📄 আল্লাহর রাহে খরচের আকাঙ্ক্ষা
অষ্টম হিজরী সাল।
সাইফুল বাহার যুদ্ধে যোগদান করেছে মুসলমানদের একটি ছোট্ট বাহিনী।
এই তিনশ' সদস্যের বাহিনীর মধ্যে আবু বকর (রা) ও উমর (রা) ছিলেন। আর ছিলেন মদীনার খাজরাজ সর্দার সা'আদ বিন উবাদাহর ছেলে কায়েস (রা)।
এই মুসলিম বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন আবু উবায়দাহ ইবনুল যাররাহ (রা)।
অভিযানকালে মুসলিম বাহিনীর রসদ ফুরিয়ে গেলে ভয়ানক সংকটে পড়ল তারা।
এই অবস্থা দেখে কায়েস উট ধার করে এনে সবার জন্যে জবাই করতেন। এভাবে তিনি তিন দিনে ৯টি উট ধার করে জবাই করার পর আবু বকর ও উমর চিন্তিত হয়ে পড়লেন এবং অধিনায়ক আবু উবায়দাহ ইবনুল যাররাহকে গিয়ে বললেন, 'কায়েস এভাবে যদি প্রতিদিন উট ধার করে এনে জবাই করতে থাকে, তাহলে তার পিতার সব সম্পদ সে এখানেই শেষ করে দেবে। আপনি তাকে উট জবাই থেকে বারণ করুন।'
আবু উবায়দা (রা) কায়েসকে সে মুতাবিক নির্দেশ দিলেন।
যুদ্ধ থেকে মদীনায় ফেরার পর কায়েস (রা) পিতার কাছে মুসলিম বাহিনীর রসদ সংকট ও দুঃখ-দুর্দশার কথা জানালেন।
পিতা তাকে বলল, তুমি উট যোগাড় করে সকলের জন্যে জবাই করতে পারতে। কায়েস (রা) বললেন, পর পর তিন দিন আমি তাই করেছি। কিন্তু আবু বকর (রা) ও উমর (রা) এই কথা বলায় অধিনায়ক আবু উবায়দা (রা) আমাকে উট জবাই করতে বারণ করেন।
ক্ষোভ ও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লেন সা'আদ (রা) ইবনে উবাদাহ। তিনি ছুটলেন মহানবীর কাছে।
মহানবী (সা) তখন বসেছিলেন। সা'আদ (রা) তাঁর পেছনে এসে দাঁড়ালেন এবং অভিমান-ক্ষুব্ধ ও আবেগ-জড়িত কণ্ঠে মহানবী (সা)-কে বললেন, "ইবনে আবু কুহাফাহ এবং ইবনে খাত্তাব-এর পক্ষ থেকে কেউ জবাব দিক যে, তারা আমার পুত্রকে কেন বখিল বানাতে চায়?"
📄 ‘আপনি আচরি ধর্ম’
আলী (রা) তখন বিশাল সাম্রাজ্যের শাসক।
আলী (রা) জ্ঞানের দরজা।
ন্যায়দণ্ডের এক আপোষহীন রক্ষক তিনি।
মদীনার এক শীতের রাত।
শীতে ঠক্ ঠক্ করে কাঁপছেন আমীরুল মুমিনীন, বিশাল এক সাম্রাজ্যের শাসক আলী (রা)। শীত নিবারণের উপযুক্ত কাপড় তাঁর নেই।
অথচ তাঁর রাষ্ট্রীয় খাজাঞ্চীখানায় প্রচুর শীতবস্ত্র। বরং সে খাজাঞ্চীখানা তাঁরই হাতের মুঠোয়।
কিন্তু তা থেকে একটি কম্বল নেবার জন্যে তাঁর হাত সেদিকে প্রসারিত হতে পারছে না। কারণ খাজাঞ্চীখানা জনগণের। তিনি তো রক্ষক মাত্র। সবার সাথে তাঁর নামে যেটুকু বরাদ্দ হবে, তাই শুধু তাঁর। অপেক্ষা করতে হবে তাকে সেই বরাদ্দের।
তাঁর আপোষহীন ন্যায়দণ্ড সদা উত্থিত ছিল। মানুষের জন্যে শুধু নয়, তাঁর নিজের জন্যেও। আপনি আচরি ধর্ম তিনি অপরে শিখিয়েছেন।