📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 লিওন রাষ্ট্র সম্পর্কে বাকি কথা

📄 লিওন রাষ্ট্র সম্পর্কে বাকি কথা


৯৫০ খৃষ্টাব্দে লিওন নৃপতি দ্বিতীয় রামিরো মারা গেলে তাঁর দুই পুত্র আলফোন্সো ও সানচোর মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হয়। সানচো ক্ষমতা লাভের জন্য তাঁর মাতামহ নাভারার রাজা এবং ক্যাস্টেলার ফার্নান্দ গঞ্জালেসের সাহায্য চান। তবে শুরুতে আলফোন্সোই জয়ী হন। ৯৩২ খৃষ্টাব্দের দিকে অভ্যন্তরীণ বিবাদে জর্জরিত হয়ে আলফোন্সো খলীফা আবদুর রহমান আননাসিরের কাছে সন্ধির আবেদন জানান। এর কিছুকাল পর আলফোন্সো মারা গেলে সানচো ক্ষমতায় বসেন, কিন্তু তিনিও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় মুসলমানদের আক্রমণের মুখে পড়েন। পরবর্তীতে সানচো তাঁর ক্ষমতা ফিরে পেতে খলীফা আবদুর রহমান আননাসিরের সরাসরি সহায়তা প্রার্থনা করেন। ৯৬৭ হিজরীতে সানচো এবং নাভারার রানী টোটা কর্ডোভায় খলীফার দরবারে উপস্থিত হয়ে আনুগত্যের শপথ নেন। খলীফা তাদের সহায়তা করেন এবং সানচো পুনরায় লিওনের সিংহাসন ফিরে পান।

টিকাঃ
৫০৭. ইবনে আযারী, আল-বায়ানুল মুগরিব, ২/৯৮; ইবনে খালদুন, ৪/১৩৪-১৩৫।
৫০৮. ইবনে খালদুন, ৪/১৪৬।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 নাফার রাষ্ট্র

📄 নাফার রাষ্ট্র


নাফার বা নাভারা রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছিল খ্রিস্টীয় নবম শতকে। ৯০৫ খ্রিস্টাব্দে সাঞ্চো গাসিয়া এখানকার রাজা হন। তিনি এবং তাঁর উত্তরসূরিরা প্রায়ই মুসলিম আন্দালুসের সীমান্ত অঞ্চলে হামলা চালাতেন। গাসিয়া সানচেজ যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তাঁর মাতা রানী টোটা বা জুতা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক বুদ্ধির মাধ্যমে লিওন ও ক্যাস্টেলার রাজপরিবারের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ফলে এই তিনটি খৃষ্টান রাষ্ট্র প্রায়ই মুসলমানদের বিরুদ্ধে একজোট হতো। তবে হাকাম আল-মুসতান্সিরের শাসনামলে যখন মুসলিম বাহিনী উত্তর দিকে প্রবল অভিযান চালায়, তখন নাফার রাষ্ট্রও বশ্যতা স্বীকার করতে ও জিজিয়া প্রদানে বাধ্য হয়। ৩৫৫ হিজরীতে মুসলিম নৌবাহিনীও উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের দমন করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে। ৩৬৬ হিজরীতে হাকাম আল-মুসতান্সিরের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উত্তর সীমান্তে মুসলিম আধিপত্য অটুট ছিল।

টিকাঃ
৫০৯. ইবনে আযারী, আল-বায়ানুল মুগরিব, ২/১০৩; ইবনে খালদুন, ৪/৩৪১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px