📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আবদুল মালিক বিন কাতান আলফিহরী

📄 আবদুল মালিক বিন কাতান আলফিহরী


বালাতুশ শুহাদা প্রান্তরে মুসলিম বাহিনীর মর্মন্তুদ পরাজয় ও সেনাপতি আবদুর রহমান আলগাফিকী রহ.-এর শাহাদাতের সংবাদ উত্তর আফ্রিকার গভর্নর ওবায়দাল্লাহ বিন আবদুর রহমান আলকায়সীর কাছে পৌঁছালে তিনি তৎকালীন উমাইয়া খলীফা হিশাম বিন আব্দুল মালিকের কাছে পরামর্শক্রমে প্রশাসক হিসেবে আব্দুল মালিক বিন কাতান আলফিহরীর নাম প্রস্তাব করে পাঠান এবং খলীফা তা অনুমোদন করেন। এটি ১১৪ হিজরীর রমযান বা শাওয়াল মাসের (৭৩২ খৃষ্টাব্দের) ঘটনা।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 জুলুম ও যুদ্ধ!

📄 জুলুম ও যুদ্ধ!


দায়িত্বগ্রহণের পর আব্দুল মালিক বিন কাতান প্রথমেই ফ্রান্স অঞ্চলে মুসলমানদের অবস্থান পুনরায় সুদৃঢ় করতে মনস্থ করেন। বালাতুশ শুহাদা যুদ্ধের পর এ অঞ্চলে মুসলমানদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আপন দৃঢ় সংকল্পবলে তিনি এক্ষেত্রে সফলও হন। অবশ্য তাঁর সফলতার পেছনে আরও দু'টি বিষয় সহায়ক ছিল। একদিকে দক্ষিণ ফ্রান্সের জনগণ স্থানীয় সামন্তদের জুলুমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল, অন্যদিকে আব্দুল মালিক বিন কাতান পেয়েছিলেন ইউসুফ আলফিহরীর মতো একজন দক্ষ সেনাপতিকে, যিনি বেশ কয়েকবারই বিভিন্ন অভিযানে নেতৃত্ব দেন। আব্দুল মালিক বিন কাতান তাঁর শাসনকালে অমুসলিম রাষ্ট্রে বিজয়াভিযান অব্যাহত রাখলেও আপন সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণ মোটেও প্রীতিকর ছিল না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর ও রূঢ় প্রকৃতির একজন প্রশাসক। তাঁর বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ পৌঁছলে আফ্রিকার গভর্নর ওবায়দাল্লাহ ইবনুল হাবহাব তাঁকে বরখাস্ত করেন। তাঁর এই প্রথম দফার শাসনকাল দুই বছর স্থায়ী ছিল। ১১৪ হিজরীর রমযান মাসে (৭৩২ খৃষ্টাব্দে) তিনি বরখাস্ত হন।

টিকাঃ
২৬২. মাক্কারী, নফহুত তীব, ১/২০৬। আব্দুল মালিক বিন কাতান-এর অভিযানসমূহ সম্পর্কে জানতে দেখুন: ফুতুহাতুল ইসলামিয়া, পৃ: ৪২।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 উকবা ইবনুল হাজ্জাজ

📄 উকবা ইবনুল হাজ্জাজ


আব্দুল মালিক বিন কাতানের পর আফ্রিকার গভর্নর ওবায়দাল্লাহ ইবনুল হাবহাব আন্দালুসের প্রশাসনিক দায়িত্বের জন্য অকুতোভয় বীর উকবা ইবনুল হাজ্জাজ আস-সালুলীর নাম প্রস্তাব করে পাঠান এবং খলীফা তা অনুমোদন করেন। এটি ১১৪ হিজরীর (৭৩২ খৃষ্টাব্দে) শেষ দিকের ঘটনা। উকবাকে পুরো উত্তর আফ্রিকার গভর্নর পদ অথবা আন্দালুসের প্রশাসক পদ—এই দু’টির মধ্য হতে যেকোনো একটি বেছে নিতে বলা হয়েছিল। খ্রিষ্টান অধ্যুষিত অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়ায় এবং সেখানে জিহাদের সুযোগ থাকায় তিনি আন্দালুসের প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণই পছন্দ করেন। উকবা ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ, খোদাভীরু এবং দক্ষ এক প্রশাসক। তাঁর শাসনামলে আন্দালুসে ইনসাফ ও শৃঙ্খলা পুনরায় ফিরে আসে।

টিকাঃ
২৬৪. লেখক অজ্ঞাত, ‘আখবারুন মাজমুআ’, পৃ: ৩৯।
২৬৫. লেখক অজ্ঞাত, ‘আখবারুন মাজমুআ’, পৃ: ৩৩।

📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 উকবা ইবনুল হাজ্জাজ-এর বিজয়াভিযান

📄 উকবা ইবনুল হাজ্জাজ-এর বিজয়াভিযান


উকবা ইবনুল হাজ্জাজ প্রায় সাত বছর আন্দালুসের শাসন পরিচালনা করেন। তিনি সামরিক তৎপরতায় বিশেষ দক্ষতা দেখান এবং ফ্রান্সে ইসলামের ঝাণ্ডা পুনরায় সমুন্নত করেন। তিনি ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের অনেক এলাকা জয় করেন এবং সেখানে মুসলিমদের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। তাঁর শাসনকালে বিজয় অভিযানের পাশাপাশি দাওয়াতী কার্যক্রমও সমানভাবে চলেছে। কথিত আছে, তাঁর হাতে প্রায় এক হাজার খ্রিষ্টান যুদ্ধবন্দী ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম আন্দালুসের গ্যালিসিয়া (Galicia) অঞ্চলেও অভিযান পরিচালনা করেন। তবে পাহাড়ী দুর্গম এলাকার কারণে পাম্পলোনা বা কোভাদোঙ্গা (Covadonga) অঞ্চলে খ্রিষ্টানদের একটি ক্ষুদ্র অংশ টিকে ছিল, যারা পরবর্তীতে বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামের এই মহান সৈনিক ১২৩ হিজরীতে (৭৪১ খৃষ্টাব্দে) শহীদ হন এবং তাঁর শাহাদতের মধ্য দিয়ে প্রশাসক আমলের প্রথম ধাপের সমাপ্তি ঘটে।

টিকাঃ
১৮৬. মাক্কারী, নফহুত তীব, ১/১০০।
১৮৭. ইবনে আ'যারী, আলবায়ানুল মুগরিব, ১/২৬।
১৯৪. লেখক অজ্ঞাত, ‘আখবারুন মাজমুআ’, পৃ: ৩৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px