📄 ইবনে জুলজুল রহ.
তাঁর নাম আবু দাউদ সুলাইমান বিন হাসসান। প্রসিদ্ধ ছিলেন ইবনে জুলজুল নামে। জন্ম ৩৩২ হিজরী মোতাবেক ৯৪৩ খৃষ্টাব্দে, মৃত্যু ৩৭৭ হিজরীর (৯৮৭ খৃষ্টাব্দে) পরে। তিনি ছিলেন দক্ষ চিকিৎসক এবং ভেষজ ঔষধ বিষয়ে পারদর্শী। চিকিৎসাবিদ্যার প্রাচীনতম গ্রন্থ ডিয়োস্কোরিডাস (Dioscorides)-এর গ্রন্থ সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। ভেষজ ঔষধ ও প্রকৃতি বিজ্ঞানের এ বইটি উমাইয়া আমলে বাগদাদে আরবী অনুবাদিত হয়েছিল। কিন্তু অনুবাদের সময় গ্রিক ভাষায় লেখা মূল গ্রন্থটির অনেক শব্দের মর্মার্থ দুর্বোধ্য থাকায় আরবী না করে গ্রিক ভাষায় রেখে দেওয়া হয়েছিল। এ গ্রন্থ সংক্রান্ত ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে ইবনে জুলজুল বলেন,
চিকিৎসকগণ এ গ্রন্থটির কেবল আরবী অংশ থেকে উপকৃত হতেন। আন্দালুসে যখন আবদুর রহমান আননাসিরের শাসনকাল চলছিল, তখন তৎকালীন কন্সট্যান্টিনোপল সাম্রাজ্যের অধিপতি রোমানুস (Romanus II) সমতলীনে আন্দালুসের খলীফা আননাসিরের সঙ্গে পত্র যোগাযোগ করেন এবং বিভিন্ন মূল্যবান উপহারসামগ্রী প্রেরণ করেন। এসব উপহারের মধ্যে (ভেষজশাস্ত্রে ব্যবহৃত) বিভিন্ন উদ্ভিদের বিষয়বলি সম্বলিত ডিয়োস্কোরিডাস গ্রন্থটির একটি অনুলিপিও ছিল। গ্রন্থটি গ্রিক ভাষায় লিখিত ছিল। উপহারসামগ্রীর মধ্যে আরও ছিল (বিখ্যাত গ্রিক ঐতিহাসিক) হেরোডোটাস (Herodotus)-এর লিখিত গ্রন্থ, যা প্রাচীন জাতি ও রাষ্ট্রসমূহ সম্পর্কে ল্যাটিন ভাষায় রচিত এক আশ্চর্য ইতিহাসগ্রন্থ। আর আন্দালুসে ল্যাটিন ভাষা জানে, এমন লোক কম ছিল। এরপর আন্দালুসের খলীফা কন্সট্যান্টিনোপল অধিপতি রোমানুসের সঙ্গে পত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন এবং গ্রিক ও ল্যাটিন উভয় ভাষায় দক্ষ একজন বিদ্বান ব্যক্তিকে পাঠাতে অনুরোধ করেন। যিনি আন্দালুসে এসে এখানকার চিকিৎসকদের গ্রিক ভাষা শেখাবেন এবং পরবর্তী সময়ে তারা গ্রিক ভাষায় লিখিত চিকিৎসাগ্রন্থটির অনুবাদ করবে। রোমানুস 'সাকুলা' নামক জনৈক পণ্ডিতকে এ উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। ৩৪৫ হিজরীতে সাকুলা কর্ডোভায় পৌঁছলেন। তিনি ডিয়োস্কোরিডাস চিকিৎসাগুহের দুর্বোধ্য অংশগুলোর মর্মোদ্ধার করেন। আন্দালুসের তখন অনেক সুদক্ষ ও প্রাজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় গ্রন্থটির আরবী রূপ পূর্ণতা লাভ করে। আমি পণ্ডিত সাকুলা ও সেসব চিকিৎসকদের দেখেছি এবং তাঁদের সংস্পর্শ থেকে অনেককিছু অর্জন করেছি। পণ্ডিত সাকুলা মুজাফফারের শাসনামলের শুরুর দিকে মারা যান। ইবনে জুলজুলের লেখা গ্রন্থাদির মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল তারীখুল আতিব্বা ওয়াল ফালাসিফা (তথা চিকিৎসক ও দার্শনিকদের জীবনকথা)। এ ছাড়াও তিনি ডিয়োস্কোরিডাস ঐতিহাসিক চিকিৎসাগুহের ওপর কাজ করেছেন এবং তাতে এমন কিছু তথ্য সংযোজন করেছেন, যা স্বয়ং ডিয়োস্কোরিডাসও জানতেন না।
টিকাঃ
৩০৬. ড. রাগিব সারজানি, তারীখুল ইসলাম, ২৭/২৯১।
📄 আন্দালুসে গণিতশাস্ত্রের পথিকৃৎ মাসলামা আলমাশরীইতি রহ.
বিখ্যাত দার্শনিক, গণিতজ্ঞ, রসায়নবিদ ও জ্যোতির্বিদ আল মাজরীতীর পুরো নাম আবুল কাসিম মাসলামা বিন আহমদ বিন কাসিম বিন আব্দুল্লাহ আল মাজরীতী। জন্ম ৩৩৮ হিজরীতে (৯৫৯ খৃষ্টাব্দে) মাজরীত (বর্তমান স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ) শহরে। তিনি আন্দালুসের গণিত-শাস্ত্রজ্ঞদের ইমাম ছিলেন এবং জ্যোতির্বিদ্যা ও তারকা-গণিতবিদ্যাতে সমকালীন আন্দালুসের সবচেয়ে সেরা আলেম ছিলেন। তিনি অন্যান্য আরও অনেক শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন। ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন তাঁর দুটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। একটির নাম 'রূহুল হাকীম' (روح الحكيم), যা আন্দালুসের রসায়নবিদদের অন্যতম সেরা গাইড হিসেবে বিবেচিত ছিল; অপর গ্রন্থটির নাম 'গায়াতুল হাকীম' (غاية الحكيم), যা অত্যন্ত বিস্তৃত ও সুবিশাল একটি জ্ঞানকোষ। গ্রহর তত্ত্ব ও ঔষধসমূহ বিষয়ক এ গ্রন্থটি ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। উক্ত গ্রন্থটিতে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস, নবতী, কিবতী, সুরিয়ানী ও ভারতীয়সহ প্রাচীনকালের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক গবেষণা ও আবিষ্কারের ইতিহাস এবং সভ্যতার উন্নতি ও উত্থানে এসব জাতিগোষ্ঠীর উদ্ভাবনী সাধনা ও প্রচেষ্টার ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়াও গ্রন্থটিতে গণিতশাস্ত্র, রসায়নশাস্ত্র, বলবিদ্যা (Mechanics), প্রাকৃতিক ইতিহাস (Natural history), কৃষি-ইতিহাস ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের মনোজ্ঞ আলোচনা রয়েছে। তিনি জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র প্রস্তুত করেছিলেন, যা সম্পর্কে সমকালীনদের উক্তি হল, মাসলামা (আলমাজরীতী) ও ইবনুস সামাহ-এর মতো উন্নত গবেষণাপত্র আর কখনো রচিত হয়নি। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু রচনা হল:
• রওজাতুল হাসায়েব
• সিয়াকুল আদাদ
• ইমতিয়াজু তাহলীলুল কাওয়াকিব
• কিতাবুল আসহার
• ইক্রা ইবনুল কুনু বি-মা ইয়া’তূবু
গ্রন্থের লেখক এডওয়ার্ড ড্যানডিক (Edward Cornelius Van Dyck) লিখেছেন, হাকীম মাজরীতী আলকুরুতুবীর অত্যন্ত তথ্যবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সমৃদ্ধ আরেকটি সংকলন পাওয়া যায় ‘আরাসাইলুল জামিয়া’ (الرسائل الجامعة) নামে। গ্রন্থটি ‘রাসাইলু ইখওয়ানিস সাফা’ (رسائل إخوان الصفا) নামেও খ্যাত। মাজরীতীর এ গ্রন্থটি যদিও মূল 'রাসাইলু ইখওয়ানিস সাফা'-এর অনুলিপিতে রচিত; তবে তা এখনও ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়নি এবং মূল 'রাসাইলু ইখওয়ানিস সাফা'-এর মতো প্রসিদ্ধিও লাভ করতে পারেনি। বিখ্যাত গ্রন্থ প্রণেতা খায়রুদ্দীন যিরিকলী মন্তব্য করেছেন, কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন যে, তিনি রাসাইলু ইখওয়ানিস সাফা-এরও সংকলক; কিন্তু তা সুপ্রমাণিত নয়। আল্লামা মাসলামা মাজরীতী ৪৪৮ হিজরী মোতাবেক ১০৫৫ খৃষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
টিকাঃ
৪২৭. ফিবরুনী, আলহাজার, ৭/২২৯।
৪০৮. সুহাদাদ আব্দিল কাসব, মাহবুবাউ আলফাসিফাল ইসলাম, ৫/১১১।
৪০৯. খাধরী, তারীখুল ইসলাম, ২/৯৬৭।
৪০২. এডওয়ার্ড ড্যানডিক, কিতাবুন ফি ফুরূয়িল মালেকিয়্যাহ, পৃ: ১৮৪।
৪০৩. যিরিকলী, আলআলাম, ৭/২৬১।
📄 ইবনুল ফাররাধী রহ.
তার পুরো নাম আবুল ওয়ালিদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন নাসর আলআন্দালুসী। জন্ম ৪০৩ হিজরী মোতাবেক ১০১০ খৃষ্টাব্দে। প্রতিভাবান এ মহান হাকিম ও ইমাম 'ইবনুল ফারাদী' নামে খ্যাত ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে হাদীসশাস্ত্রে পণ্ডিত, ঐতিহাসিক ও সুসাহিত্যিক। কর্ডোভায় ৪৬২ হিজরী মোতাবেক ১০৬৯ খৃষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যু। আন্দালুসের কবি-সাহিত্যিকদের জীবনচরিত সম্পর্কে তিনি একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। এ ছাড়াও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনা হল, আলমু'তালাফ ওয়াল মুখতুশাফ (المشتهف) ও মুর্দাফাতুল সিসবাহ। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম হলেন মালেকী মাযহাবের বিখ্যাত ইমাম আবু ওমর ইবনে আবদুল বার। ইবনে আবদুল বার তাঁর এই মহান উস্তাদের সম্পর্কে বলেছেন, তিনি ছিলেন ফকীহ, হাদীসশাস্ত্রে পন্ডিত, উস্তাদদের জীবনীকার ও রিজালশাস্ত্রের সকল অংশে যোগ্য আলেম। আমি আমার অধিকাংশ শায়েখের কাছে তাঁর সঙ্গে ইলম অর্জন করেছি। তিনি উন্নত স্বভাবসম্পন্ন, সদাচারী ব্যক্তি ছিলেন। আন্দালুস ইতিহাসে যাঁকে ইমাম হিসেবে গণ্য করা হয়, সেই ইবনে হাইয়্যান তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, রেওয়ায়েতের প্রামাণ্যতা, হাদীস সংগ্রহ, ‘রিজাল’ সম্পর্কে বুৎপত্তি এবং বিভিন্ন শাস্ত্র ও সাহিত্যে অপূর্ব দক্ষতা ইত্যাদি বিবেচনায় কর্ডোভায় তাঁর পর্যায়ের কোনো আলেমের দেখা মেলেনি। অন্য সকল আলেমের চেয়ে প্রথম শ্রেণীতে তিনি অনেক অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি বিশুদ্ধ ভাষাভাষী ও সুন্দর হস্তাক্ষরের অধিকারী ছিলেন। ইবনুল ফারাদীর চমৎকার কিছু কবিতা রয়েছে।
টিকাঃ
৪৩০. খাধরী, তারীখুল ইসলাম, ১৭/১৭৭।
📄 বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক আবুল কাসিম যাহরাবী রহ.
এ মহান ব্যক্তিটির জীবনী আলোচনায় আমরা কিছুটা দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নেব। কারণ, আবুল কাসিম যাহরাবী (মৃ: ৪১৭ হি./১০১৬ খৃ.) নামের এই মহান ব্যক্তিটিকে কেবল আন্দালুসের নয়; পুরো ইসলামী ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের কাতারে গণ্য করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর রচিত গ্রন্থ 'আততাসরীফ লিমান আ’জাযা আ’নিত তালীফ' (التصريف لمن عجز عن التأليف)-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এত উঁচুতে যে, শুধু এই একটি গ্রন্থের কারণে তাঁকে শ্রেষ্ঠতম আরব মুসলিম শল্যবিদ এবং মধ্যযুগ ও ইউরোপীয় রেনেসাঁস যুগ থেকে শুরু করে সপ্তদশ শতক পর্যন্ত সময়ের শল্যচিকিৎসা-শাস্ত্রের পথিকৃৎ ও গুরু বলে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর ছিল অসাধারণ প্রতিভা; চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম পিত্তথলির পাথর অপসারণের ধারণা পেশ করেন। এছাড়াও তিনি প্রতিষেধকসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। ইউরোপ যাকে Abulcasis (আবুল কাসিম) নামে চেনে, সেই যাহরাবী-ই সর্বপ্রথম অপারেশনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন শল্য ছুরি, সার্জিকাল কাঁচি ইত্যাদি আবিষ্কার করেন। তিনি অপারেশনের বিভিন্ন নিয়ম ও মৌলিক সূত্র যেমন অপারেশন চলাকালে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ধমনী সংযোগ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। অপারেশনের সময় ক্ষতস্থানকে সেলাই করার বিশেষ সুতা বা তন্তুও তিনিই উদ্ভাবন করেন। এসব বিবেচনায় বলা যায়, যাহরাবী ছিলেন সেসব স্বনামধন্য মনীষীদের একজন, মানবজাতি যাঁদের সেবায় ধন্য হয়েছে।
আবুল কাসিম যাহরাবীর জন্ম মাদীনাতুয যাহরায়। এ শহরের প্রতি সম্মান জানাতেই তাঁকে যাহরাবী নামে ডাকা হয়। তিনি একজন প্রাজ্ঞ ও বিজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। ভেষজ ও রাসায়নিক উভয় ধরনের ঔষধ সম্বন্ধে তাঁর ব্যাপক জ্ঞান ছিল। সঠিক ও নির্ভুল চিকিৎসার জন্য তিনি সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর বিভিন্ন রচনা খ্যাতি লাভ করেছে। এর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হল আলকিতাবুল কাসীর, যা গ্রন্থকারের নামে-ই (আযযাহরাবী) সুপরিচিত। আরব বিশ্বের বিখ্যাত গ্রন্থ 'আততাসরীফ লিমান আ’জাযা আ’নিত তালীফ'। চিকিৎসাবিদ্যায় এ গ্রন্থটিকে একটি উচ্চমূল্যের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি যাহরাবীর সর্ববৃহৎ ও সবচে' প্রসিদ্ধ গ্রন্থ। যাহরাবী রোগীর আক্রান্ত অঙ্গের কাটাছেঁড়ার কাজ অন্যান্য চিকিৎসকদের মতো সাধারণ সেবকদের হাতে ছেড়ে দিতেন না; বরং তৎকালীন প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে নিজেই অস্ত্রোপচার-শাস্ত্র নিয়ে গবেষণা ও অনুশীলন করতেন। এভাবে চর্চা, গবেষণা ও অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি শল্যবিদ্যার দক্ষ থেকে সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান ও অস্ত্রোপচার-বিদ্যায় এমন অনন্য মর্যাদা অর্জন করেন যে, শল্যচিকিৎসা ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। অস্ত্রোপচার সম্পর্কিত তাঁর গবেষণামূলক সিদ্ধান্তসমূহ প্রাচীন গ্রন্থাদিতে আলোচিত পূর্বসূরি চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের গবেষণাসমূহের স্থলাভিষিক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। বস্তুত বিগত কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত শল্যচিকিৎসা-শাস্ত্রে যাহরাবীর আবিষ্কৃত যন্ত্রপাতি ও সূত্রসমূহই ছিল মূল অবলম্বন। তাঁর উদ্ভাবনী সিদ্ধান্তসমূহ চিকিৎসাবিদ্যায় যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। রোগীর সুস্থতার জন্য অপারেশনের এমন আধুনিকতম সব পদ্ধতি তিনি আবিষ্কার করেছেন, যা সমকালীন ও পরবর্তী যুগের চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বিস্ময়ে বিমুগ্ধ করে দিয়েছিল। তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতিই ছিল ইউরোপীয় শল্যচিকিৎসা সূচনার প্রাথমিক অবলম্বন।
নিজের আবিষ্কৃত এসব সরঞ্জামাদির (Surgical equipment) বিশদ বিবরণ, এগুলো তৈরি ও ব্যবহার করার পদ্ধতি তিনি তাঁর রচনাবলিতে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে গেছেন। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পাথুরি বের করার কাজে ব্যবহৃত সাঁড়াশি, বর্তমানকালে মহিলাদের বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষায় ব্যবহৃত যোনী আরশি (Vaginal speculum), প্রচলিত সিরিঞ্জ ও ইঞ্জেকশন, মলদ্বারে ব্যবহৃত বিশেষ পিচকারী, মুখের গহ্বর পরীক্ষার সময় জিহ্বা নামিয়ে রাখতে ব্যবহৃত বিশেষ চামচ (Spoon), টনসিলের গিলোটিন, দাঁত অপসারণের ছোট সাঁড়াশি (Forceps) ও চিমটি, হাড় কাটার সার্জারী করাত, বিভিন্ন ধরনের উচ্চমানের লৌহদণ্ড ও শল্য ছুরি এবং অন্যান্য বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামাদি। তাঁর এসব আবিষ্কারই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির মূল বীজ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং পরবর্তী কয়েক শতাব্দীর চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে এগুলোই আধুনিক সার্জিকাল সরঞ্জামাদিতে পরিণত হয়েছে।
ক্যাম্পবেল তাঁর ‘আত্তিব্বুল আরাবী’ (الطب العربي) গ্রন্থে লিখেছেন, সমকালীন যুগে আন্দালুসের শল্যচিকিৎসার খ্যাতি প্যারিস, লন্ডন বা এডিনবার্গের চেয়েও অনেক বেশি ছিল। বস্তুত এ কারণেই আলযাহরাবীকে শল্যচিকিৎসকগণ উপাধি প্রদান করেছিলেন “শল্যচিকিৎসক” আর ইউরোপীয় শল্যবিদদের উপাধি ছিল “শল্য-কৌশলকার”। হিজরী দশম শতাব্দী পর্যন্তও তাঁর প্রভাব ছিল প্রবল। যাহরাবী লিখিত গ্রন্থ ‘আততাসরীফ’ প্রকৃতপক্ষে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনবদ্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় সমৃদ্ধ একটি আকর গ্রন্থ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর চেয়ে সক্ষম এবং তত্ত্বীয় ও প্রায়োগিক (theoretical & practical) যুগপৎ আলোচনাপূর্ণ কোনো গ্রন্থ ইতঃপূর্বে রচিত হয়নি। একজন মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানীর রচিত এটি শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ বলে বিবেচনা করা হয়। সমালোচকদের অনেকে একে 'বিশ্বকোষ' (Encyclopedia) নামে, আবার অনেকে 'পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ' বলে অভিহিত করেছেন। কাজেই এতে বিস্ময়ের কিছু নেই যে, এ সুসমৃদ্ধ জ্ঞানকোষটি কীভাবে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত পাশ্চাত্যের শল্যচিকিৎসকদের কাছে মূল উৎস গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হল এবং কীভাবে সালেরনো (Salerno) ইউনিভার্সিটি ও মন্টপেলিয়ার (Montpellier) ইউনিভার্সিটির মতো ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুসন্ধানে আগ্রহীদের জন্য অমূল্য মৌলিক পাঠ্যগ্রন্থ হিসেবে গণ্য হল। এ ঐতিহাসিক বাস্তবতাও বিস্মৃত হওয়া উচিত হবে না যে, বেরেংগার ও তৎপূর্ববর্তী যুগে ইতালির ফ্রেঞ্চ শল্যচিকিৎসকগণ যে প্রভূত সুনাম অর্জন করেছিলেন, তারা যাহরাবীর গ্রন্থ আততাসরীফ-এর ওপর অনেকটাই নির্ভর করতেন। ফিজিওলজির (Physiology) বিখ্যাত মনীষী হ্যালার (Haller) বলেছেন, খ্রিস্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর পর থেকে যে সব শল্যচিকিৎসক আত্মপ্রকাশ করেছেন, তারা সকলে আবুল কাসিম রচিত এসব অনন্যসাধারণ উপক্রমগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন। যাহরাবী-ই সর্বপ্রথম শল্যচিকিৎসাকে বিশ্লেষণপূর্ণ শাস্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং তিনিই সর্বপ্রথম একে স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে তুলে ধরেন। শল্যচিকিৎসার নতুন নতুন ধারা উদ্ভাবন এবং নিবিড় নিয়মনীতি তৈরি করতেও তাঁরই ভূমিকা ছিল। সর্বপ্রথম মুখনালিতে দাঁত প্রতিস্থাপনের অপারেশনের ধারণা দেন এবং এর পদ্ধতি নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি আবিষ্কার করেন। শ্বাসনালী (Trachea) ছিদ্র করার জটিল অস্ত্রোপচারও তিনি করেছিলেন। ইবনে সীনা ও রাযীর ন্যায় তাঁর পূর্ববর্তী চিকিৎসকগণ এ ধরনের অস্ত্রোপচার করতে সাহস পাননি।
মূত্রথলির বাইরের ছিদ্র বন্ধ হয়ে গেলে সহজে প্রস্রাব পাস করার জন্য যাহরাবী অতি সূক্ষ্ম একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন। তিনি ফুসফুস ও অন্য যে কোনো গভীর ক্ষতস্থান থেকে সাফল্যের সাথে দূষিত রক্ত অপসারণ করতেও সফল হয়েছিলেন। এছাড়াও যাহরাবী-ই সর্বপ্রথম চিকিৎসক, যিনি অস্ত্রোপচার চলাকালে রক্তক্ষরণ (bleeding) বন্ধ করতে ধমনী সংযোগ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। পশ্চিমা চিকিৎসকদের কমপক্ষে দু’শ' বছর পূর্বে তিনি এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, অনেক পরে এসে ফরাসি শল্যচিকিৎসক আমব্রোয়াজ পারে (Ambroise Paré) ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে একে নিজের আবিষ্কার বলে দাবি করেন। যাহরাবীই সর্বপ্রথম ক্ষতগুলো সেলাই করার জন্য সার্জিকাল সুতা তৈরি করেন এবং বিশেষ করে অন্ত্র ও নাড়িভুঁড়ি সেলাইয়ের ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করেন। এ সুতা তিনি বিড়ালের অন্ত্র থেকে প্রস্তুত করেন। দুটি সূঁচ ও একটি সুতার মাধ্যমে দাগমুক্ত সেলাই পদ্ধতিও তিনি আবিষ্কার করেন। এছাড়াও তিনিই সর্বপ্রথম রোগীর শরীরের নিচের অংশের যে কোনো অস্ত্রোপচারের সময় প্রথমে নিতম্ব ও দু’ পা উপরে উঠিয়ে রাখার পদ্ধতি (Trendelenburg position) প্রয়োগ করেন। তাঁর এ আবিষ্কার ছিল জার্মান শল্যচিকিৎসক ফ্রেডরিক ট্রেন্ডেলেনবার্গের (Friedrich Trendelenburg) আগমনের প্রায় তিন শ’ বছর পূর্বে। এই মহান আবিষ্কারের কৃতিত্ব জার্মান চিকিৎসককে প্রদান করা যাহরাবীর প্রতি একটি ঐতিহাসিক অন্যায় ও সভ্যতাগত ছিনতাই ছাড়া আর কিছুই নয়। যাহরাবীর মুদ্রণ শিল্পের প্রথম প্রদর্শক হিসেবে গণ্য করা হয়। মুদ্রণ শিল্পের প্রথম পদক্ষেপ তিনি নিয়েছিলেন এবং আধুনিক মুদ্রণ শিল্পের জনক জার্মান নাগরিক জোহানেস গুটেনবার্গের (Johannes Gutenberg) কয়েক শ' বছর পূর্বেই এর ধারণা পেশ করেছিলেন। যাহরাবী তাঁর মুদ্রণ পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের কথা লিপিবদ্ধ করে গেছেন তাঁর অসাধারণ গ্রন্থ ‘আততাসরীফ’ -এর একটি অন্যতম প্রবন্ধে। উক্ত প্রবন্ধের তৃতীয় অধ্যায়ে চিকিৎসা ও ঔষধ বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন ট্যাবলেট তৈরির ফর্মুলা পেশ করেন, যাতে ঔষধের নামও অঙ্কিত থাকবে। তিনি উক্ত প্রবন্ধে এ ধরনের ট্যাবলেট তৈরির ছাঁচ প্রস্তুত করার জন্য আবলুস কাঠ বা হাতির দাঁতের তৈরি পাত ব্যবহারের ফর্মুলা বাতলে দিয়েছেন। পাতের মাঝ বরাবর লম্বালম্বি রেখা থাকবে এবং উক্ত অংশে ট্যাবলেটের অর্ধেক পুরুত্ব পরিমাণ ছিদ্র করা থাকবে। যে কোনো এক অংশের ছিদ্রে উদ্দিষ্ট ট্যাবলেটের নাম উল্টো করে অঙ্কিত থাকবে। উক্ত ছিদ্রে ঔষধ তৈরির কাঁচামাল ঢেলে যখন ট্যাবলেটটি তৈরি করা হবে, তখন তাতেও নামও অঙ্কিত হয়ে যাবে। তিনি এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন ঔষধের নকল ও প্রতারণা রোধ করতে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঔষধ প্রস্তুত শিল্পকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে।
আধুনিক ও বর্তমান কালের চিকিৎসকগণ যাওয়াবীর আবিষ্কৃত এ পদ্ধতিকে মুদ্রণশিল্প ও ঔষধের নামাঙ্কিত ট্যাবলেট তৈরির পূর্বসূরি ও আবিষ্কারক হওয়ার স্বীকৃতি প্রদান করেন। আজকের আধুনিক বিশ্বের কোনো আন্তর্জাতিক ঔষধ কোম্পানীই এ দুটি শিল্পের প্রয়োজন অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু যাওয়াবীর এই আবিষ্কারকে আড়াল করে অন্যদের নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে; যে বিষয়ে অনেকেই অবহিত নন। এছাড়াও যাওয়াবীর-ই প্রথম চিকিৎসাবিজ্ঞানী, যিনি শরীরের মূল শিরা ও পায়ের নলার ধমনী-ক্ষতির চিকিৎসার জন্য পায়ের নলা থেকে রক্ত অপসারণের ধারণা দেন। তিনি সফলভাবে এ অপসারণ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে প্রচলিত অস্ত্রোপচারের সঙ্গে এর যথেষ্ট মিল আছে। সামান্য কিছু সংস্কারসহ এ ধরনের অস্ত্রোপচার আমরা আজও দেখছি। দন্ত চিকিৎসা-শাস্ত্র ও রোগীদের অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও যাওয়াবীর অনেক নতুন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযোজন করেছেন। এ বিষয়ে তিনি তাঁর গ্রন্থে স্বতন্ত্র অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন। ক্যান্সার ও তার প্রকার আবিষ্কার নিয়েও যাওয়াবীর যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে এ প্রাণঘাতী রোগের বিবরণ ও চিকিৎসাপদ্ধতি আলোচনা করেছেন। বিগত কয়েক শতাব্দী যাবৎ এমনকি বর্তমানেও ক্যান্সার চিকিৎসায় যাওয়াবীর বাতলানো পদ্ধতিই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ্বে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও ক্যান্সার চিকিৎসায় যে ব্যবস্থাপত্র উপস্থাপন করেছেন, তার সঙ্গে খুব বেশি নতুন তত্ত্ব সংযোজন করতে পারেননি। সিজারিয়ান অপারেশন ও ধাত্রীবিদ্যা সম্পর্কে যাওয়াবীর যা লিখে গেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে আজও তা মূল্যবান সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। গর্ভস্থ মৃত সন্তানকে বের করার জন্য তিনি একটি বিশেষ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন। অর্থাৎ, এই আবিষ্কারের দাবিদার ডাক্তার ওয়ালচারের প্রায় নয় শ' বছর পূর্বেই তিনি এ সংক্রান্ত চিকিৎসা পদ্ধতির বিবরণ প্রদান করেছেন। তিনিই সর্বপ্রথম গর্ভাশয়ের মুখ প্রসারিত করার বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং সর্বপ্রথম স্ত্রীরোগ পরীক্ষার জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করেন, যা বর্তমানেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ফরাসি মনীষী গোস্তাভ লে বন (Gustave Le Bon) যাওয়াবীর উচ্চকিত প্রশংসা করে লিখেছেন, তিনি ছিলেন আরবের সবচেয়ে বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক এবং পিত্তথলির পাথর ভেঙে ফেলার উদ্ভাবক। তাঁর এ আবিষ্কারকে বর্তমানে আধুনিক যুগের আবিষ্কার বলে দাবি করা হয়। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটেনিকায় (The Encyclopaedia Britannica) যাওয়াবীর সম্বন্ধে বলা হয়েছে, আরব মুসলিম মনীষীদের মধ্যে যাঁরা শল্য-চিকিৎসাকে কলম ধরেছেন, তিনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত। তিনি সর্বপ্রথম রক্তক্ষরণ রোধে ধমনী (artery) সংযোগ পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
টিকাঃ
৩০৩. ইবনে আবি উসাইবিয়া’, ‘উয়ুনুল আনবাআ’, ৯/৩৩৬ ও শাকীক জামু বদীল, আলমুযা-রাকা আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া, পৃ : ৫১৩।
৩০৪. ইবনে আবি উসাইবিয়া', 'উয়ুনুল আনবাআ', ১/৩৩৬ ও শিফকী আহমদ খান, ৯/২০৬।
৩০৫. শফীক জামু বদীল, ‘আরাবিয়াতুল আন্দালুস ইয়াওমুন মুয়াব্বিয়া ওয়া আ’ওরাহ ফী যাহরাবীয়াতিল উরুয়াবিয়া', প: ৬১, জালাল মুস্তফা, 'যাদ-ফাওল ইনসান ওয়া আ’হফাযা কিশ ফাউল্লা', পৃ: ৩৩১-৩৪২ ও আলী বিন আব্দুল্লাহ আলদাক, 'কুদামাউল উম্মাহ ফী বিল ফা-আদিল ইসলামিয়্যা', প: ৩৯২।
৩০৬. জালাল মুস্তফা, 'যাদ-ফাওল ইনসান', পৃ: ৩৩২।
৩০৭. জাহির বাশার, 'আল উরূবিয়াতিত তিববিল ইসলামিয়া', প: ১৯৭।
৩০৮. জালাল মুস্তফা, 'যাদ-ফাওল ইনসান ওয়া আ’হফাযা কিশ ফাউল্লা', প: ৩৩০।
৩০৯. জামিল নাজার, 'আল উরূবিয়াতিত তিববিল ইসলামিয়া', প: ২২৯।
৩১০. শফীক জামু বদীল, 'যাদ-ফাওল ইনসান', প: ৪১০।
৩১১. কাজী বিন আব্দুল্লাহ আলদাক', 'কুদামাউল উম্মাহ ফী বিল ফা-আদিল ইসলামিয়্যা', প: ৩৫৫ ও সাহেদ আলআজলান, 'আসরুর ইবদাঈল ইসলামি ওয়া আ’হফাযা বিস ফাউল্লা', প: ১৮৬২।
৩১২. শারতবী আবু কমীল, উরূবিয়াতিত তিববিল ইসলামিয়া, প: ১৬৫ ও আহামদ খান মারাফিয়াতুল উরূবিয়া, প: ৩০ ও আবিব নাজার, আল উরূবিয়াতিত তিববিল ইসলামিয়্যা, প : ১৫৬২।
৫৭১. শান্তব আন্নাসিক, উম্মাহাতুন আজওয়াল ইবাবা তুল-মুবায়ীরা ওয়া আতহফা দিন শান্তব আল-ইফুর, পৃঃ ১৩-১৫।
৫৭২. মুকাল্লান আবদিল হালিমি, আদ্দুররুল কাফী ফী যিকরি উলু-মায়ারীফ ই'নাল জান, পৃঃ ১৪-১৪৪।
৫৭৩. ফাউরু, পৃঃ ২০৯।
৫৭৪. দেখুন : আলসাজা, ফুতুহ ইলামিয়াত, পৃঃ ২৬৪।
৫৭৫. দেখুন। কামাল আলসায়াদা, জামরাতুল মিমহিয়া ফিত হিকমুল আরহাবিয়া ওয়াল আন্দালুসিয়া ওয়ালা মাদালিব, সংখ্যা ১, ১৪১৫ খৃস্টীয় ও মাতহুন আললুহা আলিয়ি, আলজুন ইল্লামর আল আয়াল হুনাহিম, পৃ: ২৬৫।
৫৭৬. ফাউরাবি, পৃঃ ৩৬০-৩৬২।
৫৭৭. বিরুকিরি, আলসাফরা, পৃঃ ৬৯০।