📄 ব্যক্তি আবদুর রহমান আদদাখিল
আবদুর রহমান আদদাখিল কেবল একজন সফল সেনানায়ক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তি। তিনি সুবক্তা ও কবি হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। কর্ডোভায় তাঁর লাগানো একটি খেজুর গাছ দেখে তিনি একটি কবিতা রচনা করেছিলেন, যাতে তাঁর স্বদেশ বিরহের বেদনা ফুটে উঠেছে। কবিতাটি হলো:
‘হে খেজুর-বৃক্ষ! এ দূর প্রতীচ্যে তুমিও আমার ন্যায় বহিরাগত, আমার মতো একাকী! সে যদি কান্না করত, কাঁদার উপলক্ষ কত কিছুই তো আছে! কিন্তু খেজুর-বৃক্ষ কাঁদবে কী করে? সে তো অতীতের স্মৃতি বিস্মৃত হয়েছে। আর আমি? বনু আব্বাসীদের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা আমায় বিমূঢ় করেছে।’
তিনি তাঁর জীবনকে উমাইয়া খেলাফতের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।
টিকাঃ
* ইবনুল আব্বার, আলহুল্লাতুস সায়িরা, ১/৩৭।
📄 আবদুর রহমান আদদাখিলের সামরিক চিন্তা-কুশলতা
আবদুর রহমান আদদাখিলের সামরিক সাফল্য ছিল বিস্ময়কর। তিনি প্রতিটি অভিযানের পূর্বে অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতেন। তাঁর রণকৌশলের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল অতর্কিতে হামলা। তিনি প্রতিপক্ষ যখন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক তখনই আক্রমণ করতেন, যার ফলে প্রতিপক্ষ অপ্রস্তুত অবস্থায় পরাজিত হতো। তিনি সবসময় শত্রুর ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার করতেন। শক্তির ভারসাম্য রক্ষা এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নে অটল থাকাই ছিল তাঁর সফলতার মূল চাবিকাঠি। তাঁর পুরো জীবনই ছিল সংগ্রামের এক জীবন্ত ইতিহাস।
টিকাঃ
* আল-মাক্কারী, নফহুত তীব, ৩/৫২।