📄 আবদুর রহমান আদদাখিলের মহত্ত্ব, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার নিদর্শন
মাসারা প্রান্তরে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আবদুর রহমান যখন ইউসুফ আলফিহরীর প্রাসাদ দুর্গ দখল করেন, তখন তাঁর এক অনন্য প্রশাসনিক ও মানবিক গুণ প্রকাশ পায়। বিজয়ী সৈন্যরা যখন পরাজিত পক্ষের পলায়নপর সদস্যদের ওপর হামলা করতে এবং পরিবারের সদস্যদের বন্দী করতে উদ্যত হয়, তখন আবদুর রহমান তাঁদের বাধা দিয়ে বলেন, ‘এমন শিকড় উপড়ে ফেলো না, ভবিষ্যতে যার ফল প্রত্যাশা করো।’ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, আজ যারা শত্রু, আগামীতে তারাই আমাদের দেশের রক্ষক ও শক্তিশালী সৈন্যে পরিণত হবে। তিনি ইউসুফ আলফিহরীর পরিবারের সদস্যদের কোনো ক্ষতি না করে বরং তাঁদেরকে নিরাপদে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেন এবং তাঁদের লুষ্ঠিত সম্পদ ফিরিয়ে দেন। আবদুর রহমান আদদাখিলের এই দূরদর্শিতা ও মহত্ত্বই পরবর্তীতে অনেক বিদ্রোহীকে তাঁর অনুগত হতে সাহায্য করেছিল। তিনি রাজনৈতিক ও শরয়ী উভয় বিধান অনুযায়ী বিদ্রোহীদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করেন।
টিকাঃ
৯৪০. মাক্কারী, নফহুত তীব, ৩/৬৭।
৯৪১. ইবনুল আরাবী, আল-মুহাদ্দাসাতুস সুলতানিয়া, পৃ: ২৯ ও ইবনুল কায়সারানী, ফিদলুল জিয়ার, পৃ: ১০১১।
📄 আবদুর রহমান আদদাখিল ও আবুস সাবাহর মধ্যে দ্বন্দ্ব
মাসারা প্রান্তরে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আবদুর রহমান যখন ইউসুফ আলফিহরীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেন এবং সম্পদ লুটপাটে বাধা দিলেন, তখন ইয়ামেনী নেতা আবুস সাবাহ আল-ইয়াহসাবী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি মনে করেছিলেন আবদুর রহমান তাঁর নিজ বংশীয়দের (কায়সীদের) প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছেন। আবুস সাবাহ তাঁর অনুসারীদের প্ররোচিত করে আবদুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন, যেন শাসনক্ষমতা পুরোপুরি ইয়ামেনীদের হাতে চলে আসে। আবদুর রহমান বিন মুয়াবিয়া এই গোপন ষড়যন্ত্রের খবর পেয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে বিষয়টি চেপে যান এবং প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তিনি ধৈর্য ধারণ করেন যাতে এই নাজুক সময়ে মুসলমানদের মধ্যে নতুন কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়। প্রায় এগার বছর পর আবদুর রহমান আবুস সাবাহকে তাঁর পদ থেকে অপসারিত করেন এবং আন্দালুসে নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
টিকাঃ
২৪২. লেখক অজ্ঞাত, আখবারুল মাজমুআ, পৃ : ৮৩-৮৪ ও মাক্কারী, নফহুত তীব, ৩/৬৪।
২৪৩. লেখক অজ্ঞাত, আখবারুল মাজমুআ, পৃ : ৮৫-৮৬ ও মাক্কারী, নফহুত তীব, ৩/৬৫।
২৪৪. দেখুন : ইবনে আযারী, আলবায়ানুল মুগরিব, ২/৫৩।