📘 আমরা সেই জাতি > 📄 বিশ্বের প্রথম ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র’

📄 বিশ্বের প্রথম ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র’


ইয়েমেন সীমান্ত ঘেঁষে নাজরান একটা বিশাল ভূভাগ। আরবের সবচেয়ে বড় খৃস্টান কেন্দ্র হিসেবে এটা পরিচিত। নাজরানের বিশপের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে একটা চিঠি পাঠালেন মহানবী (সা)।
চিঠি পেয়ে নাজরানের গীর্জার প্রধান বিশপ কি করণীয় তা ভেবে বিচলিত হয়ে পড়লেন। অনেকের সাথে পরামর্শ করলেন। কেউ বললেন, 'একালে একজন ভাববাদীর আগমন ঘটবে, একথা অনেক দিন থেকে শুনে আসছি। আপনিই কর্তব্য ঠিক করুন।' তবে সকলেই এক বাক্যে বলল, এসব ধর্ম সম্পর্কিত জটিল সমস্যা, আপনাদের ন্যায় ধর্মগুরুরাই এর সমাধান করতে পারেন।'
নাজরানের একটা নিয়ম হলো, কোন গুরুতর সংকট বা ভয়ংকর কোন বিপদ উপস্থিত হলে গীর্জার উপর চট ঝুলিয়ে দিয়ে অবিরাম ঘণ্টা বাজানো হয়। বিশপ ভেবে-চিন্তে গীর্জায় চট ঝুলানো ও ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দিলেন। নাজরান অঞ্চলের ৭৩টি গ্রাম নিয়ে গীর্জার সাম্রাজ্য। গীর্জার বিপদ-ঘণ্টা শুনে হাজার হাজার লোক ছুটে এল গীর্জায়।
গীর্জার সামনে বিশাল প্রান্তর লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। লক্ষাধিক লোক সামনে রেখে গীর্জার ব্যালকনিতে দণ্ডায়মান হলেন প্রধান বিশপ আয়হারা। অসীম সম্মানের পাত্র তিনি। নাজরানবাসীর উপর তাঁর অতুল প্রভাব। তিনি লোকদের উদ্দেশ্য করে মদীনা থেকে প্রাপ্ত মহানবীর পত্র পাঠ করে সবাইকে শুনালেন এবং করণীয় স্থির করার আহ্বান জানালেন।
চিঠি পাঠের পর আলোচনা করে স্থির হলো, প্রধান বিশপ ও যাজক নাজরানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে অবিলম্বে মদীনা যাত্রা করবেন। তাঁরা সেখানে গিয়ে নবধর্মের খবর নিয়ে ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনার পর করণীয় ঠিক করবেন। এই সিদ্ধান্ত অনুসারে নাজরানের ৬০ জন যাজক ও প্রধান ব্যক্তির একটা প্রতিনিধি দল মদীনা এল।
মদীনা এসে প্রথমেই তারা মসজিদে নববীতে উপাসনা করার অনুমতি চাইলেন। মহানবী (সা) অস্বাভাবিক হলেও এ অনুমতি তাদের দিলেন। নাজরান প্রতিনিধিরা নিশ্চিত ধরে নিয়েছিল এ অনুমতি তারা পাবে না। অনুমতি পাওয়ায় তারা বিস্মিত হলো।
মদীনা আসার আগেই নাজরান প্রতিনিধিরা পরিকল্পনা এঁটেছিল মহানবীর সাথে 'মোলাআনা' করার। অর্থাৎ পরস্পর এইভাবে কসম করা যে, 'আমি মিথ্যাবাদী হলে আমার উপর আল্লাহর লানত হোক।'
কিন্তু মহানবীর সাথে সাক্ষাত হবার পর তাঁর মুখ দেখে তাদের হৃদয় কেঁপে উঠল। তাঁরা সকলেই একমত হলো যে, তাঁর সাথে 'মোলাআনা' করে কাজ নেই। প্রকৃতই উনি যদি নবী হন, তাহলে আমাদের সর্বনাশ হবে।
তারপর নাজরান প্রতিনিধিদল দীর্ঘ সময় ধরে রাসূলুল্লাহর সাথে ধর্মের জটিল সব প্রসংগ নিয়ে আলাপ করল। তারা বুঝে গেল, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলাপ করে তাঁর সাথে সুবিধা করা সম্ভব নয়। ওদিকে 'মোলাআনা' করার আশা তাদেরকে আগেই ত্যাগ করতে হয়েছে।
এই অবস্থায় নাজরান প্রতিনিধিদল মদীনার সাথে রাজনৈতিক সন্ধির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তারা আন্তর্জাতিক আরব গণতন্ত্রের (International Arab Federation) মেম্বার হবার আগ্রহের কথা জানালেন এবং এই কমনওয়েলথের সদস্য হবার জন্য তাদের কি দিতে হবে তা ঠিক করে দেয়ার জন্য মহানবীকেই অনুরোধ করলেন।
এরপর মহানবী (সা) নাজরানবাসীদের উদ্দেশ্যে লিখিতভাবে নিম্নোক্ত সনদ-ঘোষণা করলেন: "তাদের (নাজরানবাসীদের) উপস্থিত, অনুপস্থিত, স্বজাতীয় ও অনুগত সকলের জন্য আল্লাহর নামে তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের প্রতিজ্ঞা এই যে, সকল প্রকার সম্ভব চেষ্টার দ্বারা আমরা তাদের নিরাপদ রাখব। তাদের দেশ, তাদের বিষয়-সম্পত্তি ও ধন-সম্পদ এবং তাদের ধর্ম ও ধর্ম সংক্রান্ত যাবতীয় আচার-ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে অক্ষুণ্ণ অব্যাহত ও নিরাপদ থাকবে। তাদের কোন সমাজগত আচার-ব্যবহারের কোন বিষয়গত স্বত্বাধিকারের এবং কোন ধর্মগত সংস্কারের উপর কখনও কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করা হবে না। কম বেশী যা কিছু তাদের আছে, তা সম্পূর্ণরূপে তাদেরই থাকবে। মুসলমানরা তাদের নিকট থেকে অর্থবিনিময় ব্যতীত কোন প্রকার উপকার গ্রহণ করতে পারবে না। তাদের কাছ থেকে 'ওশর' (ফসলের উপর অবশ্য দেয় অংশ) গ্রহণ করা হবে না, তাদের দেশের মধ্য দিয়ে সৈন্য চালনা করা হবে না। আল্লাহর নামে তাদের আরও প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে যে, কোন ধর্মযাজককে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হবে না, কোন পুরোহিতকে পদচ্যুত করা হবে না। কোন সন্ন্যাসীর সাধনায় কোনও প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে না। যত দিন তারা শান্তি ও ন্যায়ের মর্যাদা রক্ষা করবে, ততদিন এই সনদের লিখিত সব শর্ত সমানভাবে বলবৎ থাকবে।"
মদীনার সনদের পর পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতিগত সহাবস্থানের এ এক অনন্য দলিল। মদীনার সনদ ছিল কিছুটা স্থানীয় পর্যায়ের, কিন্তু এই 'নাজরান সনদ' একটা কমনওয়েলথ ব্যবস্থার অধীনে জাতিগত সহাবস্থানের আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক দলিল।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 আল্লাহর নিয়ামত (ইসলাম) যখন সম্পূর্ণ হলো

📄 আল্লাহর নিয়ামত (ইসলাম) যখন সম্পূর্ণ হলো


বিদায় হজ্বের দীর্ঘ অভিভাষণ মহানবী (সা) শেষ করলেন এই কথা বলে “যারা উপস্থিত আছে, তারা অনুপস্থিতদেরকে আমার এ সকল ‘পয়গাম’ পৌঁছে দেবে। হয়তো উপস্থিতদের কতক লোক অপেক্ষা অনুপস্থিতদের কতক লোক এর দ্বারা অধিকতর উপকৃত হবে।”
আল্লাহর বাণী, সত্যের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার মহামিশন যেন তিনি শেষ করলেন। তাঁর মুখমণ্ডল বেহেশতী পুণ্য প্রভায় দীপ্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর কণ্ঠস্বর সত্যের তেজে ক্রমশঃই দৃপ্ততর হয়ে উঠছে। তাঁর চোখ দু'টিতে পরম প্রভুর জন্য ভক্তি গদগদ অসীম আকুলতা।
মুখ উপরে তুলে তিনি চাইলেন উর্ধাকাশে এবং উচ্চকণ্ঠে বলতে লাগলেন, ‘হে আল্লাহ, আমি কি তোমার বাণী পৌঁছে দিয়েছি, আমি কি নিজের কর্তব্য সম্পাদন করেছি?’
আরাফাতের গোটা প্রান্তর থেকে লাখ কণ্ঠে ধ্বনি উঠল, ‘নিশ্চয় ইয়া রাসূলাল্লাহ্।’
মহানবী (সা) তখন আরও আবেগ-ভরা কণ্ঠে পরম প্রভুর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘হে আমার আল্লাহ, আপনি শ্রবণ করুন, আপনি সাক্ষী থাকুন, এরা স্বীকার করছে, আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি।"
মহানবী (সা) এরপর দৃষ্টি ফিরিয়ে চাইলেন আরাফাতের লাখ জনতার দিকে। বললেন, “হে লোক সকল, আমার সম্পর্কে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে। তোমরা সে প্রশ্নের কি জবাব দেবে জানতে চাই।"
আরাফাতের পর্বত ও প্রান্তর জুড়ে ধ্বনিত হলো লাখো কণ্ঠের আবেগ-মথিত উত্তর, "আমরা সাক্ষ্য দেব, আপনি আমাদের পরম প্রভু আল্লাহর বাণী আমাদের পৌঁছে দিয়েছেন, আপনি আপনার কর্তব্য সম্পূর্ণ পালন করেছেন।"
মহানবী (সা) তখন অপূর্ব এক ভাবে বিভোর। তিনি আকাশের দিকে অঙ্গুলি তুলে উচ্চ কণ্ঠে বলতে লাগলেন, ‘প্রভু হে শ্রবণ করুন, প্রভু হে সাক্ষী থাকুন, হে আমার আল্লাহ সাক্ষী থাকুন।’
শেষ হয়েছে আরাফাতের বিদায় হজ্বের ভাষণ।'
শেষ হলো উপস্থিত লাখো জনতার সাথে তাঁর শেষ কথা। পরম প্রভুকেও সাক্ষী রাখলেন তিনি তার মিশনের সম্পূর্ণতা বিষয়ে।
বাকী ছিল পরম প্রভু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের তরফ থেকে পরম একটি সুসংবাদের।
দয়াময় আল্লাহ কি পারেন তার প্রিয়তম বান্দাহ ও প্রিয়তম রাসূলকে তাঁর পরম সন্তুষ্টির কথা না জানিয়ে?
আরাফাতের ভাষণ শেষ হবার পরপরই মহানবীর প্রতি অবতীর্ণ হলো মর্তের বান্দাদের জন্য মহিমাময় প্রভুর পরম সন্তোষের বাণী আল-কুরআনের এই আয়াত :
"তোমাদের মঙ্গল হেতু তোমাদের দ্বীনকে আজ পূর্ণ, পরিণত করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতকে সুসম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীনরূপে মনোনীত করে দিলাম।"

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 একটি বক্তৃতা ও কাব্য প্রতিযোগিতা

📄 একটি বক্তৃতা ও কাব্য প্রতিযোগিতা


মক্কা বিজয় ও হুনাইন যুদ্ধের পর আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মদীনায় প্রতিনিধিদল আসার হিড়িক পড়ে গেল। কেউ এল ইসলাম গ্রহণের জন্যে, কেউ এল মহানবীর সাথে দেখা করে সব বিষয় অবহিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেবার লক্ষ্যে।
আরবের একটি বড় ও প্রভাবশালী গোত্র বনু তামিম। সে গোত্র থেকে প্রায় ৮০ জনের একটি প্রতিনিধিদল এল মদীনায়।
বনু তামিমের যেমন অর্থ-বিত্ত আছে, তেমনি ভাষা ও কবিত্বের প্রতিভা নিয়ে তারা দারুণ অহংকারী। এ ব্যাপারে গোটা আরবের কাউকেই তারা পাত্তা দেয় না। তারা মনে করে ভাষা ও কবিত্বের প্রতিযোগিতায় তাদের কোন প্রতিদ্বন্দী নেই।
মহানবীর (সা) সাথে আলোচনায় বসার পর তারা মহানবীর (সা) কাছে প্রস্তাব করল, আপনাদের সাথে প্রথমে আমাদের কীর্তিগাথা নিয়ে কাব্য প্রতিযোগিতা হবে। যদি তাতে আপনারা জিতে যান, তাহলে ইসলাম নিয়ে কথা বলব।
উত্তরে মহানবী (সা) বললেন, গর্ব-অহংকার প্রদর্শন এবং কবিতাবাজির জন্যে আমি প্রেরিত হইনি। তবে তোমরা যদি পীড়াপীড়ি কর, তাহলে শুন, এক্ষেত্রেও আমরা দুর্বল ও অসমর্থ নই।
শুরু হলো বক্তৃতা ও কাব্য প্রতিযোগিতা। বনু তামিমের পক্ষ থেকে দাঁড়ালেন তাদের শ্রেষ্ঠ ভাষাশিল্পী ও বাগ্মী আতারফ বিন হাজিব। তিনি তার স্বগোত্রের মান-মর্যাদা, ক্ষমতা-প্রভাব, বংশ-গৌরব, বিত্ত-বৈভব, বীরত্ব ও মেহমানদারী নিয়ে অলঙ্কৃত ভাষায় ওজস্বী বক্তৃতা দিয়ে বিজয়ের গর্ব নিয়ে বসে পড়লেন।
তিনি বসলে মহানবী (সা) তাঁর সাহাবী সাবিত বিন কায়েসকে আতারফের জবাব দিতে নির্দেশ দিলেন।
সাবিত বিন কায়েস দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা কীর্তন, রিসালাত ও দাওয়াতে হকের বর্ণনা, আল-কুরআনের অবতীর্ণ হওয়া এবং মুহাজির ও আনসারদের চরিত্র ও কাজ এমন অলংকারপূর্ণ ভাষায় বাগ্মিতার সাথে বর্ণনা করলেন যে, গোটা মজলিস মন্ত্রমুগ্ধের মত নিশ্চুপ হয়ে গেল।
বক্তৃতা প্রতিযোগিতার পর শুরু হলো কাব্য প্রতিযোগিতা।
বনু তামিমের পক্ষ থেকে দাঁড়ালেন তাদের শ্রেষ্ঠ কবি যবরকান বিন বদর। তিনি তাঁর গোত্রের আকাশস্পর্শী প্রশংসা-সম্বলিত কবিতা পাঠ করলেন।
যবরকান বসলে মহানবী (সা) সাহাবী কবি হাসসান বিন সাবিতকে জবাব দেয়ার জন্যে উঠে দাঁড়াতে বললেন।
হাসসান বিন সাবিত উঠে দাঁড়িয়ে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং দাওয়াতে হক-এর উপর এমন ছন্দোবদ্ধ এবং মাধুর্যপূর্ণ ও প্রভাবশালী কবিতা পাঠ করলেন যে, যবরকানের কবিতা ম্লান হয়ে গেল।
শেষ হলো প্রতিযোগিতা।
গোটা মজলিস তখন নীরব-নিস্তব্ধ।
উঠে দাঁড়াল বনু তামিম-এর একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। উচ্চকণ্ঠে বললেন তিনি, "পিতার কসম! মুহাম্মাদের (সা) খতিব আমাদের খতিব থেকে আফজাল এবং তাঁর কবি আমাদের কবি থেকে উত্তম। তাঁদের কণ্ঠস্বর আমাদের কণ্ঠস্বর থেকে চিত্তাকর্ষক ও মিষ্টি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদাতের যোগ্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।"
এই ব্যক্তি কিরাসুল আকরা তামিমী। তিনি বনু তামিম-এর নেতা।
কিরাসুল আকরা থামতেই বনু তামিম প্রতিনিধি দলের সকল সদস্য একবাক্যে বলে উঠলেন, "আপনি সত্য বলেছেন, আপনি সত্য কথা বলেছেন।”
অতঃপর বনু তামিমের সকলে মহানবীর হাতে হাত রেখে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলেন।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 কবিতার বিনিময়ে আল কুরআন

📄 কবিতার বিনিময়ে আল কুরআন


আবু আকিল লাবিদ (রা) বিন রাবিয়াহ আমেরী আরবের জাহেলী যুগের একজন শ্রেষ্ঠ কবি। সেই যুগেও সবচেয়ে সম্মানিত কা'বাঘরে যে সাত কবির কবিতা টাঙ্গিয়ে রাখা হতো, তাদের একজন কবি লাবিদ।
কবি লাবিদের কয়েকটি কবিতা মহানবী (সা) খুবই পছন্দ করতেন। সেগুলোর মধ্যে জাহেলী যুগের লিখা হলেও একটা পংক্তি ছিল তাঁর খুবই পছন্দ। যার অনুবাদ—"সতর্ক থেকো, আল্লাহ ছাড়া সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।” স্বয়ং মহানবীর উক্তি: কবিদের কবিতার মধ্যে লাবিদের এই কবিতা খুবই ভালো।
সেই কবি লাবিদ বদলে গেল ইসলাম গ্রহণের পর। ৯ম হিজরী সালে ১১৩ বছর বয়সে মদীনায় এসে মহানবীর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি।
ইসলাম গ্রহণের পর আরও ৩২ বছর জীবিত ছিলেন কবি লাবিদ। এই দীর্ঘ সময়ে একটি অথবা দু'টি কবিতা লিখেন তিনি।
তখন খলিফা উমর ফারুকের খিলাফতের সময়।
খলিফা একদিন কবি লাবিদকে জিজ্ঞাসা করে পাঠালেন, 'ইসলামী যুগে তিনি কোন্ কবিতা রচনা করেছেন।'
কবি লাবিদ উত্তরে তাঁকে জানালেন, 'কবিতার বিনিময়ে আল্লাহ তাঁকে সূরা বাকারাহ এবং সূরা আলে-ইমরান প্রদান করেছেন।'
অর্থাৎ অপরূপ আল-কুরআন পাবার পর তিনি আর কবিতা রচনার প্রয়োজন অনুভব করেননি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00