📄 মদীনা হিংস্র জন্তুর শিকারে পরিণত হয় হোক
মহানবীর (সা) মৃত্যুর পর আবুবকর সিদ্দীক (রা) খলীফা নির্বাচিত হলেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে মহানবী (সা) সিরিয়ায় একটি অভিযান প্রেরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় সেই মুহূর্তে তা স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু আবুবকর (রা) খলীফা হয়েই সেই অভিযান প্রেরণের উদ্যোগ নিলেন। মুসলিম নেতৃবৃন্দের অনেকেই এর সাথে দ্বিমত পোষণ করলেন এই বলে যে, মদীনা অরক্ষিত হয়ে পড়লে মহানবীর (সা) মৃত্যুর সুযোগ নিয়ে গোলযোগকারী যারা মাথা তুলতে চাচ্ছে, তারা সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।
জবাবে খলীফা আবুবকর (রা) বললেন, "মহানবীর (সা) কোন সিদ্ধান্তকে আমি অমান্য করতে পারবো না। মদীনা হিংস্র বন্য জন্তুর শিকারে পরিণত হয় হোক, কিন্তু সেনাবাহিনীকে তাদের মৃত মহান নেতার ইচ্ছা পূরণ করতেই হবে।"
হযরত আবুবকর (রা) এর প্রেরিত এই অভিযান ছিল সিরিয়া, পারস্য ও উত্তর আফ্রিকায় ইসলামের বিজয় অভিযানের মিছিলে প্রথম গৌরবোজ্জ্বল অভিযাত্রা।
অভিযান সফল হয়েছিল। দেড়মাস পর সেনাপতি উসামা বিজয়ীর বেশে মদীনায় ফিরে এসেছিলেন।
📄 বিবেক যখন সচেতন থাকে
একদা স্পেনের শাসক আল-মানসূর কিছু বন্দীর প্রতি ক্ষমা ঘোষণার হুকুম দিলেন। সেই বন্দীদের তালিকার প্রতি তিনি যখন নজর বুলাচ্ছিলেন, তখন তালিকার একটা নামের উপর তাঁর চোখটা আটকে গেল। ঐ লোকটির সাথে তাঁর প্রবল শত্রুতা ছিল। তিনি তৎক্ষণাৎ এ বন্দীর নামের পাশে লিখে দিলেন, মৃত্যু যতদিন একে গ্রাস না করে ততদিন একে বন্দী করে রাখ।
কিন্তু সে রাতে আল-মানসূর ঘুমাতে পারলেন না। বিবেকের দংশনে তিনি ক্ষত-বিক্ষত হতে লাগলেন। আধা-ঘুম, আধা-জাগরণের মধ্যে তিনি দেখলেন, কে একজন তাঁকে বলছে, 'সেই মানুষটিকে ছেড়ে দাও অথবা ঐ লোকটির প্রতি যে অবিচার করেছ তার জরিমানা আদায় কর।'
অবশেষে আল-মানসূর ঐ রাতেই লোকটির ফাইল আনিয়ে নিলেন এবং তাতে এই নির্দেশ লিখলেনঃ "বন্দী মুক্ত। এই বন্দীর মুক্তির জন্যে সব প্রশংসা আল্লাহর।”
📄 অভাব বোধ করলে আল্লাহকেই বলব
তাপসী রাবেয়া বসরী ছিলেন পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট হৃদয়। তাঁর এ সন্তুষ্ট হৃদয়ে কোন অভাববোধ ছিলনা, তাই ছিলনা কোন অভিযোগও। চাইবারও ছিলনা কারও কাছে কিছু তাঁর।
হযরত রাবেয়াকে অনেক সময়ই ছিন্ন বসনে দেখা যেতো। একদিন বসরার একজন অভিজাত লোকের এটা হৃদয় স্পর্শ করল। সে বলল, 'মা, যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে অনেকেই আছে যারা আপনার সকল অভাব দূর করতে কৃতজ্ঞ বোধ করবে।'
রাবেয়া উত্তরে বললেন, 'হে আমার পুত্র, বাইরের লোকের কাছে আমার অভাবের কথা বলতে লজ্জাবোধ করি। সমগ্র দুনিয়ার মালিক আল্লাহ। যদি আমি অভাববোধ করি, তাহলে এটা দূর করার জন্য আল্লাহকেই আমি বলবো।'
📄 অভিযোগের ব্যাণ্ডেজ আছে, কৃতজ্ঞতার ব্যাণ্ডেজ কই?
আল্লাহর পথে, আল্লাহর জন্যে সব যাঁরা বিলিয়ে দেন, বিলিয়ে দেন নিজের সুখ-সম্ভোগ—সব, হযরত রাবেয়া বসরী এমনি একজন মহিয়সী মহিলা। মানুষ আল্লাহ রাবুল আলামীনের অফুরন্ত নিয়ামত ভোগ করে, খুব কমই তাঁর জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অথচ সামান্য দুঃখ-কষ্টে তাদের হা-হুতাশের অন্ত থাকেনা।
এই কথাটাই তাপসী রাবেয়া বসরী কত সুন্দর ভাষায় একদিন বললেন। একদা মাথায় ব্যাণ্ডেজ বাঁধা একজন লোক রাবেয়া বসরীর কাছে এলেন। তারপর এভাবে দু'জনের মধ্যে কথা শুরু হলো:
রাবেয়া—মাথায় ব্যাণ্ডেজ কেন?
আগন্তুক—গত রাত থেকে আমার ভীষণ মাথাব্যথা।
রাবেয়া—আপনার বয়স কত?
আগন্তুক—৩০ বছর।
রাবেয়া—জীবনের অধিকাংশ সময় কি আপনার কষ্ট ও বেদনায় কেটেছে?
আগন্তুক—না।
রাবেয়া—'ত্রিশ বছর ধরে আল্লাহ আপনার দেহকে সুস্থ রেখেছেন, কিন্তু এর জন্যে কোন কৃতজ্ঞতার ব্যাণ্ডেজ আপনি ধারণ করেননি। আর মাথায় এক রাতের বেদনাতে আপনি অভিযোগের ব্যাণ্ডেজ ধারণ করলেন?'