📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 বিভক্ত রাষ্ট্র-শাসকদের ইতিহাস

📄 বিভক্ত রাষ্ট্র-শাসকদের ইতিহাস


মুসলিম আন্দালুস এ সময় বাইশটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়েছিল। এই বিভক্তি কেড়ে নিয়েছিল তাদের শক্তির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ‘একতা’। এই আমলে আন্দালুস মৌলিকভাবে সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। নিচে তার বিবরণ উল্লেখ করা হলো:
১. বনু আব্বাদ: এরা আরব গোত্র বনু লাখম-এর প্রতি সম্পর্কিত। বনু আব্বাদ সেভিল অঞ্চলে শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল।
২. বনু যীরী: এরা বার্বার গোত্র। গ্রানাডায় ছিল এদের শাসনক্ষমতা।
৩. বনু জাহওয়ার: কর্ডোভা অঞ্চলের শাসনব্যবস্থা তারা নিয়ন্ত্রণ করেছিল।
৪. বনু আফতাস: এরাও বার্বার গোত্র। আন্দালুসের পশ্চিম অঞ্চলে এরা ‘বাদালইউস (Badajoz) রাষ্ট্র’ নামে স্বতন্ত্র প্রশাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল।
৫. বনু যিন্নুন: এরাও বার্বার গোত্র। টলেডো ও উত্তর আন্দালুসের এলাকাগুলোতে বনু যিন্নুন কর্তৃত্ব স্থাপন করেছিল।
৬. বনু আমির: এরা সাবেক ক্ষমতাধর হাজিব আলমানসুরের বংশধর। ইয়েমেনি আরব গোত্র আমিরী বংশোদ্ভূত বনু আমির রাষ্ট্র কায়েম করেছিল আন্দালুসের পূর্বাঞ্চলে; তাদের রাজধানী ছিল ভ্যালেন্সিয়া।
৭. বনু হুদ: এরা দখল করেছিল জারাগোসা, যা উত্তর-পূর্ব আন্দালুসে অবস্থিত।

টিকাঃ
৭১৯. বাদালইউস : কর্ডোভার পশ্চিমে আনাস নদীর তীরে অবস্থিত একটি বৃহৎ নগরী।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 দুই. সেভিলে বনু আব্বাদদের শাসনামল

📄 দুই. সেভিলে বনু আব্বাদদের শাসনামল


বিভক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শক্তি ও মর্যাদার বিচারে সেভিল রাষ্ট্র ছিল সবার শীর্ষে। বনু আব্বাদের সুযোগ্য নেতৃত্বে সেভিল উত্তরোত্তর উন্নতি লাভ করে এবং আন্দালুসের রাজনীতিতে প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। তারা শুধুমাত্র সামরিক দিকেই শক্তিশালী ছিল না, বরং সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চাতেও সেভিল রাজদরবার ছিল অনন্য।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 পাঁচ. জারাগোজায় বনু হুদের রাজত্ব

📄 পাঁচ. জারাগোজায় বনু হুদের রাজত্ব


জারাগোসা ছিল আন্দালুসের ‘উচ্চ সীমান্ত অঞ্চল’ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটি। এই রাষ্ট্রটি বনু হুদ নামক আরব গোত্রের মাধ্যমে শাসিত হতো।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 ছয়. মুসলিম আন্দালুসের অন্যান্য বিভক্ত রাষ্ট্র

📄 ছয়. মুসলিম আন্দালুসের অন্যান্য বিভক্ত রাষ্ট্র


বিভক্ত রাষ্ট্রসমূহের যুগে যে কয়েকটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের কথা আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলি ছাড়াও আন্দালুসে আরও অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন প্রশাসনের উদ্ভব ঘটেছিল। মূলত বিভিন্ন শহরে প্রভাবশালী গোত্রগুলো কর্ডোভার নিয়ন্ত্রণ ছিন্ন করে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। উল্লেখযোগ্য কিছু রাজবংশ হলো: গ্রানাডার বনু যীরী, মুরসিয়ার বনু তাহির, কারমোনার বনু বিরযাল, রুন্দার বনু ইয়াফরাান এবং মালাগার বনু হামুদ। এসকল রাষ্ট্রের শাসকরাও নিজ নিজ দরবারে কবি ও আলেমদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন।

ইবনুল খতীব এসব শাসকের অবস্থা বর্ণনা করে লিখেছেন যে, এঁদের কারোই খেলাফতের বৈধতা ছিল না, কেবল ক্ষমতার মোহে তাঁরা বিভক্তি সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই বড় বড় রাজকীয় উপাধি (যেমন: মু'তামিদ, মুতওয়াক্কিল, মুসতাঈন) গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাঁদের শক্তি ছিল নগণ্য। কবিরা তাঁদের প্রশংসা করলেও তাঁরা ছিলেন অন্যদের করুণার পাত্র।

টিকাঃ
১. ইবনুল খতীব, আ’মালু আ’লাম, পৃ: ১৪৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px