📄 প্রশাসক-আমলের দ্বিতীয় স্তরের বৈশিষ্ট্যাবলি
এই আমলের শাসনব্যবস্থায় চারটি মৌলিক নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়:
১. সম্পদপ্রীতি: বিজয়লব্ধ অঢেল সম্পদ পাওয়ার পর মুসলমানদের মধ্যে দুনিয়াবী লোভ-লালসা বৃদ্ধি পায়, যা তাদের মধ্যে ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টি করে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, উম্মতের বড় পরীক্ষা হবে সম্পদ।
২. গোত্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার আত্মপ্রকাশ: আরব ও বার্বারদের মধ্যে এবং পরবর্তীতে আরবদের নিজেদের মধ্যে কায়সী-ইয়ামানী বিভেদ চরম আকার ধারণ করে। জাহেলী যুগের এই গোত্রবাদ ইসলামের ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে গ্রাস করে ফেলে।
৩. প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা: শাসক ও প্রশাসকরা প্রজাদের অধিকারের চেয়ে নিজেদের ক্ষমতার সুরক্ষা ও বিলাসিতায় মত্ত ছিলেন। আব্দুল মালিক বিন কাতানের মতো অনেক প্রশাসক ছিলেন জালিম ও অদূরদর্শী।
৪. বিজয়াভিযান পরিত্যাগ: অভ্যন্তরীণ কলহ ও বিদ্রোহের কারণে খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পিরেনিজ পর্বতমালা পেরিয়ে ফ্রান্সে যে বিজয়াভিযান শুরু হয়েছিল, তা স্থবির হয়ে পড়ে এবং উত্তর-পশ্চিমের খ্রিষ্টান শক্তিগুলো শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পায়।
টিকাঃ
১২১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০৩৩।