📄 জীবন দিয়ে আদব রক্ষা
সাহাবী বারা (রা) বিনা মা'রুর পুত্র বশর বিন বারা। প্রাণবন্ত এক নবীন যুবক সে।
ইসলামের যুগ-সন্ধিক্ষণের ঘটনা। আকাবায় শপথ গ্রহণকারীদের একজন তিনি। বদর, উহুদ ও খন্দকের লড়াই-এরও তিনি এক যোদ্ধা।
খাইবার যুদ্ধের পর এক ঘটনায় তিনি মহনবীর প্রতি আদব প্রকাশে এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন।
এক ইহুদীনির দাওয়াত গ্রহণ করেছেন মহানবী (সা)। সাহাবীদের নিয়ে তিনি খেতে বসেছেন।
সাহাবীদের মধ্যে বশর বিন বারা রয়েছেন। খাওয়া শুরু করেছেন তিনি। গোশতের সাথে বিষ মেশানো আছে বুঝতে পেরেই মহানবী (সা) খেতে নিষেধ করলেন সবাইকে।
কিন্তু বশর বিন বারা বিষযুক্ত গোশতের টুকরা গিলে ফেলেছেন।
গোশতের টুকরো মুখে দিয়ে গোশতের স্বাদ থেকে বারাও বুঝতে পেরেছিলেন যে, গোশতে কিছু ঘটেছে। মনে হলো, গোশতের টুকরো তিনি উগরে ফেলেন। কিন্তু দস্তরখানায় মহানবীর সামনে এইভাবে উগরে ফেলাকে বেআদবী মনে করলেন এবং গিলে ফেললেন গোশতের টুকরা।
এই গোশতের বিষক্রিয়াতেই বশর বিন বারা ইন্তিকাল করেন。
📄 খাদেমের সাথে ব্যবহার
আনাস বিন মালিক মহানবীর ফায়-ফরমাশ শোনে।
মহানবী (সা) হিজরত করে মদীনা আসার পর পরই আনাসের মা উম্মে সুলাইম ১০ বছরের আনাসকে মহানবীর কাছে পেশ করে বলেন, আমার এ কলিজার টুকরা আপনার খেদমতে হাজির থাকবে, আপনার ফায়-ফরমাশ শুনবে। আপনি তাকে গ্রহণ করুন।
তারপর থেকে রাত এবং মধ্যদিনের একটা অংশ বাড়িতে কাটানো ছাড়া ফজরের পূর্ব থেকে গোটা সময় আনাস কাটিয়েছেন মহানবীর খেদমতে। অনেক কথা ও কাহিনীর আকর ছিলেন এই আনাস ইবনে মালিক (রা)।
একদিনের কথা।
মহানবী (সা) কোন কাজের নির্দেশ দিলেন আনাসকে। আনাস আদেশ তামিলের জন্যে বেরিয়ে গেল। পথে একদল ছেলেকে খেলতে দেখে সে দাঁড়িয়ে গেল এবং খেলা দেখতে লাগল। মহানবীর আদেশের কথা বেমালুম ভুলে গেল সে।
অনেক দেরী দেখে আনাসের খোঁজে বেরুলেন মহানবী (সা) নিজে। খেলা দেখায় মশগুল আনাসকে দেখতে পেলেন তিনি।
আল্লাহর রাসূলকে দেখে আনাসের মনে পড়ে গেল আল্লাহর রাসূলের আদেশের কথা। কিন্তু ভয় পেয়ে পালানোর মত বেয়াদবী করল না আনাস। লজ্জিত হয়ে আদবের সাথে দাঁড়িয়ে থাকল।
মহানবী (সা) এসে স্নেহের সাথে আনাসের হাত হাতে নিলেন এবং স্মরণ করিয়ে দিলেন তাঁর আদেশের কথা।
আনাস ছুটল তার কাজ নিয়ে। মহানবী (সা) যতক্ষণ আনাস না ফিরল, ততক্ষণ কাছেই একটা দেয়ালের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকলেন।
আনাস (রা) বলেন, "আমি দশ বছর তাঁর খেদমত করেছি। কিন্তু নবী (সা) আমার উপর কোন সময় অসন্তুষ্ট হননি এবং আমার উপর কোন দাপটও দেখাননি। এমনকি কোন সময় এমন কথাও বলেনি যে, অমুক কাজ কেন করেছ বা অমুক কাজ কেন করনি।"
📄 যে খাদ্য বরকতপূর্ণ
মদীনার খাজরাজ গোত্রের পল্লী। বনু নাজ্জারদের একটি বাড়ী।
আনাস (রা) ইবনে মালিকের সৎ-পিতা আবু তালহা আনাসের মাকে এসে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল (সা) আজ অভুক্ত আছেন। কিছু খাদ্যের ব্যবস্থা কর। সঙ্গে সঙ্গেই উম্মে সুলাইম আনাসকে পাঠালেন।
আনাস পৌঁছলেন।
মহানবী (সা) তখন মসজিদে নববীতে বসেছিলেন। আনাসকে দেখেই আল্লাহর রাসূল (রা) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'আবু তালহা তোমাকে পাঠিয়েছেন?' 'জি আল্লাহর রাসূল!' বলল আনাস। 'খাওয়ার জন্যে?' আবার জিজ্ঞাসা করলেন মহানবী (সা)।
'জি, হ্যাঁ', উত্তর দিল আনাস।
মহানবী (সা) উপস্থিত সাহাবীদের নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং সকলকে নিয়ে এলেন আবু তালহার বাড়ীতে।
মহা খুশী হলেন আবু তালহা। কিন্তু ভীষণ চিন্তায় পড়লেন তিনি। যেটুকু খাবার আছে, এত মানুষের কুলোবে না।
উম্মে সুলাইমের (রা) মধ্যে কিন্তু চিন্তার লেশমাত্র নেই। তিনি স্বামীকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, 'এটুকু খাদ্য এত লোকের কিভাবে হবে, সেটা আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল ভালো বুঝেন।'
যতটুকু খাবার ছিল তা মহানবী (সা)-এর কাছে পেশ করা হলো। সেটুকু খাদ্য এতটাই বরকত পূর্ণ হলো যে, মহানবী এবং উপস্থিত সাহাবীরা সবাই পেট পুরে খেলেন।
📄 ফিরিশতার সাহায্য
উহুদ যুদ্ধে যারা প্রাণান্ত লড়াই করেছেন, হারিস (রা) বিন সিমমা, তাদের একজন।
যুদ্ধের চরম বিপর্যয় মুহূর্ত। হযরত হারিস (রা) যুদ্ধের এক পর্যায়ে মহানবী (সা)-কে অরক্ষিত অবস্থায় দেখতে পেলেন। ছুটলেন তাঁর কাছে। যুদ্ধের তীব্রতা একটু কমলে মহানবী (সা) হযরত হারিস (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি আবদুর রহমান বিন আওফকে দেখেছ?
হারিস উদ্বেগের সাথে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, পাহাড়ের দিকে কাফিরদের এক ঘেরাও-এর মধ্যে তাকে আমি দেখেছি। আমি তাঁর সাহায্যের জন্যেই যাচ্ছিলাম। কিন্তু আপনার দিকে নজর পড়তেই আপনার কাছে ছুটে এসেছি। রাসূল (সা) হারিস (রা)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, "আবদুর রহমানকে ফেরেশতারা রক্ষা করছেন।"
কিছুক্ষণ পর হারিস (রা) ছুটলেন আবদুর রহমান (রা) বিন আওফের দিকে। তাঁর কাছে পৌঁছে দেখলেন, মুশরিকদের ৭টি লাশ তাঁর চারদিকে পড়ে আছে। তিনি আবদুর রহমান (রা) বিন আওফকে জিজ্ঞাসা করলেন, "এদের সকলকেই কি আপনি হত্যা করেছেন?"
আবদুর রহমান (রা) জবাব দিলেন, "আমি আরতাত এবং অমুককে খতম করেছি। অবশিষ্ট ৫ জন মুশরিকের হত্যাকারী আমার নজরে পড়েনি।”
শুনে হারিস (রা) স্বাগত কণ্ঠে বললেন, "আল্লাহর রাসূল (সা) এ কথাই বলেছিলেন।"