📄 সাকলাবী পরিচারকদের প্রাসাদ-ষড়যন্ত্র
খলীফা হাকামের মৃত্যুর পর প্রাসাদের সাকলাবী (স্লাভ) পরিচারকরা ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ফায়েক ও জুয়ার নামক দুজন প্রধান সাকলাবী কর্মকর্তা কিশোর হিশামকে সরিয়ে হাকামের ভাই মুগীরার হাতে ক্ষমতা অর্পণ করার পরিকল্পনা করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মুগীরার আড়ালে থেকে শাসনভার নিজেদের হাতে রাখা। তবে প্রধান রাজপ্রহরী জাফর মিসহাফী এই ষড়যন্ত্রের কথা জেনে যান। তিনি মুহাম্মাদ বিন আবু আমিরকে দিয়ে এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
টিকাঃ
৪১০. প্রধান রাজপ্রহরীদের হাজিব বলা হতো।
৪১১. সাকলাবী বলতে মূলত ইউরোপীয় ক্রীতদাস ও ভৃত্যদের বোঝানো হতো।
📄 মুগীরা কি সাকলাবী পরিচারকদের পরিকল্পনায় শরীক ছিলেন?
হাকামের ভাই মুগীরা কি সাকলাবী কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত ছিলেন তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। তবে শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতে বলা যায় যে, মুগীরা সম্ভবত তাঁর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা পোষণ করতেন। কিন্তু জাফর মিসহাফী নিজের স্বার্থে মুগীরাকে সরিয়ে দেওয়া জরুরি মনে করেছিলেন। তিনি মুহাম্মাদ বিন আবু আমিরের নেতৃত্বে একদল সেনাকে মুগীরার কাছে পাঠান। শেষ পর্যন্ত ইবনে আবু আমির মুগীরাকে তাঁর নিজ বাড়িতেই হত্যা করেন, যার ফলে হিশামের সিংহাসন নিষ্কণ্টক হয়।
📄 মুহাম্মাদ বিন আবু আমিরের পরিচয়
মুহাম্মাদ বিন আবু আমিরের পুরো নাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবী আমির আল-মাআফিরী। তাঁর পূর্বপুরুষরা তরিক বিন যিয়াদের সঙ্গে আন্দালুসে এসেছিলেন। তিনি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও প্রতিভাধর ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কর্ডোভার বিচারক মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন সালিমের অধীনে কেরানী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে নিজের মেধা ও সাহসিকতার মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের উচ্চপদে আসীন হন এবং উমাইয়া রাজবংশের প্রিয়পাত্রে পরিণত হন।
টিকাঃ
৮৯৪. ইবনে আযারী, আল-বায়ানুল মুগরিব, ২/২৬২।
📄 মুহাম্মাদ বিন আবু আমির ও আমিরিয়া সালতানাতের অণুরোদ্গম
হাকাম আলমুসতান্সিরের মৃত্যুর পর উদ্ভূত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে মুহাম্মাদ বিন আবু আমির দৃশ্যপটে আসেন। তিনি একই সাথে মেধা ও রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে খলীফার মাতা সাবাহ বাশকানসিয়ার আস্থা অর্জন করেন। সাকলাবী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ ও উযীর জাফরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। তিনি সাকলাবী পরিচারকদের প্রভাব সমূলে উৎপাটন করেন এবং নিজেই রাজকীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। এখান থেকেই কার্যত আমিরিয়া সালতানাতের সূচনা হয়।
টিকাঃ
৪৫৭. ইবনে আযারী, আল-বায়ানুল মুগরিব, ২/৫৯।