📄 দুই. নাগরিক উন্নয়নের অনন্য রূপকার
হাজিব আলমানসুরের শাসনামলের আরেকটি উজ্জ্বলতম দিক হলো তিনি আন্দালুসের বস্তুগত উন্নতি ও নাগরিক সভ্যতার অগ্রযাত্রায় যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি মদিনাতুল যাহিরা নামে নতুন ও আধুনিকতম একটি শহরের পত্তন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি কর্ডোভার মসজিদের আমূল সংস্কার করেন এবং মূল আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ অংশ মসজিদে যোগ করেন। মসজিদের পাশে এক মহিলার বাড়ি ছিল যার আঙ্গিনায় একটি খেজুর গাছ ছিল। মহিলাটি তাঁর বাড়ি বিক্রির শর্ত হিসেবে এমন একটি বাড়ি দাবি করেন যাতে খেজুর গাছ থাকবে। আলমানসুর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তাকে তাঁর পছন্দমতো বাড়ি কিনে দিয়ে মসজিদের জন্য জায়গাটি সংগ্রহ করেন। আলমানসুরের শাসনামলে কর্ডোভা মসজিদ সমকালীন বিশ্বের বৃহত্তম উপাসনালয়ে পরিণত হয়েছিল। এর পাশাপাশি তাঁর সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও আন্দালুস উন্নতির শিখরে পৌঁছায়। তাঁর সময়ে পুরো আন্দালুসে কোনো দরিদ্র মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।
টিকাঃ
৫০৫. ইবনে আযারী, ২/২৫৭।
৫০৬. মাক্কারী, ৪/৪০৬।
৫০৭. ইবনে খালদুন, ৪/৪৯১।
📄 তিন. বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলাযুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার সফল নির্মাতা
হাজিব আলমানসুরের শাসনকালের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর দীর্ঘ শাসনামলে দেশে কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ বা অরাজকতা সৃষ্টি হয়নি। এর একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল সেনাপতি গালিবের সাথে তাঁর সংঘাত। তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন প্রজাদের অধিকারের প্রতি অত্যন্ত সচেতন। একবার একজন সাধারণ গ্রাম্য ব্যক্তি তাঁর দরবারে এক উচ্চপদস্থ সচিবের বিরুদ্ধে সুবিচারের প্রার্থনা নিয়ে আসে। আলমানসুর তৎক্ষণাৎ সচিবকে তলব করেন এবং তাঁকে নির্দেশ দেন তাঁর পদের জাঁকজমক ও ইউনিফর্ম খুলে সাধারণ মানুষের মতো বিচারকের সামনে বসতে। বিচারে সচিব দোষী সাব্যস্ত হলে আলমানসুর তাকে নির্ধারিত শাস্তির দ্বিগুণ দণ্ড প্রদান করেন এবং বলেন যে তাঁর পদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রজাদের ওপর যুলুম করার সাহস যেন আর কেউ না পায়। এভাবেই তিনি এক শান্ত ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণ করেছিলেন।
টিকাঃ
৪৮৯. ইবনুল আছীর, আল-কামেল ফিত-তারীখ, ৫/২৫৯।