম আন্দালুসের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন আবুল হাযম নিশ্চুপ বসে থাকেননি। তিনি উভয় পক্ষের কাছে শান্তির বাণী নিয়ে দূত প্রেরণ করেন এবং তাদেরকে রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। তাঁর এই মধ্যস্থতা বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সহায়তা করেছিল।
টিকাঃ
৪৮. ইবনে বাসসাম, আয-যাখীরা, ৩/৩৩৬-৩৩৪।
📄 উযীর আবুল হাযম ইবনে জাহওয়ারের মৃত্যু
দীর্ঘদিন সফলভাবে কর্ডোভা শাসনের পর ৪৩৫ হিজরীর সফর মাসে (১০৪৪ খৃষ্টাব্দে) আবুল হাযম বিন জাহওয়ার ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে কর্ডোভায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মৃত্যুর পর কর্ডোভাবাসী সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর পুত্র আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মাদ বিন জাহওয়ারকে তাদের নতুন প্রশাসক হিসেবে নির্বাচন করে।
টিকাঃ
৪৯. ইবনুল আব্বার, ৩/৯৭; ইবনুল খতীব, আ’মালুল আ’লাম, পৃ: ১৫৪-১৫৫।