📄 অতর্কিতে হামলার নীতি ও শত্রুর পূর্বে পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা
প্রথমেই তিনি লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য অত্যন্ত নিখুঁত ও নিভৃতভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতেন। এরপর প্রতিপক্ষের জন্য সামান্য সুযোগও রাখতেন না; বরং প্রতিপক্ষ যখন তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিত, তখনই তিনি অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা করতেন। ইতিহাসে এ বিষয়টি সুপ্রমাণিত যে, কোনো বিদ্রোহ-প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হলো একেবারে প্রথম ধাপে তা দমন করা, যাতে তার উন্নতি ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ না থাকে। আবদুর রহমান আদদাখিলের এই নীতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে মাসারার যুদ্ধে। যুদ্ধের আগের রাতে তিনি রাত জেগে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন; আর তাঁর প্রতিপক্ষ যুদ্ধ মুলতবি রাখার অভিনয় করে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করছিল। এর ফলে তিনি অতর্কিতে হামলা করার পুরো সুযোগ পেয়ে যান; আর প্রতিপক্ষ তখনও বীরত্বের নানা দিক প্রদর্শনের কথা বললেও আসল যুদ্ধে সামান্য প্রতিরোধও গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। আবদুর রহমান আদদাখিলের অন্যান্য যুদ্ধেও বিষয়টি এমনই ছিল এবং তাঁর এই অতর্কিত হামলার নীতি প্রতিটি যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। আকস্মিক হামলার নীতির পাশাপাশি আবদুর রহমান আদদাখিলের যে পরিমাণ উদ্দীপনা ছিল, তাতে মোটেও কম আগ্রহ ছিল না প্রথমে হামলা করার প্রচেষ্টা চালনার ক্ষেত্রে। সবসময় তিনি প্রতিপক্ষকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি রাখতে চাইতেন, যেন তাদের অবাধ কর্মক্ষমতা ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায় এবং তারা সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। জীবনের প্রতিটি যুদ্ধে তিনি অত্যন্ত দক্ষতাপূর্ণ সেনাপতিদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাই বাধ্য হয়েই তাঁকে এমন উপায় অবলম্বন করতে হয়েছে, যাতে প্রতিপক্ষ সেনাপতি তার পূর্ণ শক্তি-সামর্থ্য ব্যবহারের সুযোগ না পায়।
টিকাঃ
* আল-মাক্বরী, নাফহুত তীব, ৩/৫২।
📄 শক্তির মিতব্যয়িতা ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে অটলতা
তাঁর জীবনী পাঠের সময় এ দুটি নীতির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। কেননা, তাঁর জীবন ছিল যুদ্ধ ও সংগ্রামের এক চলমান ধারা। আর তাই তিনি যুদ্ধের ধারাবাহিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং যুদ্ধ পরিচালনার অপরিহার্য শক্তি ও মাধ্যম—এ দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি একই সময়ে একাধিক লক্ষ্যের দাবি সাধনে অপেক্ষাকৃত অধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিতে বাধ্য ছিলেন। এটি তাঁর জীবনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটেছে। আর সামরিক পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর কর্তব্য ছিল শক্তির ক্ষেত্রসমূহকে ব্যবহারের সুষম সমন্বয় সাধন করা, যেন যথাসময়ে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। আবদুর রহমান আদদাখিলের সমস্ত সামরিক কর্মকাণ্ডে এই নীতির বাস্তবায়ন দেখা যায়।