📄 আন্দালুসের অভ্যন্তরে ক্রমাগত বিদ্রোহের ঘটনা
১. আন্দালুসের অভ্যন্তরে ক্রমাগত বিদ্রোহের ঘটনা: এ সময় আন্দালুসের অভ্যন্তরে অসংখ্য বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে; বরং অনেক স্বাধীন ও স্বতন্ত্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্যামুয়েলের স্বাধীনতা ঘোষণা। সে দক্ষিণ আন্দালুসে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো দুর্গ সে নিজ রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। গ্রানাডা নগরীতেও তার দখল ছিল। এ ধরনের আরেকটি বড় বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল ইবনুল হাজ্জাজের নেতৃত্বে। তৃতীয় আরেকটি বড় বিদ্রোহ হয়েছিল পূর্ব আন্দালুসে ভ্যালেন্সিয়া এলাকায়। চতুর্থ বড় বিদ্রোহ হয়েছিল উত্তর-পূর্বে জারাগোসা অঞ্চলে। আন্দালুসের পশ্চিমাঞ্চলে পঞ্চম আরেকটি বিদ্রোহ হয়েছিল আবদুর রহমান আলজিলিকীর নেতৃত্বে। টলেডোতে সংঘটিত বিদ্রোহকে গণ্য করা যেতে পারে ষষ্ঠ বড় বিদ্রোহরূপে। এককথায়, উমাইয়া প্রশাসনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অসংখ্য বিদ্রোহ পুরো আন্দালুস জুড়ে সংঘটিত হয় এবং শেষে পরিস্থিতি এই দাঁড়ায় যে, কর্ডোভা-কেন্দ্রিক মূল উমাইয়া প্রশাসনের ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ কেবল কর্ডোভা ও তার আশপাশের কয়েকটি গ্রামেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে আর পুরো দেশ চলে যায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে।
টিকাঃ
৮৫২ ইবনুল খতীব, আল-ইহাতা ফী আখবারিল গারনাতা।
৮৫৩ ইবনুল আছীর, আল-কামিলু ফিত-তারীখ, ১/১৫২।
৮৫৪ ইবনু আছীর, আল-কামিলু ফিত-তারীখ, ১/১৫৩।
📄 তৃতীয় খৃস্টান রাষ্ট্রের উদ্ভব
২. তৃতীয় খৃষ্টান রাষ্ট্রের উদ্ভব: আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, ইতঃপূর্বে আন্দালুসের অভ্যন্তরেই ক্ষুদ্র দুটি খৃষ্টান রাষ্ট্র অস্তিত্ব লাভ করেছিল। একটি হল উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে লিওন রাষ্ট্র, অপরটি উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে আরাগোনের রাষ্ট্র। এবার স্বাধীন উমাইয়া প্রশাসন আমলের এই দ্বিতীয় স্তরে উত্তর অঞ্চলে তৃতীয় আরেকটি খৃষ্টান রাষ্ট্র গজিয়ে ওঠে। এর নাম বাস্ক (Basque) সাম্রাজ্য। খৃষ্টান রাষ্ট্রগুলো উমাইয়া প্রশাসন আমলের প্রথম স্তরেও মুসলিম সাম্রাজ্যকে ভয় করত। দ্বিতীয় স্তরে এসে তারাই ইসলামী সালতানাতের বিরুদ্ধে দুঃসাহসী হয়ে ওঠে। তারা মুসলিম সাম্রাজ্যের উত্তর অঞ্চলে একাধিকবার হামলা চালায় এবং উত্তর আন্দালুসের শহরগুলোতে মুসলিম নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করে।
📄 যুবরাজকে হত্যা
৩. যুবরাজকে হত্যা: এ সময় আরও একটি গুরুতর ঘটনা সংঘটিত হয়। তৎকালীন যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহকে তার ভাই হাকাম বিন আবদুল্লাহ হত্যা করে। ফলে বিরাজমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আরও বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতি তখনই সৃষ্টি হয়েছিল, যখন মুসলমানগণ বিদ্রোহ-বিসংবাদে জড়িয়ে পড়েছিল এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়েছিল। এই জটিল ও নাজুক পরিস্থিতিতে বিভক্ত মুসলিম আন্দালুস হয়ে পড়ে নেতৃত্বহীন।
টিকাঃ
৮৫৫ ইবনুল আছীর, আল-কামিলু ফিত-তারীখ, ১/১৫০।
📄 মাগরেবে শিয়া রাষ্ট্রের উদ্ভব
৪. মাগরেবে শিয়া রাষ্ট্রের উদ্ভব: মাগরেবে এক নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার আত্মপ্রকাশে আন্দালুস পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এ নবগঠিত রাষ্ট্র ছিল আন্দালুসের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এ রাষ্ট্রের নাম ফাতেমী সাম্রাজ্য; যদিও এর সঠিক নাম হওয়া উচিত 'উবাইদিয়া সাম্রাজ্য'। মাগরেব অঞ্চলে উবাইদিয়া সাম্রাজ্যের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২৯৭ হিজরীতে। উবাইদিয়া সালতানাতের মূল লক্ষ্য ছিল মাগরেবে সঠিক আকীদার ধারক আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআ’র আলিমদের হত্যা করা এবং এ অঞ্চলে শিয়া-আক্বীদা বিস্তার করা। উবাইদিয়া সাম্রাজ্যের আত্মপ্রকাশের পরপরই ওমর বিন হাফসূন (স্যামুয়েল) উবাইদিয়া শাসনের আনুগত্য ঘোষণা করে। স্যামুয়েলের উদ্দেশ্য ছিল উবাইদিয়া সাম্রাজ্যের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা লাভ করা।
টিকাঃ
৩০৬ ইবনুল আছীর, আল-কামিল, ৬/৪৫৫।
৩০৫ ইবনু সাঈদ, তারীখে ইবনে খালদুন, ৪/১৩১।