📄 অযোগ্য ব্যক্তির কাছে দায়িত্ব অর্পণ
বিলাসিতা ও অপব্যয়ের পাশাপাশি আমীরিয়া সালতানাত ও উমাইয়া খেলাফতের পতনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকারণ ছিল অযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে দায়িত্ব অর্পণ। এই কার্যকারণটি সুষ্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন হাকাম বিন আবদুর রহমান আননাসির তাঁর পরবর্তী খলীফা হিসেবে নিজ পুত্র হিশামকে নির্বাচন করেন; অথচ হিশাম তখন নিতান্তই বালক, যাঁর বয়স ছিল মাত্র পনেরো বছর। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হাকাম যেন উমাইয়া খেলাফতের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। কারণ এর ফলে ক্ষমতা এমন কিছু ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত হয়ে পড়েছিল, যারা যোগ্য ছিল না।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, 'যখন আমানত বিনষ্ট হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।' সাহাবী প্রশ্ন করেছিলেন, আমানত কীভাবে বিনষ্ট হবে? নবীজী উত্তর দিলেন, 'যখন কোনো দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তিকে প্রদান করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।' রাষ্ট্র বা উম্মাহর কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ যখন অযোগ্য ব্যক্তি গ্রহণ করে, তখন অনিবার্যভাবে পতন ঘনিয়ে আসে। যখন খলীফার মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ এই অনাচারের শিকার হয়, তখন অবস্থা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
উমাইয়া খেলাফতের পতনের তৃতীয় কারণ হলো, আমীরিয়া সালতানাতের উদ্ভবকাল থেকেই আন্দালুস ভূখণ্ডে ক্ষমতার দলাদলি, অর্থের অপব্যবহার ও দুর্নীতির প্রাদুর্ভাব ঘটে। আমীরিয়া সালতানাতের দীর্ঘ তেত্রিশ বছর ধরে চলা এই অস্থিতিশীল অবস্থা আন্দালুসীয়দের ইসলামী তেজস্বিতা ম্লান করে দিয়েছিল এবং তারা পরাধীনতা ও বিশৃঙ্খলার শিকার হয়েছিল।
টিকাঃ
৭১০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪৯৬।