📘 আমরা সেই জাতি > 📄 অভাব বোধ করলে আল্লাহকেই বলব

📄 অভাব বোধ করলে আল্লাহকেই বলব


তাপসী রাবেয়া বসরী ছিলেন পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট হৃদয়। তাঁর এ সন্তুষ্ট হৃদয়ে কোন অভাববোধ ছিলনা, তাই ছিলনা কোন অভিযোগও। চাইবারও ছিলনা কারও কাছে কিছু তাঁর।
হযরত রাবেয়াকে অনেক সময়ই ছিন্ন বসনে দেখা যেতো। একদিন বসরার একজন অভিজাত লোকের এটা হৃদয় স্পর্শ করল। সে বলল, 'মা, যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে অনেকেই আছে যারা আপনার সকল অভাব দূর করতে কৃতজ্ঞ বোধ করবে।'
রাবেয়া উত্তরে বললেন, 'হে আমার পুত্র, বাইরের লোকের কাছে আমার অভাবের কথা বলতে লজ্জাবোধ করি। সমগ্র দুনিয়ার মালিক আল্লাহ। যদি আমি অভাববোধ করি, তাহলে এটা দূর করার জন্য আল্লাহকেই আমি বলবো।'

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 অভিযোগের ব্যাণ্ডেজ আছে, কৃতজ্ঞতার ব্যাণ্ডেজ কই?

📄 অভিযোগের ব্যাণ্ডেজ আছে, কৃতজ্ঞতার ব্যাণ্ডেজ কই?


আল্লাহর পথে, আল্লাহর জন্যে সব যাঁরা বিলিয়ে দেন, বিলিয়ে দেন নিজের সুখ-সম্ভোগ—সব, হযরত রাবেয়া বসরী এমনি একজন মহিয়সী মহিলা। মানুষ আল্লাহ রাবুল আলামীনের অফুরন্ত নিয়ামত ভোগ করে, খুব কমই তাঁর জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অথচ সামান্য দুঃখ-কষ্টে তাদের হা-হুতাশের অন্ত থাকেনা।
এই কথাটাই তাপসী রাবেয়া বসরী কত সুন্দর ভাষায় একদিন বললেন। একদা মাথায় ব্যাণ্ডেজ বাঁধা একজন লোক রাবেয়া বসরীর কাছে এলেন। তারপর এভাবে দু'জনের মধ্যে কথা শুরু হলো:
রাবেয়া—মাথায় ব্যাণ্ডেজ কেন?
আগন্তুক—গত রাত থেকে আমার ভীষণ মাথাব্যথা।
রাবেয়া—আপনার বয়স কত?
আগন্তুক—৩০ বছর।
রাবেয়া—জীবনের অধিকাংশ সময় কি আপনার কষ্ট ও বেদনায় কেটেছে?
আগন্তুক—না।
রাবেয়া—'ত্রিশ বছর ধরে আল্লাহ আপনার দেহকে সুস্থ রেখেছেন, কিন্তু এর জন্যে কোন কৃতজ্ঞতার ব্যাণ্ডেজ আপনি ধারণ করেননি। আর মাথায় এক রাতের বেদনাতে আপনি অভিযোগের ব্যাণ্ডেজ ধারণ করলেন?'

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা

📄 সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা


কাযী আবু জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ হাশমী বর্ণনা করেছেন : একদিন কাযী আবু উমার রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে মদের পাত্র ভেঙ্গে প্রচুর মদ ছড়িয়ে থাকার দৃশ্য তাঁর চোখে পড়ল। একজন প্রত্যক্ষদর্শী যিনি কাযীর সাথে হাঁটছিলেন তিনি বললেন, 'এভাবে মদ ছড়িয়ে উৎকট গন্ধ ছড়ায়।' কাযী শুনলেন কিছুই বললেন না। কিন্তু একদিন ঐ লোক সাক্ষী হয়ে তাঁর আদালতে আসল কোন এক ব্যাপারে, কাযী তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন।
সাক্ষী লোকটি খুব ভীত হয়ে পড়ল। সে অন্য লোকের দ্বারা জানতে চাইল এর কারণ কি।
কারণ হিসাবে কাযী সে দিনের ঘটনার উল্লেখ করে বললেন, 'মদ ইসলামে হারাম। এর গন্ধ খারাপ কিংবা ভাল তা বিবেচ্য বিষয় নয়। কিন্তু সে এ বিষয়টাকে বিবেচ্য বিষয়ে পরিণত করেছে। সুতরাং হয় সে প্রবঞ্চনা করছে অথবা মিথ্যা বলছে কিংবা সে কিছুই বুঝে না অজ্ঞ। সুতরাং আমি তার সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারি না।'

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 বসন্তের যিনি স্রষ্টা তার সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে দেখ

📄 বসন্তের যিনি স্রষ্টা তার সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে দেখ


আল্লাহর ধ্যানে সর্বদা মশগুল থাকতেন তাপসী রাবেয়া বসরী। সকল সৃষ্টির স্রষ্টা, সব সৌন্দর্যের উৎস পরম প্রভু আল্লাহই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান।
বসরায় সেদিন বসন্তের সকাল। বসরায় বিখ্যাত গোলাব বাগানগুলো ফুলসম্ভারে পূর্ণ। বাতাস সে ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে চারদিক মোহিত করছিল। পাখি গান গাইছিল। বুলবুলগুলো যেন ফিসফিস করে গোলাবের প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকাশ করছিল। চারদিকটা বসন্তের নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে নেচে উঠছিল।
পরিচারিকা তাপসী রাবেয়াকে গিয়ে বললো, বাইরে আসুন। দেখুন, বসন্তে প্রকৃতি কি অপূর্ব রূপ সম্ভারে সেজেছে। রাবেয়া তাঁর নামাযের ঘর থেকে বললেন, 'বাইরের দুনিয়া স্বতঃ পরিবর্তনশীল। রূপবৈচিত্র্য আর কি দেখব, তুমি আস এবং একবার বসন্তের যিনি স্রষ্টা তাঁর অকল্পনীয় সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে দেখ।'
পরম প্রভুর পরম সৌন্দর্য যাঁরা উপলব্ধি করেন, দুনিয়ার কোন সৌন্দর্যই তাঁদের কাছে সৌন্দর্য নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00