📄 মুহাম্মাদ বিন আবু আমির ও আমিরিয়া সালতানাতের অণুরোদ্গম
হাকাম আলমুসতান্সিরের মৃত্যুর পর উদ্ভূত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে মুহাম্মাদ বিন আবু আমির দৃশ্যপটে আসেন। তিনি একই সাথে মেধা ও রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে খলীফার মাতা সাবাহ বাশকানসিয়ার আস্থা অর্জন করেন। সাকলাবী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ ও উযীর জাফরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। তিনি সাকলাবী পরিচারকদের প্রভাব সমূলে উৎপাটন করেন এবং নিজেই রাজকীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। এখান থেকেই কার্যত আমিরিয়া সালতানাতের সূচনা হয়।
টিকাঃ
৪৫৭. ইবনে আযারী, আল-বায়ানুল মুগরিব, ২/৫৯।
📄 মুহাম্মাদ বিন আবু আমিরের উত্থান
মুহাম্মাদ বিন আবু আমির ৩৯৬ হিজরীতে প্রথমবার উত্তরে খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে অভিযানের নেতৃত্ব দেন এবং বড় বিজয় অর্জন করেন। এই একটি অভিযানের ফলেই তিনি সাধারণ জনগণের মাঝে এবং সেনাবাহিনীতে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সেনাপতি গালিবের কন্যাকে বিয়ে করে নিজের সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। অচিরেই তিনি 'হাজিব আলমানসুর' উপাধি ধারণ করে আন্দালুসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শাসকে পরিণত হন এবং খলীফা হিশামকে একপ্রকার ক্ষমতাশূন্য করে ফেলেন।
টিকাঃ
১৮৯. ইবনে আযারী, ২/১২৯।
📄 আমিরিয়া সাম্রাজ্য (৩৫৬-৩৯৯ হি./৯৭৬-১০০৯ খৃ.)
আমিরিয়া সাম্রাজ্যের সময়কাল ছিল আন্দালুসের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতাপের যুগ। এই সময়ে মুহাম্মাদ বিন আবু আমির আলমানসুর ৪৪টি বড় বড় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং প্রতিটিতেই জয়লাভ করেন। তিনি আয-যাহরা নগরীর বিপরীতে আয-যাহিরা নামে নতুন একটি শহর গড়ে তোলেন। তাঁর আমলে আন্দালুসের সীমা বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল এবং খৃষ্টান রাষ্ট্রগুলো নিয়মিত জিজিয়া প্রদান করত। আলমানসুরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আলমুজাফফার তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং সাত বছর সফলতার সঙ্গে শাসন করেন।