📄 মূসা বিন নুসায়ের ও তারিক বিন যিয়াদ
কোন কোন ইতিহাসগ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী পুনর্মিলনের সময় মুসা বিন নুসাইর তারিক বিন যিয়াদকে তীব্র তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করেছিলেন। বরং কতক বর্ণনামতে তিনি তাঁকে বন্দী করে ফেলেছিলেন এবং চাবুক প্রহার করেছিলেন। আরও কাহারও কাহারও বর্ণনা অনুযায়ী, মুসা বিন নুসাইর তারিক বিন যিয়াদকে হত্যা করার মনস্থ করেছিলেন। কিন্তু আমরা সুনিশ্চিতভাবে ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি যে, প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কিছুই ঘটেনি।
টিকাঃ
১৪. ড. ফারুক মারমারী, আল-আন্দালুস, পৃ : ২৬, ইবনুল জাওযী, আল-আন্দালুসুল মুসলিম, ২/১৪-১৫। রাফীক, আল-আন্দালুস, পৃ: ২৮।
১৫. লেখক অজ্ঞাত, আখবারুন মাজমুআ, পৃ : ২৬-২৭, ইবনুল আব্বাসী, আল-আন্দালুসুল মুসলিম, ২/১৮। রাফীক, আল-আন্দালুস, পৃ: ২৮।
১৬. মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম, আল-আন্দালুস, পৃ: ২৮।
১৭. লেখক অজ্ঞাত, আখবারুন মাজমুআ, পৃ: ২৮।
📄 দুই মহান বীরের সাক্ষাৎ এবং বিজয়াভিযানের পূর্ণতা
ব্যাপক পারস্পরিক সাক্ষাতের সময় মুসা বিন নুসাইর তারিক বিন যিয়াদের এ কারণে ভর্ৎসনা করেছিলেন যে, তিনি মুসার নির্দেশ আসার পূর্বেই টলেডো পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন। এই ভর্ৎসনা ছিল নিছকই প্রশাসনিক ও সাময়িক। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ৭১২ খ্রিস্টাব্দ হতে ৭১৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় একে অপরের থেকে দূরে থাকার পর দুই সেনাপতির মিলন ছিল অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিকতাপূর্ণ। তারিক বিন যিয়াদের অব্যাহত বিজয়ের সংবাদ পাওয়ার পর মুসা বিন নুসায়ের যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন, তখন মুসা তাঁকে বললেন, 'তারিক! খলীফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক তোমার এই বীরত্বপূর্ণ সংবাদ পেয়ে তোমাকে পুরস্কার হিসেবে আল-আন্দালুসের প্রশাসন-দায়িত্বের চেয়ে বেশি কিছু দিতে পারবেন না। সুতরাং প্রজ্ঞা ও সহনশীলতার সঙ্গে তুমি তা গ্রহণ করে নাও।' উত্তরে তারিক বিন যিয়াদ বললেন, 'হে মহান আমীর! আল্লাহর শপথ! আমি তো ততক্ষণ পর্যন্ত এ পথ হতে ফিরে আসবো না, যতক্ষণ না আমার ঘোড়ার পদদলিত হয়ে আটলান্টিকের জলসীমা স্পর্শ করবে।' (তারিক বিন যিয়াদের উদ্দেশ্য ছিল উত্তর আটলান্টিক অর্থাৎ আল-আন্দালুস উপদ্বীপের উত্তর দিকের সীমানা)। অথবা তারিকের কর্মদক্ষতা ও রণকুশলতায় মুগ্ধ হয়ে মুসা বিন নুসায়ের আগেই এই উচ্চপদ দিতে চেয়েছিলেন। বিপরীতে তারিকের হৃদয়ে ছিল না কোনো নেতৃত্ব বা ক্ষমতার মোহ; বরং তাঁর হৃদয়জুড়ে ছিল আল্লাহর রাহে জিহাদ করার অদম্য বাসনা। দ্বীনপ্রচারের এ পথ ব্যতীত অন্য কিছুতেই তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না; হোক তা সুবিশাল উপসাগরের মাঝ-মাঝখানের জীবন।
টিকাঃ
১৮. ড. ফারুক মারমারী, আল-আন্দালুস, পৃ : ২১।
১৯. মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম, আল-আন্দালুস, পৃ: ৩১।