📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 খৃস্টান রাষ্ট্রগুলোতে উপর্যুপরি অভিযান

📄 খৃস্টান রাষ্ট্রগুলোতে উপর্যুপরি অভিযান


গালিবের সৈন্যদল যারা ইতোমধ্যে মুহাম্মাদ বিন আবু আমিরের বাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তাদের সঙ্গে নিয়ে মুহাম্মাদ বিন আবু আমিরের বাহিনী এবার খৃস্টান বাহিনীর মোকাবেলা করল। এর মাধ্যমে সূচনা হল খৃস্টান রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে মুহাম্মাদ বিন আবু আমিরের এক দীর্ঘমেয়াদী অভিযানধারার, যা পরবর্তী সাতাশ বছর অব্যাহত ছিল এবং প্রতিটি অভিযানেই ছিল মুসলিম বাহিনীর বিজয়। ইবনে আবু আমির প্রথমে স্পেনের তৃতীয় রামিরোর বিরুদ্ধে সমোরা (Zamora) নগরীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন এবং শহরটি অবরোধ করে সেখানে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন। লিওন সাম্রাজ্যের বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হল। এরপর তিনি রাজধানী লিওন নগরীর দিকে অগ্রসর হলেন। মুসলিম বাহিনী লিওন নগরীর প্রবেশপথে পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু শীতের তুষারপাতের কারণে অবরোধ তুলে নিয়ে কর্ডোভায় প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য হল।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 ‘আলহাজিব আলমানসুর’

📄 ‘আলহাজিব আলমানসুর’


গালিব আননাসিরের বিদ্রোহ দমন এবং খৃস্টানদের সম্মিলিত বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে কর্ডোভায় প্রত্যাবর্তন করার পর, মুহাম্মাদ বিন আবু আমির 'আলমানসুর' (Almanzor) রাজকীয় উপাধি ধারণ করলেন। ৩৭১ হিজরীতে এই উপাধি ধারণ করার পর থেকে তিনি পরিচিত হতে লাগলেন 'হাজিব আলমানসুর' নামে। ইতোপূর্বে একমাত্র খলীফাগণই রাজকীয় উপাধি ধারণ করতেন। ইবনে আবু আমিরই প্রথম সেই ধারা ভেঙে নিজেকে রাজকীয় পরিচয়ে অলংকৃত করলেন। এরপর থেকে মসজিদের মিম্বরসমূহে খলীফা হিশাম বিন হাকামের পাশাপাশি তাঁর নামেও দোয়া পাঠ করা শুরু হল। এর কিছুদিন পর সরকারি মুদ্রা, রাষ্ট্রীয় চিঠিপত্র ও নথিপত্রেও আলমানসুরের নাম ও সিলমোহর ব্যবহার শুরু হল।

টিকাঃ
৩৫০. ইবনে আ’যারী, আলবায়ানুল মুগরিব, ১/২৭১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px