📄 প্রশাসনিক নিপীড়ন
সম্পদ-প্রীতি ও সাম্প্রদায়িকতার সংক্রামক ব্যাধির ভয়ঙ্কর বিস্তারের পাশাপাশি নতুন সংকট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও নিপীড়ন। এ আমলে আন্দালুসের প্রশাসন এমন কিছু অযোগ্য ও অত্যাচারী শাসকের হাতে চলে যায়, যারা ইনসাফ কায়েমের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিত এবং জনগণের ওপর জুলুম চালাত। যেমন আব্দুল মালিক বিন কাতান আলফিহরীর শাসনকাল। প্রশাসকদের এই অনাচার ও লালসার কারণে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্রোহের জন্ম দিয়েছিল এবং রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছিল।
টিকাঃ
২৩৮. মাক্কারী, নফহুত তীব, ১/২৩৩ ও ১/৭৯।
২৩৯. লেখক অজ্ঞাত, ‘আখবারুন মাজমুআ’, পৃ: ৪৮, ইবনে আযারী, আলবায়ানুল মুগরিব, ১/৩২ ও মাক্কারী, নফহুত তীব, ১/২৩৬, ৩/৫৯।
২৪০. বিস্তারিত জানতে : ইবনে আযারী, আলবায়ানুল মুগরিব, ১/৩২।
📄 অমুসলিম রাষ্ট্রে বিজয়াভিযানের ধারা পরিত্যাগ
অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা, সম্পদপ্রীতি এবং শাসনব্যবস্থার নিপীড়নের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে মুসলমানরা অমুসলিম এলাকাগুলোতে বিজয়াভিযান পরিচালনার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব পরিত্যাগ করে। ফলে ফ্রান্সে যে অভাবনীয় মুসলিম বিজয়াভিযান সূচিত হয়েছিল, তা পুরোপুরি থেমে যায়। একইভাবে যুদ্ধ-তৎপরতা থেমে যায় উত্তর-পশ্চিম আন্দালুসের সাখরা (কোভাদোঙ্গা) অঞ্চলে, যেখানে পরাজয়ের পর একদল খ্রিষ্টান আশ্রয় নিয়েছিল এবং ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছিল। মুসলিম শাসকদের এই চরম উদাসীনতা ও পারস্পরিক রেষারেষিই শেষ পর্যন্ত আন্দালুসে খ্রিষ্টানদের পুনরুত্থানের সুযোগ করে দেয়।