📘 আন্দালুসের ইতিহাস 📄 আফ্রিকায় ইসলামের অবস্থান সুদৃঢ়করণে মূসা বিন নুসায়েরের প্রচেষ্টা

📄 আফ্রিকায় ইসলামের অবস্থান সুদৃঢ়করণে মূসা বিন নুসায়েরের প্রচেষ্টা


মাগরিবের গভর্নর হওয়ার পর মূসা বিন নুসাইরের সর্বপ্রথম চিন্তা ও পরিকল্পনা ছিল এ অঞ্চলে ইসলামের অবস্থানকে সুদৃঢ় করা। আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, এ অঞ্চলের জনসাধারণ ইতঃপূর্বে একাধিকবার মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। তাই এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর প্রথম কর্তব্য ছিল এ বিষয়টি অনুধাবন করা যে, কেন তারা বারবার ধর্মত্যাগ করে? এবং কেনইবা তারা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চায়?

তাদের এই ধর্মত্যাগের কারণ অনুসন্ধানের পর মূসা বিন নুসাইর দু'টি বিষয় খুঁজে পেলেন; বরং বলা ভালো, পূর্ববর্তীদের কর্মপন্থায় দু'টি ত্রুটি তাঁর চোখে ধরা পড়ল। প্রথম ত্রুটিটি হলো, হযরত উকবা বিন নাফে' রাযি. ও তাঁর উত্তরসূরিগণ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাঁদের বিজয়াভিযান পরিচালনা করেছিলেন। উকবা বিন নাফে' রাযি. একটি জনপদ জয় করার পর বিজিত অঞ্চলে মুসলিম বাহিনীর অবস্থান সুদৃঢ় না করেই আরও গভীরে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর অন্যান্য জাতি এবং নতুন অঞ্চল বিজয়ে মনোনিবেশ করেছিলেন। আমাযিগ গোষ্ঠী এ বিষয়টি খেয়াল করে বিদ্রোহ শুরু করে এবং হযরত উকবা রাযি.-এর পিছু নিয়ে তাঁকে অবরোধ ও শহীদ করে দিয়েছিল। এ বিষয়টিকে আমলে নিয়ে মূসা বিন নুসাইর রহ. অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণভাবে এবং হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-এর ন্যায় সতর্কতামূলক কৌশল অবলম্বন করে তাঁর অভিযানগুলো শুরু করলেন। প্রতিটি পদক্ষেপের পর প্রথমে তিনি নিজের পূর্বের অবস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেন, এরপর নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন। এভাবে সতর্কতার সঙ্গে বীরত্বব্যঞ্জক অভিযান পরিচালনা করার ছয়-সাত বছরের মধ্যে আল্লাহ্ পাক তাঁর হাতে পুনরায় এ অঞ্চলের পূর্ণাঙ্গ বিজয় দান করলেন। অথচ উকবা বিন নাফে' রাযি. মাত্র কয়েক মাসেই এ সুবিশাল অঞ্চল জয় করেছিলেন।

দ্বিতীয় কারণটি হলো, তিনি দেখতে পেলেন, এ অঞ্চলের অধিবাসীগণ ইসলাম ও মুসলমানদের শিক্ষাকে যথার্থভাবে অনুধাবন করেনি; লাভ করেনি ইসলামের সঠিক শিক্ষা। তাই তিনি তাদেরকে ইসলামের শিক্ষা প্রদানে মনোযোগী হলেন এবং শাম ও হেজায থেকে তাবেয়ী আলিমদেরকে নিয়ে এসে এ অঞ্চলের জনসাধারণের জন্য দ্বীন শিক্ষার ব্যবস্থা করলেন। ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ইসলামের প্রকৃত রূপটি বুঝতে পারল, ইসলামকে মনে-প্রাণে ভালোবাসতে শিখল। দলে দলে তারা ইসলামের পতাকাতলে শামিল হলো। যারা একসময় মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করত, তারাই এবার ইসলামের শ্রেষ্ঠ সৈনিকে পরিণত হলো। এভাবে মূসা বিন নুসাইর উত্তর আফ্রিকার ইসলামের ভিত্তিকে দৃঢ় ও সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন।

টিকাঃ
** ইবন আব্দুল্লাহ, আলবায়ানুল মুগরিব, ১/৪৬, ইবনে খালদুন, তারীখে ইবনে খালদুন, ৬/১২০, মাক্কারী, নফহুত তীব, ১/১৬৬ ও আল মাররাকুশী, আল মু'জিব ফি আখবারি মাগরিবিল আন্দালুস, ১/১৫২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px