📄 নিরাপত্তা খাত
পুলিশ প্রশাসন একটি দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবদুর রহমান আননাসিরের শাসনামলে পুলিশ বিভাগকে তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়: উচ্চতর পুলিশ বিভাগ, মধ্যম স্তরের পুলিশ বিভাগ ও নিম্নতর পুলিশ বিভাগ। এ ছাড়াও ৩৯৬ হিজরীতে তিনি বিচারব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজান এবং বিচার বিভাগকে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বতন্ত্র রূপ দান করেন। অভিযোগ গ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা চালু করেন, যা জনগণের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়া সহজতর করে।
📄 আবদুর রহমান আলনাসিরের পররাষ্ট্রনীতি
আবদুর রহমান আননাসিরের সুখ্যাতি সমকালীন বিশ্বের সব দেশেই ছড়িয়ে পড়েছিল। উত্তরের খৃষ্টান রাষ্ট্রগুলো তাঁর প্রতাপে জিজিয়া প্রদান করতে বাধ্য ছিল। জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলো থেকে রাজদূতরা তাঁর দরবারে আসত। এমনকি সুদূর কনস্টান্টিনোপলের বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সম্রাটও তাঁর সঙ্গে পত্রযোগাযোগ করতেন এবং মূল্যবান উপঢৌকন পাঠাতেন। তাঁর শাসনকালে মুসলিম আন্দালুস তৎকালীন ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। আধুনিক স্পেনের ইতিহাসবিদেরাও স্বীকার করেন যে, আবদুর রহমান আননাসির ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক।
📄 ব্যক্তি আবদুর রহমান আলনাসির
আবদুর রহমান আননাসির কেবল একজন পরাক্রমশালী শাসকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন আল্লাহভীরু ও কোমল হৃদয়ের মানুষ। একবার দেশে প্রচণ্ড অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তিনি ইসতিসকার নামাজে ইমামতি করার জন্য আলেমদের আহ্বান জানান। সে সময় প্রখ্যাত আলেম মুনযির বিন সাঈদ রহ. খলীফাকে তাঁর প্রাসাদের আড়ম্বরতার জন্য কঠোর সমালোচনা করেন। খলীফা রাগ না করে বরং নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং বিনয়ের সাথে আল্লাহর দরবারে কান্না করেন। এরপরই আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং দুর্ভিক্ষ দূর হয়। তিনি নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং আলেমদের সান্নিধ্য পছন্দ করতেন।
📄 আবদুর রহমান আলনাসির রহ. সম্পর্কে মনীষীদের অভিমত
বিখ্যাত ঐতিহাসিক হাফেজ যাহাবী রহ. তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, তিনি ছিলেন সাহসী, বীর, বিচক্ষণ এবং উদার হৃদয়ের অধিকারী। তাঁর শাসনকালে আন্দালুসে আলেম ও জ্ঞানী-গুণীদের যে সমাবেশ ঘটেছিল, তা অন্য কোনো যুগে দেখা যায়নি। ইবনে ওয়ার্দী ও অন্যান্য ঐতিহাসিকগণ তাঁর শাসনব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি যেভাবে সেনাবাহিনীকে সুসংহত করেছিলেন এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমন করেছিলেন, তা নজিরবিহীন। ৭২ বছর বয়সে ৩৫০ হিজরীর রমজান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পকেটে একটি চিরকুট পাওয়া যায় যেখানে তিনি লিখেছিলেন যে, দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের শাসনজীবনে তিনি মাত্র ১৪টি দিন প্রকৃত আনন্দ ও শান্তিতে কাটাতে পেরেছেন।
টিকাঃ
১০১. যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা।
১০২. ইবনে আযারী, আল-বায়ানুল মুগরিব, ২/৩০৫।