📘 আমরা সেই জাতি > 📄 ‘এমন শত্রু তো শত্রু নয়’

📄 ‘এমন শত্রু তো শত্রু নয়’


নবম হিজরী সনের ঘটনা। এক মহাবিপদ সংবাদ এল মদীনায়।
রোম সম্রাট মদীনা আক্রমণ করতে আসছেন। তাঁর সাথে যোগ দিয়েছে লাখম, জোজম, গাচ্ছান প্রভৃতি খৃস্টান আরব গোত্রগুলো।
রোম সম্রাট পূর্ণ এক বছরের রণসম্ভার ও রসদাদি সঙ্গে নিয়েছেন এবং সৈন্যদের এক বছরের পুরো বেতন অগ্রিম দেয়া হয়েছে।
সিরিয়া-ফেরত বাণিজ্য বহর খবর দিল, বিশাল রোমক সৈন্যের অগ্রবাহিনী 'বালকা' পর্যন্ত পৌঁছেছে।
খবর শুনে মহানবী (সা) সমগ্র মুসলিম হেজাজের প্রান্তে প্রান্তে স্বধর্ম, স্বজাতি ও স্বদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে যথাসর্বস্ব নিয়ে প্রস্তুত হবার আদেশ প্রদান করলেন। মহানবী (সা) আরও জানিয়ে দিলেন, মদীনা থেকে চারশ' মাইল দূরে আরব সীমান্তের ওপারে সিরিয়ার ভেতর রোমক বাহিনীকে বাধা দেয়া হবে। ঠিক হলো, ত্রিশ হাজার মুসলিম যোদ্ধা এই তাবুক অভিযানে অংশ নেবে। কিন্তু অস্ত্রশস্ত্র, যানবাহন ও রসদাদি কোথায়?
মহানবী (সা) এই সমরায়োজনে যথাসাধ্য সাহায্য করার জন্যে মুসলমানদের প্রতি উদাত্ত আহ্ববান জানালেন। আহ্বান সকলের কানে পৌঁছল।
কানে পৌঁছার সাথে সাথে যে যেখানে ছিল ছুটল বাড়ীর দিকে যা কিছু সম্ভব তা নিয়ে সহাসবীর দরয়ারে হাজির হবার জন্যে।
হযরত উমর (রা) তাঁর যা কিছু অর্থ-সম্পদ আছে দুইভাগে ভাগ করলেন। একভাগ পরিবারের জন্যে রেখে অন্য অর্ধেক নিয়ে তিনি ছুটলেন মহানবীর দরবারের দিকে।
যেতে যেতে ভাবলেন, সব ভাল কাজেই হযরত আবু বকর প্রথমস্থানে থাকেন, আজ তিনি আবু বকরকে পরাজিত করবেন।
হযরত উমর (রা) তাঁর অর্থ-সম্পদ নিয়ে হাজির হলেন মহানবীর দরবারে। মহানবী (সা) তাঁকে বাড়ীর জন্যে কিছু রেখেছে কিনা জিজ্ঞাসা করলেন। হযরত উমর (রা) জানালেন তিনি কিভাবে সম্পদ ভাগ করেছেন।
হযরত আবু বকরও তাঁর ধন-সম্পদ মহানবীর চরণে হাজির করেছেন। মহানবী (সা) তাকেও জিজ্ঞাসা করলেন, 'আবু বকর, পরিবারবর্গের জন্যে কি রেখে এসেছ?'
হযরত আবু বকর বিনীতভাবে বললেন, 'শ্রেষ্ঠতম সম্পদ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমার পরিবারবর্গের জন্যে আছেন।'
সকল মুসলমানই এভাবে তাদের সাধ্য অনুসারে দান করলেন। হযরত উসমান (রা) এসে মহানবীর দরবারে নিবেদন করলেন, এক হাজার উট, সত্তরটি ঘোড়া এবং এর জন্য আবশ্যকীয় সরঞ্জাম এবং সেই সাথে এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা।
কিন্তু ৩০ হাজার মুসলিম যোদ্ধার সকলকে যুদ্ধের সরঞ্জাম দেয়া গেল না। কিছু যোদ্ধা বঞ্চিত থাকল। তারা মহানবীর সাথে যুদ্ধে শরিক হতে পারবে না, এই দুঃখে শিশুর মত কান্না শুরু করে দিল।
যথাসময়ে তিরিশ হাজার সৈন্য মহানবীর (সা) নেতৃত্বে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। কিন্তু অতুলনীয় ত্যাগের এই যুদ্ধ প্রস্তুতির মধ্যেই আল্লাহ বিজয় দিয়ে দিয়েছিলেন মুসলমানদের।
মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার তাবুক নামক স্থানে উপস্থিত হয়ে শুনতে পেলেন, রোম সম্রাটের আরবমুখী বাহিনী ৩০ হাজার মুসলিম সৈন্যের সিরিয়া অভিমুখে ছুটে আসার খবর পেয়ে ফিরে গেছে। সিরিয়ার স্থানীয় খৃস্টান গোত্ররা রোম সম্রাটকে জানিয়েছিল দারিদ্র-তাড়িত মুসলমানরা এখন ভয়ানক দুর্দশায়, তারা যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত নয়। তাদের ধ্বংস করার এটাই উপযুক্ত সময়। কিন্তু ৩০ হাজার মুসলিম সৈন্যের দ্রুত অগ্রাভিযান তাদের খবর মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। মুতা'র যুদ্ধের স্মৃতি তারা ভোলেনি। তাই যুদ্ধ না করে ফিরে যাওয়াই তারা সমীচীন মনে করে।
মহানবী (সা) সিরিয়ার খৃস্টান গোত্রগুলোকে তাদের অপরাধের জন্যে ধ্বংস করে দিতে পারতেন। কিন্তু মহানবী (সা) তাদের কিছুই বললেন না।
এই অভাবিত ঘটনায় সিরিয়ার খৃস্টানরা অভিভূত হয়ে পড়ল। এমন শত্রু তো শত্রু নয়, আত্মার আত্মীয় এরা। এমন মানুষ, এমন চরিত্র তারা দেখেনি, শোনেওনি। তাবুক অঞ্চলের বিভিন্ন খৃস্টান গোত্র দলে দলে এসে ইসলাম গ্রহণ করল। যারা ইসলাম গ্রহণ করল না, তারা বার্ষিক সামান্য কর দিয়ে মদীনার ইসলামী শাসনের অধীন হয়ে গেল।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 যার কাছে সম্পদ অপেক্ষা সত্য বড়

📄 যার কাছে সম্পদ অপেক্ষা সত্য বড়


আবদুল্লাহ মহানবীর (সা) একজন সাহাবী।
ইসলাম গ্রহণের আগে তাঁর নাম ছিল আবদুল ওজ্জা।
পিতৃহীন আবদুল ওজ্জা ছিলো বিশাল বিত্ত-বৈভবের অধিকারী। পিতৃব্যের একমাত্র উত্তরাধিকারী।
সুখের সাগরে লালিত আবদুল ওজ্জার বিয়ে হয় এক ধনী কন্যার সাথে।
মক্কায় চলছিল তখন ইসলামের দাওয়াত।
ইসলামের দাওয়াত হৃদয় জয় করে নিল আবদুল ওজ্জার। তিনি ইসলাম গ্রহণের জন্যে ব্যাকুল হয়ে উঠলেন।
একদিন সে পিতৃব্যের কাছে গিয়ে হাজির হয়ে ইসলাম ধর্মকে সত্য ধর্ম হিসেবে অভিহিত করে অনুরোধ জানালো পিতৃব্যকে ইসলাম গ্রহণের জন্যে।
পিতৃব্যের কাছে অকল্পনীয় ছিল তার কাছে ভ্রাতুষ্পুত্রের এই আহ্বান। ক্রোধে আগুন হয়ে উঠলেন তিনি। ভ্রাতুষ্পুত্রকে ভয় দেখাবার জন্যে বলে উঠলেন, 'তোর মত নাস্তিক আমার সম্পত্তির এক কপর্দকও পাবে না।'
উত্তরে আব্দুল ওজ্জা সসম্ভ্রমে পিতৃব্যকে বলল, 'তার সম্পত্তি অপেক্ষা সত্য অনেক বড়।'
বলে আবদুল ওজ্জা তার দেহ থেকে বহুমূল্য পোশাক খুলে ফেললেন। ছুটে গেলেন বিধবা মাতার কাছে। বললেন মা, আমাকে লজ্জা নিবারণের মত কাপড় দাও।
তাঁর মা আবদুল ওজ্জার পিতার আমলের এক জীর্ণ কম্বল ছুড়ে দিলেন পুত্রের দিকে।
আবদুল ওজ্জা সেই কম্বল ছিঁড়ে দুই ভাগ করে একখণ্ড পরিধান করলেন, আরেক খণ্ড গায়ে চাপালেন। তারপর ছুটলেন মদীনার দিকে মহানবীর কাছে।
দীর্ঘ পথ-পরিক্রমা শেষে মসজিদের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন আবদুল ওজ্জা।
আবদুল ওজ্জার মুখের দিকে একবার তাকিয়েই সব বুঝতে পারলেন মহানবী (সা)। জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কে?'
'আমি আবদুল ওজ্জা, সত্যের সেবক।'
মহানবী (সা) বললেন, 'তুমি আর ওজ্জার দাস নও, তুমি আল্লাহর দাস আবদুল্লাহ। যাও তুমি আত্মোৎসর্গকারী আসহাবে ছুফফার জামায়াতে প্রবেশ কর। আমার নিকট এই মসজিদেই তুমি থাকবে।'
মহানবী (সা) অপরিসীম ভালবাসতেন এই নতুন আবদুল্লাহকে।
ভাবে বিভোর আবদুল্লাহ একদিন উচ্চস্বরে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতে থাকায় হযরত উমর বিরক্তি প্রকাশ করলেন।
মহানবী (সা) উমর (রা)-কে লক্ষ্য করে বললেন, 'উমর, ওকে কিছু বলো না। এই আবেগের কল্যাণেই তো সে নিজের যথাসর্বস্ব বিসর্জন দিতে সমর্থ হয়েছে।'
তাবুক অভিযানের সময় পথিমধ্যে আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন।
কি সৌভাগ্য আবদুল্লাহর।
স্বয়ং হযরত আবু বকর ও হযরত উমর এগিয়ে এসে তাঁর দেহ কবরে নামাতে লাগলেন। বেলাল তুলে ধরলেন প্রদীপ। আর মহানবী (সা) ব্যাকুল কণ্ঠে তখন বলছেন, 'সসম্ভ্রমে, সসম্ভ্রমে, তোমাদের ভ্রাতাকে সম্ভ্রমে নামাও।'
বলতে বলতে স্বয়ং মহানবী কবরে নেমে পড়লেন এবং নিজ হাতে তার দেহ কবরে স্থাপন করলেন।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 ‘আমি শহীদদের সাথে মিলিত হতে চললাম’

📄 ‘আমি শহীদদের সাথে মিলিত হতে চললাম’


তায়েফের সাকিফ গোত্রের একজন প্রধান ব্যক্তি উরওয়া ইবনে মাসউদ মদীনা এলেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মহানবীর কাছে।
আরবের তৎকালীন প্রথা অনুসারে উরওয়ার অনেক স্ত্রী ছিল।
চারজনের বেশী স্ত্রী মুসলমানদের জন্যে তখন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আদেশ জানার সাথে সাথে উরওয়া চারজন স্ত্রী রেখে অন্যদের তালাক দিয়ে দিলেন।
ইসলাম গ্রহণের কয়েকদিন পর উরওয়া মহানবীর কাছে হাজির হলেন এবং বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমার স্বজাতীয়রা অজ্ঞতা ও অন্ধবিশ্বাসের অন্ধকারে ডুবে আছে। আপনি অনুমতি দিলে আমি ফিরে গিয়ে তাদের কাছে সত্য দ্বীনের দাওয়াত দিতে পারি।'
তায়েফের বনি সাকিফ তখনও ইসলামের ভয়ানক বৈরী।
উরওয়ার আবেদন শুনে মহানবী (সা) বললেন, 'উরওয়া, সে তো ভাল কথা। কিন্তু আমার আশংকা হচ্ছে, তোমার স্বজাতিরা তোমাকে হত্যা করবে।'
উরওয়া বললেন, 'আমার স্বজনরা আমাকে খুবই ভালবাসে।'
উরওয়া তায়েফ ফিরলেন।
এখন উরওয়া আগের সেই উরওয়া নেই। সে এখন সত্যের সৈনিক, আল্লাহর সৈনিক।
সত্যের প্রতি মানুষকে আহ্বান করার কাজ তিনি শুরু করলেন নির্ভীকভাবে, নিরলসভাবে।
অতি অল্প সময়ের মধ্যে উরওয়ার স্বজন-স্বজাতীয়রা উরওয়ার জান-দুশমনে পরিণত হলো। নিপীড়ন-নির্যাতন নেমে এল তাঁর উপর।
এমনকি নিজ বাড়ীতেও উরওয়ার পক্ষে একটু শান্তিতে-স্বস্তিতে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়াল।
একদিন উরওয়া তাঁর নিজ বাড়ির জানালায় দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা কীর্তন করছিলেন। লোকরা এসে তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে দাঁড়াল। শুরু হলো উরওয়ার প্রতি তীর ও পাথর বর্ষণ।
তীর ও পাথরের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে উঠল উরওয়ার দেহ। কিন্তু উরওয়ার মুখ মুহূর্তের জন্যেও বন্ধ হয়নি আল্লাহর প্রশংসা কীর্তন থেকে।
একটা তীর এসে উরওয়ার বক্ষ ভেদ করল। উরওয়ার মুখে উচ্চকণ্ঠে ধ্বনিত হলো 'আল্লাহু আকবার।'
তাঁর মুখে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি শেষ হবার সাথে সাথে উরওয়ার রক্তরঞ্জিত দেহ লুটিয়ে পড়ল মাটিতে।
তাঁর স্বজনরা মুমূর্ষু উরওয়ার কাছে এসে বিদ্রূপ কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল, 'এখন কেমন বুঝছ?'
উরওয়া উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, "সত্যের সেবায় ও দেশবাসীর কল্যাণে যে রক্ত উৎসর্গ করা হয়, তা শুভ এবং পুণ্যময়। আল্লাহ আমাকে এই সৌভাগ্যের অধিকারী করেছেন, সত্যের সেবায় জীবন দিয়ে আমি শহীদদের সাথে মিলিত হবার জন্যে চললাম।"
উরওয়ার কণ্ঠ নীরব হলো। সেই সাথে পরম আকাঙ্ক্ষিত শহীদী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন উরওয়া।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 ব্যবসা করতে গিয়ে হলেন মিশনারী

📄 ব্যবসা করতে গিয়ে হলেন মিশনারী


তারিক ইবনে আবদুল্লাহর একটি স্মৃতি কথা "আমি একদিন মক্কার 'মাজাজ' নামক বাজারে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় দেখলাম, একজন অত্যন্ত প্রিয়-দর্শন লোক বাজারের চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর বলছেন, 'হে মানব সকল, তোমরা বল আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে।
এই সঙ্গেই দেখলাম, আর একটা লোক তাঁর পশ্চাতে পশ্চাতে ঘুরছেন আর বলে বেড়াচ্ছেন, 'খবরদার, কেউ এর কথা শুনোনা। এ একটা ভয়ংকর যাদুকর, মস্ত একটা মিথ্যাবাদী।' এইসব কথা বলার সাথে সাথে পেছনের লোকটি তাঁকে পাথর ছুড়ে মারছেন।
আমি জিজ্ঞাসা করলে আমার সাথের একজন বয়স্ক লোক বললেন, প্রথম লোকটি হাশেম বংশের। তিনি নিজেকে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল বলে মনে করেন। আর দ্বিতীয় লোকটি তাঁর চাচা আবদুল ওজ্জা—আবু লাহাব।
এই ঘটনার অনেক বছর পরের কথা।
মদীনার বাইরে একটা খোরমা বাগানে আমরা বিশ্রাম নিচ্ছি। আমরা খেজুর কিনতে মদীনায় এসেছি।
আমরা যখন বাগানে বিশ্রামরত, তখন একজন লোক এসে আমাদের সালাম দিল।
তাঁর পরনে তহবন্দ এবং গায়ে চাদর। তিনি আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। তাঁর কণ্ঠ খুবই মধুর।
আমাদের সাথে একটা লাল রঙের উট ছিল। পরিচয় জিজ্ঞাসার পর তিনি লাল উটটি আমরা বিক্রি করব কিনা, কত দাম জিজ্ঞাসা করলেন।
বললাম, এত মণ খেজুর পেলে উটটা আমরা বিক্রি করতে পারি।
তিনি কোন প্রকার দর-কষাকষি না করে আমাদের দাবীকৃত মূল্যে উট কিনতে রাজী হলেন এবং উটের দড়ি ধরে টেনে উট নিয়ে চললেন নগরীর দিকে।
তিনি চলে যাবার পর আমাদের চেতনা হলো যে, একি করলাম আমরা? দাম না নিয়ে একজন অপরিচিত লোককে উট নিয়ে যেতে দিলাম।
আমাদের সাথে একজন বৃদ্ধ ছিলেন। তিনি বললেন, 'চিন্তা করো না। লোকটার মুখ পূর্ণ চন্দ্রের ন্যায় স্বর্গীয় সুষমায় উদ্ভাসিত। এমন লোক কখনই প্রবঞ্চক হতে পারে না। তোমরা নিশ্চিন্ত থাক, টাকার জন্যে আমি দায়ী রইলাম।'
অল্প কিছুক্ষণ পর নগরীর দিক থেকে একজন লোক আমাদের কাছে এলেন। তাঁর সাথে প্রচুর খেজুর। তিনি আমাদের বললেন, 'আমি রাসূলুল্লাহর নিকট থেকে এসেছি। উটের মূল্য বাবদ এই খেজুর তিনি পাঠিয়েছেন। ওজন করে নিন। আরও কিছু খেজুর তিনি পাঠিয়েছেন উপঢৌকন স্বরূপ আপনাদের খাওয়ার জন্যে। আপনারা গ্রহণ করলে তিনি খুশী হবেন।'
যথাসময়ে আমরা মদীনা প্রবেশ করলাম। পৌঁছলাম আমরা মসজিদে নববীর সামনে। দেখলাম সেই লোকটি মসজিদের মিম্বারে বসে লোকদের উদ্দেশ্যে কথা বলছেন। আমরা শেষের এই কয়টি কথা শুনতে পেয়েছিলাম, 'হে লোক সকল, অভাবগ্রস্ত ও কাঙ্গালদের দান কর। তোমাদের জন্যে এটা বিশেষ কল্যাণকর। স্মরণ রেখ, উপরের (দাতার) হাত নিম্নের (গ্রহীতার) হাত অপেক্ষা উত্তম। পিতা-মাতা ও অন্যান্য স্বজনদের প্রতিপালন কর।'
আমরা কয়েকদিন মদীনায় থাকলাম। আমরা সবাই ইসলাম গ্রহণ করে দেশে ফিরে এলাম। গিয়েছিলাম মদীনায় ব্যবসায়ী হয়ে, ফিরে এলাম দেশে ইসলামের প্রচারক হয়ে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00