📄 লিওন রাষ্ট্র ও ক্যাস্টেলার স্বাধীনতা
আবদুর রহমান আননাসিরের মৃত্যুর পর লিওন নৃপতি স্যান্ডো (Sancho) মুসলমানদের সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন। তিনি যেসব দুর্গ ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল তা দিতে এবং যেগুলো ভেঙে ফেলার কথা ছিল তা ভাঙতে অস্বীকৃতি জানান। এ অবস্থায় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চতুর্থ আরদোনিয়ো (Ordono IV) ক্ষমতা ফিরে পেতে খলীফা হাকাম আলমুসতান্সিরের সাহায্য চান। হাকাম তাঁকে আশ্রয় ও সাহায্যের আশ্বাস দেন। স্যান্ডো যখন দেখলেন যে খলীফা হাকাম তাঁর প্রতিপক্ষকে সমর্থন দিচ্ছেন, তখন তিনি দ্রুত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং পূর্বের সকল অঙ্গীকার পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু আরদোনিয়ো মারা যাওয়ার পরপরই স্যান্ডো আবারও তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন। এর ফলে খলীফা হাকাম উত্তরের সকল খৃষ্টান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
📄 ক্যাস্টেলার স্বাধীনতা
ফারনান গঞ্জালেস ক্যাস্টেলার স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন। তিনি লিওন রাষ্ট্রের অধীনতা থেকে বেরিয়ে নিজের শক্তি সুসংহত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। যদিও তিনি শুরুতে লিওন নৃপতির কাছে নতি স্বীকার করেছিলেন, কিন্তু মুসলিম আন্দালুসের ক্রমবর্ধমান শক্তির মুখে লিওন যখন কোণঠাসা হয়ে পড়ে, তখন গঞ্জালেস সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্যাস্টেলার স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তাঁর কন্যাকে লিওনের রাজপরিবারে বিয়ে দিয়ে সম্পর্ক জোরদার করলেও মূলত ক্যাস্টেলার স্বাধীন সত্তা বজায় রাখতে সক্ষম হন।
📄 নাফার রাষ্ট্র
নাফার বা নাভারা রাষ্ট্রের অধিপতি গাসিয়া সানচেজ ছিলেন ক্যাস্টেলা ও লিওন রাজপরিবারের আত্মীয়। তাঁর মা রানী টোটা বা জুতা ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। এই তিন খৃষ্টান রাষ্ট্র প্রায়ই মুসলমানদের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হতো। ৩৮২ হিজরীতে খলীফা হাকাম আলমুসতান্সির যখন তাদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান পরিচালনা করেন, তখন নাফার রাষ্ট্রও পরাজিত হয়। পরে স্যান্ডো যখন পুনরায় লিওনের ক্ষমতা দখল করেন, তখন নাফার রাষ্ট্র তাঁকে সমর্থন দেয়। তবে হাকামের শাসনকালে তাঁরা মুসলিম শক্তির বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল।