📄 আবদুর রহমান আলনাসিরের অব্যাহত সম্প্রসারণমূলক সমরনীতি
উমাইয়া খেলাফতের দাবি গৃহীত হওয়ার পর ৩১৬ হিজরীতে আবদুর রহমান আননাসির দক্ষিণে জাবালে তারিক অভিমুখে রওয়ানা হলেন এবং উবাইদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন। এ যুদ্ধের মাধ্যমে সিউটা ও তানজা নগরী মুসলিম আন্দালুস সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হল। এরপর তিনি মাগরেব অঞ্চলে উবাইদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত আহলুস সুন্নাহর অনুসারীদের সহায়তা করতে লাগলেন। ৩২০ হিজরীতে জারাগোসা অঞ্চলের গভর্নরের বিশ্বাসঘাতকতার সংবাদ পেয়ে তিনি সেখানে আক্রমণ করেন এবং কঠোর হাতে বিদ্রোহ দমন করেন। তবে বিদ্রোহী নেতা যখন নিজের ভুল স্বীকার করে বশ্যতা স্বীকার করল, তখন আবদুর রহমান তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তার পদে বহাল রাখেন। দুষ্টের দমনে কঠোর এবং সামর্থ্যের সময় ক্ষমা—এই ছিল তাঁর নীতি।
📄 একটি মানবিক বিচ্যুতি : ‘সুন্নতে ইলাহী’ দেখে না বংশ-পরিচিতি
সবসময় একইভাবে চলবে এবং প্রতিটি অভিযানেই আসবে সফলতা, এমনটি ভাবা সহজ হলেও বাস্তবতা বড় কঠিন। ৩২৭ হিজরীতে আবদুর রহমান আননাসির সুবিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে খৃষ্টান রাষ্ট্র লিওন-এর বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক যুদ্ধে লিপ্ত হন, যা ইতিহাসে 'পরিবার যুদ্ধ' (Battle of Simancas) নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর একটি অংশ যুদ্ধের ময়দান ত্যাগ করার ফলে প্রায় পঁচাত্তর হাজার মুসলিম সৈন্য শহীদ বা বন্দী হয়। এটি ছিল আন্দালুসের ইতিহাসের একটি বড় বিপর্যয়। ইতিহাসবিদদের মতে, পূর্বের ধারাবাহিক বিজয়ের ফলে মুসলমানদের মনে যে আত্মতৃপ্তি ও অহমিকা তৈরি হয়েছিল, এটি ছিল তারই একটি ঐশী শিক্ষা।
📄 আপন দায়িত্ব পালনে অটল-অবিচল আবদুর রহমান আলনাসির
পরিবার যুদ্ধে পরাজয়ের পর আবদুর রহমান আলনাসির মোটেই হতোদ্যম হলেন না। তিনি পরাজয়ের কারণসমূহ ও নিজেদের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করলেন। ৩৫২ হিজরীতে তিনি খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে নতুন এক অভিযানের সূচনা করেন এবং প্রতিটি লড়াইয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনেন। ৯৪৪ থেকে ৯৬৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত তাঁর আক্রমণে খৃষ্টানশক্তি এমনভাবে পর্যুদস্ত হল যে, লিওন ও নাভার রাষ্ট্রের শাসকরা অবনত মস্তকে জিজিয়া প্রদানের শর্তে নিরাপত্তা চুক্তি করতে বাধ্য হল।
📄 উত্তর আফ্রিকার ক্ষেত্রে আবদুর রহমান আলনাসিরের অবস্থান
আবদুর রহমান আননাসির উত্তর আফ্রিকাকে আন্দালুসের নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখতেন। তিনি মাগরেব অঞ্চলের উবাইদী (ফাতেমী) শিয়াদের আগ্রাসন ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি নিজে সরাসরি আক্রমণ করার চেয়ে স্থানীয় সেইসব আমিরদের সহায়তা করতেন যারা উবাইদীদের বিরোধী ছিল। তিনি ৩২৯ হিজরীতে একটি শক্তিশালী নৌবহর পাঠিয়ে সিউটা বন্দর দখল করেন। এটি উমাইয়া সাম্রাজ্যের সুরক্ষার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। কারণ সিউটা থাকলে উবাইদীরা সহজে আন্দালুসে আক্রমণ করতে পারত না। ৩৪৩ হিজরীতে উবাইদী নৌবহর আন্দালুসের আলমেরিয়া উপকূলে হামলা করলে আবদুর রহমান অত্যন্ত কঠোরভাবে তার প্রতিশোধ নেন এবং উবাইদীদের বুঝিয়ে দেন যে আন্দালুসের সীমানায় তাদের হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।