📄 ‘আমি শহীদদের সাথে মিলিত হতে চললাম’
তায়েফের সাকিফ গোত্রের একজন প্রধান ব্যক্তি উরওয়া ইবনে মাসউদ মদীনা এলেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মহানবীর কাছে।
আরবের তৎকালীন প্রথা অনুসারে উরওয়ার অনেক স্ত্রী ছিল।
চারজনের বেশী স্ত্রী মুসলমানদের জন্যে তখন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আদেশ জানার সাথে সাথে উরওয়া চারজন স্ত্রী রেখে অন্যদের তালাক দিয়ে দিলেন।
ইসলাম গ্রহণের কয়েকদিন পর উরওয়া মহানবীর কাছে হাজির হলেন এবং বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমার স্বজাতীয়রা অজ্ঞতা ও অন্ধবিশ্বাসের অন্ধকারে ডুবে আছে। আপনি অনুমতি দিলে আমি ফিরে গিয়ে তাদের কাছে সত্য দ্বীনের দাওয়াত দিতে পারি।'
তায়েফের বনি সাকিফ তখনও ইসলামের ভয়ানক বৈরী।
উরওয়ার আবেদন শুনে মহানবী (সা) বললেন, 'উরওয়া, সে তো ভাল কথা। কিন্তু আমার আশংকা হচ্ছে, তোমার স্বজাতিরা তোমাকে হত্যা করবে।'
উরওয়া বললেন, 'আমার স্বজনরা আমাকে খুবই ভালবাসে।'
উরওয়া তায়েফ ফিরলেন।
এখন উরওয়া আগের সেই উরওয়া নেই। সে এখন সত্যের সৈনিক, আল্লাহর সৈনিক।
সত্যের প্রতি মানুষকে আহ্বান করার কাজ তিনি শুরু করলেন নির্ভীকভাবে, নিরলসভাবে।
অতি অল্প সময়ের মধ্যে উরওয়ার স্বজন-স্বজাতীয়রা উরওয়ার জান-দুশমনে পরিণত হলো। নিপীড়ন-নির্যাতন নেমে এল তাঁর উপর।
এমনকি নিজ বাড়ীতেও উরওয়ার পক্ষে একটু শান্তিতে-স্বস্তিতে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়াল।
একদিন উরওয়া তাঁর নিজ বাড়ির জানালায় দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা কীর্তন করছিলেন। লোকরা এসে তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে দাঁড়াল। শুরু হলো উরওয়ার প্রতি তীর ও পাথর বর্ষণ।
তীর ও পাথরের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে উঠল উরওয়ার দেহ। কিন্তু উরওয়ার মুখ মুহূর্তের জন্যেও বন্ধ হয়নি আল্লাহর প্রশংসা কীর্তন থেকে।
একটা তীর এসে উরওয়ার বক্ষ ভেদ করল। উরওয়ার মুখে উচ্চকণ্ঠে ধ্বনিত হলো 'আল্লাহু আকবার।'
তাঁর মুখে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি শেষ হবার সাথে সাথে উরওয়ার রক্তরঞ্জিত দেহ লুটিয়ে পড়ল মাটিতে।
তাঁর স্বজনরা মুমূর্ষু উরওয়ার কাছে এসে বিদ্রূপ কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল, 'এখন কেমন বুঝছ?'
উরওয়া উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, "সত্যের সেবায় ও দেশবাসীর কল্যাণে যে রক্ত উৎসর্গ করা হয়, তা শুভ এবং পুণ্যময়। আল্লাহ আমাকে এই সৌভাগ্যের অধিকারী করেছেন, সত্যের সেবায় জীবন দিয়ে আমি শহীদদের সাথে মিলিত হবার জন্যে চললাম।"
উরওয়ার কণ্ঠ নীরব হলো। সেই সাথে পরম আকাঙ্ক্ষিত শহীদী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন উরওয়া।
📄 ব্যবসা করতে গিয়ে হলেন মিশনারী
তারিক ইবনে আবদুল্লাহর একটি স্মৃতি কথা "আমি একদিন মক্কার 'মাজাজ' নামক বাজারে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় দেখলাম, একজন অত্যন্ত প্রিয়-দর্শন লোক বাজারের চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর বলছেন, 'হে মানব সকল, তোমরা বল আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে।
এই সঙ্গেই দেখলাম, আর একটা লোক তাঁর পশ্চাতে পশ্চাতে ঘুরছেন আর বলে বেড়াচ্ছেন, 'খবরদার, কেউ এর কথা শুনোনা। এ একটা ভয়ংকর যাদুকর, মস্ত একটা মিথ্যাবাদী।' এইসব কথা বলার সাথে সাথে পেছনের লোকটি তাঁকে পাথর ছুড়ে মারছেন।
আমি জিজ্ঞাসা করলে আমার সাথের একজন বয়স্ক লোক বললেন, প্রথম লোকটি হাশেম বংশের। তিনি নিজেকে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল বলে মনে করেন। আর দ্বিতীয় লোকটি তাঁর চাচা আবদুল ওজ্জা—আবু লাহাব।
এই ঘটনার অনেক বছর পরের কথা।
মদীনার বাইরে একটা খোরমা বাগানে আমরা বিশ্রাম নিচ্ছি। আমরা খেজুর কিনতে মদীনায় এসেছি।
আমরা যখন বাগানে বিশ্রামরত, তখন একজন লোক এসে আমাদের সালাম দিল।
তাঁর পরনে তহবন্দ এবং গায়ে চাদর। তিনি আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। তাঁর কণ্ঠ খুবই মধুর।
আমাদের সাথে একটা লাল রঙের উট ছিল। পরিচয় জিজ্ঞাসার পর তিনি লাল উটটি আমরা বিক্রি করব কিনা, কত দাম জিজ্ঞাসা করলেন।
বললাম, এত মণ খেজুর পেলে উটটা আমরা বিক্রি করতে পারি।
তিনি কোন প্রকার দর-কষাকষি না করে আমাদের দাবীকৃত মূল্যে উট কিনতে রাজী হলেন এবং উটের দড়ি ধরে টেনে উট নিয়ে চললেন নগরীর দিকে।
তিনি চলে যাবার পর আমাদের চেতনা হলো যে, একি করলাম আমরা? দাম না নিয়ে একজন অপরিচিত লোককে উট নিয়ে যেতে দিলাম।
আমাদের সাথে একজন বৃদ্ধ ছিলেন। তিনি বললেন, 'চিন্তা করো না। লোকটার মুখ পূর্ণ চন্দ্রের ন্যায় স্বর্গীয় সুষমায় উদ্ভাসিত। এমন লোক কখনই প্রবঞ্চক হতে পারে না। তোমরা নিশ্চিন্ত থাক, টাকার জন্যে আমি দায়ী রইলাম।'
অল্প কিছুক্ষণ পর নগরীর দিক থেকে একজন লোক আমাদের কাছে এলেন। তাঁর সাথে প্রচুর খেজুর। তিনি আমাদের বললেন, 'আমি রাসূলুল্লাহর নিকট থেকে এসেছি। উটের মূল্য বাবদ এই খেজুর তিনি পাঠিয়েছেন। ওজন করে নিন। আরও কিছু খেজুর তিনি পাঠিয়েছেন উপঢৌকন স্বরূপ আপনাদের খাওয়ার জন্যে। আপনারা গ্রহণ করলে তিনি খুশী হবেন।'
যথাসময়ে আমরা মদীনা প্রবেশ করলাম। পৌঁছলাম আমরা মসজিদে নববীর সামনে। দেখলাম সেই লোকটি মসজিদের মিম্বারে বসে লোকদের উদ্দেশ্যে কথা বলছেন। আমরা শেষের এই কয়টি কথা শুনতে পেয়েছিলাম, 'হে লোক সকল, অভাবগ্রস্ত ও কাঙ্গালদের দান কর। তোমাদের জন্যে এটা বিশেষ কল্যাণকর। স্মরণ রেখ, উপরের (দাতার) হাত নিম্নের (গ্রহীতার) হাত অপেক্ষা উত্তম। পিতা-মাতা ও অন্যান্য স্বজনদের প্রতিপালন কর।'
আমরা কয়েকদিন মদীনায় থাকলাম। আমরা সবাই ইসলাম গ্রহণ করে দেশে ফিরে এলাম। গিয়েছিলাম মদীনায় ব্যবসায়ী হয়ে, ফিরে এলাম দেশে ইসলামের প্রচারক হয়ে।
📄 বিশ্বের প্রথম ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র’
ইয়েমেন সীমান্ত ঘেঁষে নাজরান একটা বিশাল ভূভাগ। আরবের সবচেয়ে বড় খৃস্টান কেন্দ্র হিসেবে এটা পরিচিত। নাজরানের বিশপের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে একটা চিঠি পাঠালেন মহানবী (সা)।
চিঠি পেয়ে নাজরানের গীর্জার প্রধান বিশপ কি করণীয় তা ভেবে বিচলিত হয়ে পড়লেন। অনেকের সাথে পরামর্শ করলেন। কেউ বললেন, 'একালে একজন ভাববাদীর আগমন ঘটবে, একথা অনেক দিন থেকে শুনে আসছি। আপনিই কর্তব্য ঠিক করুন।' তবে সকলেই এক বাক্যে বলল, এসব ধর্ম সম্পর্কিত জটিল সমস্যা, আপনাদের ন্যায় ধর্মগুরুরাই এর সমাধান করতে পারেন।'
নাজরানের একটা নিয়ম হলো, কোন গুরুতর সংকট বা ভয়ংকর কোন বিপদ উপস্থিত হলে গীর্জার উপর চট ঝুলিয়ে দিয়ে অবিরাম ঘণ্টা বাজানো হয়। বিশপ ভেবে-চিন্তে গীর্জায় চট ঝুলানো ও ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দিলেন। নাজরান অঞ্চলের ৭৩টি গ্রাম নিয়ে গীর্জার সাম্রাজ্য। গীর্জার বিপদ-ঘণ্টা শুনে হাজার হাজার লোক ছুটে এল গীর্জায়।
গীর্জার সামনে বিশাল প্রান্তর লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। লক্ষাধিক লোক সামনে রেখে গীর্জার ব্যালকনিতে দণ্ডায়মান হলেন প্রধান বিশপ আয়হারা। অসীম সম্মানের পাত্র তিনি। নাজরানবাসীর উপর তাঁর অতুল প্রভাব। তিনি লোকদের উদ্দেশ্য করে মদীনা থেকে প্রাপ্ত মহানবীর পত্র পাঠ করে সবাইকে শুনালেন এবং করণীয় স্থির করার আহ্বান জানালেন।
চিঠি পাঠের পর আলোচনা করে স্থির হলো, প্রধান বিশপ ও যাজক নাজরানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে অবিলম্বে মদীনা যাত্রা করবেন। তাঁরা সেখানে গিয়ে নবধর্মের খবর নিয়ে ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনার পর করণীয় ঠিক করবেন। এই সিদ্ধান্ত অনুসারে নাজরানের ৬০ জন যাজক ও প্রধান ব্যক্তির একটা প্রতিনিধি দল মদীনা এল।
মদীনা এসে প্রথমেই তারা মসজিদে নববীতে উপাসনা করার অনুমতি চাইলেন। মহানবী (সা) অস্বাভাবিক হলেও এ অনুমতি তাদের দিলেন। নাজরান প্রতিনিধিরা নিশ্চিত ধরে নিয়েছিল এ অনুমতি তারা পাবে না। অনুমতি পাওয়ায় তারা বিস্মিত হলো।
মদীনা আসার আগেই নাজরান প্রতিনিধিরা পরিকল্পনা এঁটেছিল মহানবীর সাথে 'মোলাআনা' করার। অর্থাৎ পরস্পর এইভাবে কসম করা যে, 'আমি মিথ্যাবাদী হলে আমার উপর আল্লাহর লানত হোক।'
কিন্তু মহানবীর সাথে সাক্ষাত হবার পর তাঁর মুখ দেখে তাদের হৃদয় কেঁপে উঠল। তাঁরা সকলেই একমত হলো যে, তাঁর সাথে 'মোলাআনা' করে কাজ নেই। প্রকৃতই উনি যদি নবী হন, তাহলে আমাদের সর্বনাশ হবে।
তারপর নাজরান প্রতিনিধিদল দীর্ঘ সময় ধরে রাসূলুল্লাহর সাথে ধর্মের জটিল সব প্রসংগ নিয়ে আলাপ করল। তারা বুঝে গেল, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলাপ করে তাঁর সাথে সুবিধা করা সম্ভব নয়। ওদিকে 'মোলাআনা' করার আশা তাদেরকে আগেই ত্যাগ করতে হয়েছে।
এই অবস্থায় নাজরান প্রতিনিধিদল মদীনার সাথে রাজনৈতিক সন্ধির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তারা আন্তর্জাতিক আরব গণতন্ত্রের (International Arab Federation) মেম্বার হবার আগ্রহের কথা জানালেন এবং এই কমনওয়েলথের সদস্য হবার জন্য তাদের কি দিতে হবে তা ঠিক করে দেয়ার জন্য মহানবীকেই অনুরোধ করলেন।
এরপর মহানবী (সা) নাজরানবাসীদের উদ্দেশ্যে লিখিতভাবে নিম্নোক্ত সনদ-ঘোষণা করলেন: "তাদের (নাজরানবাসীদের) উপস্থিত, অনুপস্থিত, স্বজাতীয় ও অনুগত সকলের জন্য আল্লাহর নামে তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের প্রতিজ্ঞা এই যে, সকল প্রকার সম্ভব চেষ্টার দ্বারা আমরা তাদের নিরাপদ রাখব। তাদের দেশ, তাদের বিষয়-সম্পত্তি ও ধন-সম্পদ এবং তাদের ধর্ম ও ধর্ম সংক্রান্ত যাবতীয় আচার-ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে অক্ষুণ্ণ অব্যাহত ও নিরাপদ থাকবে। তাদের কোন সমাজগত আচার-ব্যবহারের কোন বিষয়গত স্বত্বাধিকারের এবং কোন ধর্মগত সংস্কারের উপর কখনও কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করা হবে না। কম বেশী যা কিছু তাদের আছে, তা সম্পূর্ণরূপে তাদেরই থাকবে। মুসলমানরা তাদের নিকট থেকে অর্থবিনিময় ব্যতীত কোন প্রকার উপকার গ্রহণ করতে পারবে না। তাদের কাছ থেকে 'ওশর' (ফসলের উপর অবশ্য দেয় অংশ) গ্রহণ করা হবে না, তাদের দেশের মধ্য দিয়ে সৈন্য চালনা করা হবে না। আল্লাহর নামে তাদের আরও প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে যে, কোন ধর্মযাজককে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হবে না, কোন পুরোহিতকে পদচ্যুত করা হবে না। কোন সন্ন্যাসীর সাধনায় কোনও প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে না। যত দিন তারা শান্তি ও ন্যায়ের মর্যাদা রক্ষা করবে, ততদিন এই সনদের লিখিত সব শর্ত সমানভাবে বলবৎ থাকবে।"
মদীনার সনদের পর পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতিগত সহাবস্থানের এ এক অনন্য দলিল। মদীনার সনদ ছিল কিছুটা স্থানীয় পর্যায়ের, কিন্তু এই 'নাজরান সনদ' একটা কমনওয়েলথ ব্যবস্থার অধীনে জাতিগত সহাবস্থানের আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক দলিল।
📄 আল্লাহর নিয়ামত (ইসলাম) যখন সম্পূর্ণ হলো
বিদায় হজ্বের দীর্ঘ অভিভাষণ মহানবী (সা) শেষ করলেন এই কথা বলে “যারা উপস্থিত আছে, তারা অনুপস্থিতদেরকে আমার এ সকল ‘পয়গাম’ পৌঁছে দেবে। হয়তো উপস্থিতদের কতক লোক অপেক্ষা অনুপস্থিতদের কতক লোক এর দ্বারা অধিকতর উপকৃত হবে।”
আল্লাহর বাণী, সত্যের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার মহামিশন যেন তিনি শেষ করলেন। তাঁর মুখমণ্ডল বেহেশতী পুণ্য প্রভায় দীপ্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর কণ্ঠস্বর সত্যের তেজে ক্রমশঃই দৃপ্ততর হয়ে উঠছে। তাঁর চোখ দু'টিতে পরম প্রভুর জন্য ভক্তি গদগদ অসীম আকুলতা।
মুখ উপরে তুলে তিনি চাইলেন উর্ধাকাশে এবং উচ্চকণ্ঠে বলতে লাগলেন, ‘হে আল্লাহ, আমি কি তোমার বাণী পৌঁছে দিয়েছি, আমি কি নিজের কর্তব্য সম্পাদন করেছি?’
আরাফাতের গোটা প্রান্তর থেকে লাখ কণ্ঠে ধ্বনি উঠল, ‘নিশ্চয় ইয়া রাসূলাল্লাহ্।’
মহানবী (সা) তখন আরও আবেগ-ভরা কণ্ঠে পরম প্রভুর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘হে আমার আল্লাহ, আপনি শ্রবণ করুন, আপনি সাক্ষী থাকুন, এরা স্বীকার করছে, আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি।"
মহানবী (সা) এরপর দৃষ্টি ফিরিয়ে চাইলেন আরাফাতের লাখ জনতার দিকে। বললেন, “হে লোক সকল, আমার সম্পর্কে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে। তোমরা সে প্রশ্নের কি জবাব দেবে জানতে চাই।"
আরাফাতের পর্বত ও প্রান্তর জুড়ে ধ্বনিত হলো লাখো কণ্ঠের আবেগ-মথিত উত্তর, "আমরা সাক্ষ্য দেব, আপনি আমাদের পরম প্রভু আল্লাহর বাণী আমাদের পৌঁছে দিয়েছেন, আপনি আপনার কর্তব্য সম্পূর্ণ পালন করেছেন।"
মহানবী (সা) তখন অপূর্ব এক ভাবে বিভোর। তিনি আকাশের দিকে অঙ্গুলি তুলে উচ্চ কণ্ঠে বলতে লাগলেন, ‘প্রভু হে শ্রবণ করুন, প্রভু হে সাক্ষী থাকুন, হে আমার আল্লাহ সাক্ষী থাকুন।’
শেষ হয়েছে আরাফাতের বিদায় হজ্বের ভাষণ।'
শেষ হলো উপস্থিত লাখো জনতার সাথে তাঁর শেষ কথা। পরম প্রভুকেও সাক্ষী রাখলেন তিনি তার মিশনের সম্পূর্ণতা বিষয়ে।
বাকী ছিল পরম প্রভু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের তরফ থেকে পরম একটি সুসংবাদের।
দয়াময় আল্লাহ কি পারেন তার প্রিয়তম বান্দাহ ও প্রিয়তম রাসূলকে তাঁর পরম সন্তুষ্টির কথা না জানিয়ে?
আরাফাতের ভাষণ শেষ হবার পরপরই মহানবীর প্রতি অবতীর্ণ হলো মর্তের বান্দাদের জন্য মহিমাময় প্রভুর পরম সন্তোষের বাণী আল-কুরআনের এই আয়াত :
"তোমাদের মঙ্গল হেতু তোমাদের দ্বীনকে আজ পূর্ণ, পরিণত করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতকে সুসম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীনরূপে মনোনীত করে দিলাম।"