📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 দৃশ্যপটে ওয়াযিহ ও পদচ্যুত খলীফা হিশাম বিন হাকাম

📄 দৃশ্যপটে ওয়াযিহ ও পদচ্যুত খলীফা হিশাম বিন হাকাম


নতুন করে ক্ষমতা দখল করার পর মাহদী পুনরায় বারবারদের পেছনে লাগলেন এবং খৃষ্টান শক্তির সহায়তায় তাদের হত্যা ও সম্পত্তি হরণ করতে লাগলেন। কর্ডোভাবাসী এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাহদী প্রশাসনের হাজিব ওয়াযিহের শরণাপন্ন হলো এবং মাহদীকে হত্যা করার জন্য তাকে প্ররোচিত করতে লাগল। কিছুদিন পরই ওয়াযিহ মাহদীর বিরুদ্ধে চাল চাললেন এবং তাঁকে হত্যা করে নিজেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে লাগলেন। ওয়াযিহ জানতেন যে, জনগণ বনু উমাইয়াদের কাউকে খলীফা আসনে দেখতে অভ্যস্ত। তাই তিনি পদচ্যুত খলীফা হিশাম বিন হাকামকে পুনরায় খলীফা হিসেবে সমাসীন করলেন। হিশাম বিন হাকাম নতুন করে খেলাফতের পদে বসলেন; কিন্তু এবারও তাঁর হাতে প্রকৃত কোনো ক্ষমতা ছিল না। ক্ষমতার প্রকৃত বাগডোর রয়ে গেল 'হাজিব' ওয়াযিহের হাতে।

টিকাঃ
৩৩৩. ইবনে আযারী, ৫/৬৭; ইবনুল খতীব, পৃ: ১১৫; ইবনে খালদুন, ৪/১৫ ও মাক্কারী, ১/১৬৪।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 সুলাইমান বিন হাকামের গৃহীত কিছু পদক্ষেপ, ইতিহাস যার স্মরণে আজও ব্যথিত ও বিক্ষুব্ধ

📄 সুলাইমান বিন হাকামের গৃহীত কিছু পদক্ষেপ, ইতিহাস যার স্মরণে আজও ব্যথিত ও বিক্ষুব্ধ


সুলাইমান বিন হাকাম পালিয়ে গিয়ে পুনরায় ক্ষমতা দখলের জন্য চক্রান্ত করতে লাগলেন। তিনি ক্যাস্টেলার খৃষ্টান শাসকের সাহায্য প্রার্থনা করলেন। ক্যাস্টেলা-গোষ্ঠীকে নিজেদের পক্ষে টানতে হিশাম-ওয়াযিহ প্রশাসন ক্যাস্টেলার হাতে এমন দু'শটি দুর্গ ছেড়ে দিল, যা ইতঃপূর্বে খলীফা হাকাম ও হাজিব আলমানসুর জয় করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তটি ছিল মুসলিম আন্দালুসের জন্য বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়। ৪০২ হিজরীতে সুলাইমান বিন হাকাম বার্বারদের সঙ্গে নিয়ে কর্ডোভায় হামলা করলেন এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালালেন। এরপর তিনি পুনরায় শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেন। খলীফা হিশাম বিন হাকাম পালিয়ে গেলেন কিংবা নিহত হলেন। কর্ডোভা যদিও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থা তখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল।

টিকাঃ
৩৩৪. ইবনে আযারী, ৫/৬৭; ইবনুল খতীব, পৃ: ১১৫ ও মাক্কারী, ১/১৬৪।
৩৩৫. দেখুন : ইবন আযারী, ৫/৬৯; ইবনুল খতীব, পৃ: ১১৮ ও ইবনে খালদুন, ৪/১৫।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 সুলাইমানের বিরুদ্ধে বার্বারদের বিদ্রোহ : নতুন সংঘাত

📄 সুলাইমানের বিরুদ্ধে বার্বারদের বিদ্রোহ : নতুন সংঘাত


৪০৩ হিজরীতে সুলাইমান বিন হাকাম বার্বারদের সহায়তায় শাসনভার গ্রহণ করলেন। কিন্তু এক বছর পরই তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হলো। সিউটা নগরীর প্রশাসক আলী বিন হামুদ বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। তিনি দাবি করলেন যে, সাবেক খলীফা হিশাম বিন হাকাম তাঁকে খেলাফতের দায়িত্ব পালনের ফরমান দিয়েছেন। ৪০৭ হিজরীতে আলী বিন হামুদ ও সুলাইমানের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হলো। যুদ্ধে আলী বিন হামুদ জয়লাভ করলেন এবং কর্ডোভার সিংহাসন দখল করলেন। আলী বিন হামুদ ক্ষমতায় বসেই সুলাইমান, তাঁর ভাই এবং তাঁদের বৃদ্ধ পিতা হাকামকে হত্যা করলেন। এরপর তিনি 'নাসির' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। এর মাধ্যমেই উমাইয়া সালতানাতের পরিবর্তে আন্দালুসে 'হামুদী' রাজবংশের শাসনের সূচনা হলো। আলী তাঁর ভাই কাসিম বিন হামুদকে সেভিলের প্রশাসক নিযুক্ত করেন।

টিকাঃ
১. ইবনে খালদুন, আল-মুকাদ্দিমা, ৭/১৬১।
২. ইবনে খালদুন, ১/২১১।
৩. ইবনে খালদুন, ৬/৩৬২।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 খলীফানির্ভর শাসনযুগের সমাপ্তি এবং শুরা-পদ্ধতির সূচনা

📄 খলীফানির্ভর শাসনযুগের সমাপ্তি এবং শুরা-পদ্ধতির সূচনা


আন্দালুসে বিদ্যমান এই চরম বিশৃঙ্খলা ও গৃহযুদ্ধের অবসানকল্পে ৪২২ হিজরীতে (১০৩১ খৃষ্টাব্দে) কর্ডোভার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হলেন। তাঁরা এ বিষয়ে একমত হলেন যে, বর্তমানে বনূ উমাইয়ার মধ্যে এমন কোনো যোগ্য প্রতিনিধি নেই যিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কর্ডোভার প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব আবুল হাযম বিন জাহওয়ার পরিস্থিতির হাল ধরলেন। তিনি একক ক্ষমতার পরিবর্তে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি 'শুরা' বা পরিষদ গঠন করলেন। এর মাধ্যমেই আন্দালুসে খলীফানির্ভর শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ কেবল কর্ডোভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে আন্দালুস তখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাইশটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের ছিল নিজস্ব সেনাবাহিনী ও প্রশাসন। মুসলমানদের এই বিভক্তি তাদের শক্তির মূল উপাদান 'একতা'কে ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং তাঁদেরকে বড় ধরনের পতনের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।

টিকাঃ
৬. ইবনে খালদুন, আল-মুকাদ্দিমা, ১/২১৫।
৭. ইবনে খালদুন, ৬/৩৬৬।
৮. ইবনে খালদুন, ১/২১৫।
১০. ইবনে খালদুন, ৬/৩৬৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px