📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আবুল হাযম বিন জাহওয়ারের শাসনামল

📄 আবুল হাযম বিন জাহওয়ারের শাসনামল


কর্ডোভা প্রশাসক নির্বাচিত হওয়ার পর আবুল হাযম যে রীতি অবলম্বন করেন, তা তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দেয়। তিনি কর্ডোভা রাষ্ট্রের সীমানা উত্তরে সিয়েরা মোরেনা পর্বতমালা থেকে দক্ষিণে গ্রানাডার সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত রাখেন। প্রশাসন পরিচালনায় তিনি একক ক্ষমতা নিজের হাতে না রেখে সাবেক উযীর ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি ‘মজলিসে শুরা’ বা মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। এই পরিষদের অনুমোদন ব্যতীত তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নিতেন না। তিনি নিজেকে ‘সুলতান’ বা ‘রাজা’ না বলে ‘পরিষদ পরিচালক’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তিনি রাজপ্রাসাদে থাকতেন না এবং সরকারি কোষাগার নিজের অধীনে না রেখে বিশ্বস্ত দায়িত্বশীলদের হাতে অর্পণ করেছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ ছিলেন এবং জুমার নামাজে সাধারণ মানুষের সাথে জামায়াতে শরিক হতেন।

টিকাঃ
৫৮. হুমায়রী, ১/৪৮; ইবনে আযারী, ১/১৭৬; ড. মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইনান, ৫/২২-২৩।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আবুল হাযমের স্বরাষ্ট্রনীতি

📄 আবুল হাযমের স্বরাষ্ট্রনীতি


আবুল হাযম যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন কর্ডোভার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক ছিল। তিনি প্রথমেই আইন-শৃঙ্খলা জোরদার করেন এবং অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করেন। অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য তিনি বিলাসিতা ও অপচয় বন্ধ করে দেন। ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে তিনি বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করেন, যা দিয়ে তারা ব্যবসায় বিনিয়োগ করত। তাঁর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে কর্ডোভায় খুব দ্রুত শান্তি ও সচ্ছলতা ফিরে আসে। বিচারব্যবস্থার সংস্কারের ফলে মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত হয় এবং কর্ডোভা একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। ঐতিহাসিক ইবনে হাইয়ান তাঁর এই সাফল্যের প্রশংসা করে একে একটি ‘ঐতিহাসিক বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

টিকাঃ
৬১. হুমায়রী, ১/২৯; ইবনে বাসসাম, ১/৪০৫-৪০৬; ইবনুল আব্বার, ১/৩-৬।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আবুল হাযমের পররাষ্ট্রনীতি

📄 আবুল হাযমের পররাষ্ট্রনীতি


আবুল হাযম বিন জাহওয়ারের পররাষ্ট্রনীতি ছিল শান্তি ও সহাবস্থানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তিনি প্রতিবেশী ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। যখনই কোনো দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বিবাদ দেখা দিত, তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসতেন। তাঁর দূরদর্শিতার কারণে কর্ডোভা রাষ্ট্র যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি থেকে মুক্ত ছিল। তিনি বড় রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব-প্রতিপত্তি স্বীকার করেও নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতেন।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 সেভিলে হিশাম আলমুআইয়াদ বিল্লাহর আত্মপ্রকাশের দাবির ক্ষেত্রে আবুল হাযমের অবস্থান

📄 সেভিলে হিশাম আলমুআইয়াদ বিল্লাহর আত্মপ্রকাশের দাবির ক্ষেত্রে আবুল হাযমের অবস্থান


৪২৬ হিজরীতে সেভিলের প্রশাসক কাযী ইবনে আব্বাদ যখন দাবি করলেন যে মৃত খলীফা হিশাম আলমুআইয়াদ জীবিত আছেন এবং তিনি সেভিলে আশ্রয় নিয়েছেন, তখন আবুল হাযম বিন জাহওয়ার বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখেন। তিনি সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেভিলে দূত পাঠান। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ইবনে আব্বাদের দাবি মিথ্যা। তবে কর্ডোভার সাধারণ জনগণ এই সংবাদে উত্তেজিত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আবুল হাযম সাময়িকভাবে হিশামের নামে বাইআত গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে যখন ইবনে আব্বাদ খলীফার নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইলেন, তখন আবুল হাযম প্রকাশ্যে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিজের দায়মুক্তি ঘোষণা করেন।

টিকাঃ
৪৬. ইবনুল খতীব, আ’মালুল আ’লাম, পৃ: ১৫৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px