📄 সারিয়্যায়ে তরীফ বিন মালিক : আন্দালুসে প্রথম ইসলামী অভিযান
খলীফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের অনুমতি পাওয়ার মাত্র মূসা বিন নুসাইর চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন এবং তরীফ বিন মালিকের নেতৃত্বে পাঁচশ সৈনিকের একটি বাহিনী প্রস্তুত করলেন। তরীফ নিজেও বার্বার বংশোদ্ভূত ছিলেন। তিনি ৮৯ হিজরীর রমযান মাসে (৭১০ খৃষ্টাব্দে) চারটি জাহাজে করে পাঁচশ সৈন্য নিয়ে আন্দালুস অভিমুখে রওয়ানা হলেন। এই বাহিনীর মধ্যে একশ ছিল অশ্বারোহী এবং চারশ পদাতিক।
তারা দক্ষিণ আন্দালুসে অবতরণ করলেন। তরীফ বিন মালিক তাঁর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করলেন এবং ওই এলাকার পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন। তিনি যে দ্বীপে প্রথম অবতরণ করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাঁর নামানুসারে এর নাম হয় ‘তরীফ দ্বীপ’। অভিযান শেষ করে তিনি মূসা বিন নুসাইরের কাছে ফিরে এসে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন। এরপর দীর্ঘ এক বছর ধরে মূসা বিন নুসাইর পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে সাত হাজার যোদ্ধার একটি বাহিনী তৈরি করলেন।
টিকাঃ
৪৯. দেখুন: হিয়াস্যী, আওয়াফুল ফুতূহ, পৃ: ৭২ ও মাক্বারী, নাফহুত তীব, ১/২৪৪।
৫০. হিয়াস্যী, আওয়াফুল ফুতূহ, পৃ: ৩৬ ও হুসাইন মুনিস, ফাতহুল আন্দালুস।
📄 আন্দালুস বিজয় এবং জুলিয়ান ও ইহুদিদের সহায়তা
আন্দালুস বিজয় প্রসঙ্গে অনেক ইতিহাসগ্রন্থে সিউটা-প্রশাসক জুলিয়ানের নাম আলোচিত হয়েছে এবং তাঁর সহায়তাকেই মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, মূসা বিন নুসাইর অনেক আগে থেকেই এই অভিযানের পরিকল্পনা করছিলেন। জুলিয়ানের প্রস্তাব সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল মাত্র। ইহুদিদের পক্ষ থেকে মুসলিম বাহিনীকে সহায়তার যে দাবি করা হয়, তাও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। কারণ:
১. প্রাচীন আরবী ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে ইহুদিদের সহায়তার কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই।
২. এটি একটি নিখাদ ইসলামী পরিকল্পনা ছিল যা জুলিয়ানের প্রস্তাবের পূর্বেই করা হয়েছিল।
৩. মুসলিম বাহিনী কোনো শহর জয় করার পর সেখানে ইহুদিদের বসবাস দেখতে পেলে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করত, যার অর্থ আগে থেকে তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
টিকাঃ
১. লেখক অজ্ঞাত, আখবারুন মাজমুয়া, পৃ: ২১-২২।
১. গিসানউদ্দীন ইবনুল খতীব, আলহাজ্জাতু কী আখবারি গারনাতা, ১/১০১।