📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 কর্ডোভা মসজিদ

📄 কর্ডোভা মসজিদ


কর্ডোভা কেন্দ্রীয় মসজিদ আন্দালুসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। স্প্যানিশ ভাষায় একে 'মেছকিতা' বলা হয়। এটি ছিল আন্দালুসের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। ১৭৮ হিজরীতে (৭৮৫ খৃষ্টাব্দে) আবদুর রহমান আদদাখিল এর নির্মাণকাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে হিশাম ও অন্যান্য খলীফাগণ এর আয়তন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন।

মসজিদটি নির্মাণ-স্থায়িত্ব, কাঠামো-সৌন্দর্য ও স্থাপত্য-কুশলতার দিক থেকে অনন্য ছিল। এর ছাদের স্তম্ভ সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার। পুরো মসজিদে আলো জ্বালানোর জন্য ১২০টি বড় বাতিদান ছিল। মসজিদের মিম্বরটি আবলুস ও চন্দন কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, যা তৈরি করতে ছয়জন দক্ষ কারিগরের সাত বছর সময় লেগেছিল। মেহরাবের কারুকার্য ছিল অসাধারণ, যা কন্সট্যান্টিনোপলের সম্রাট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। মসজিদে একটি অতি মূল্যবান ও বিশাল আকারের কুরআন শরীফ সংরক্ষিত ছিল, যা বহন করতে দুজন মানুষের প্রয়োজন হতো। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি খৃষ্টানদের একটি ক্যাথেড্রাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে এর মিনার ও দেয়াল আজও ইসলামী ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।

টিকাঃ
৫১৯. এর আয়তন ছিল প্রায় ২১,২০০ বর্গমিটার।
৫২০. একে বর্তমানে ক্যাথেড্রাল অব কর্ডোভা বলা হয়।
৫২১. এর দৈর্ঘ্য ছিল ১৮০ 'যা' বা হাত।
৫২৩. রাহাবী বিরা-এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় তিন ফুট।
৫২৪. হিমায়রী, আর-রাওজাতুল মিতর, ১/৫৬৫-৫৬৭।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়

📄 কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়


কর্ডোভা মসজিদ শুধু ইবাদতের জন্য ছিল না, এটি ছিল সমকালীন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আরবী জ্ঞান-বিজ্ঞান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এখানে ফিকহ, হাদীস, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও দর্শনসহ সকল শাস্ত্রের পাঠদান করা হতো। নামকরা অধ্যাপকগণ এখানে শিক্ষকতা করতেন এবং মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্ররা এখানে শিক্ষা নিতে আসত। ছাত্রদের জন্য পৃথক ভাতা ও বৃত্তির ব্যবস্থা ছিল। এখান থেকেই বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী যাহরাবী, দার্শনিক ইবনে বাজা ও ইবনে রুশদসহ আরও অনেক জগতবিখ্যাত মনীষী বের হয়েছিলেন।

টিকাঃ
৪২৯. মুস্তামাদ আলবাদাওয়ী, আলওয়াঝুল ওয়াঝিফ লি-ইসসলাম।

ফন্ট সাইজ
15px
17px