📘 আমরা সেই জাতি > 📄 যুদ্ধ শেষে পা খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন হাকার ইবনে কায়েস

📄 যুদ্ধ শেষে পা খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন হাকার ইবনে কায়েস


ইয়ারমুকের প্রান্তর। মুসলিম ও রোমক বাহিনী মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। ২লক্ষ ৪০ হাজার রোমক সৈন্যের নেতৃত্ব করছেন রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের পুত্র স্বয়ং। মুসলিম বাহিনীর অধিনায়কত্ব করছেন সেনাপতি আবু উবাইদাহ এবং তাঁর অধীনে রয়েছেন খালিদ ইবন ওয়ালিদ। ২লক্ষ ৪০ হাজার রোমক সৈন্যের মুকাবিলা করার জন্য খালিদ ক্ষুদ্র মুসলিম বাহিনীকে এক অপূর্ব কৌশলে ৩৬টি দলে বিভক্ত করলেন। তারপর মুসলিম বাহিনী তার ঐতিহ্য অনুযায়ী রোমক শিবিরে সত্যের দিকে আহবান জানিয়ে শান্তির বার্তা প্রেরণ করল। রোমকরা এর জবাব দিল অস্ত্রের মাধ্যমে।
পুনঃপুনঃ পরাজয়ের গ্লানিতে রোমক বাহিনী ক্ষিপ্ত জানোয়ারের মত আপতিত হলো ক্ষুদ্র মুসলিম বাহিনীর উপর। কিন্তু আঘাতের পর আঘাত খেয়ে রোমক বাহিনীই অবশেষে কিছু হটল, মুসলিম বাহিনীকে হটাতে পারল না এক ইঞ্চিও।
পরদিন আবার আক্রমন শুরু হল। রোমক বাহিনীই আবার আক্রমণ করল। কিন্তু সেদিন মুসলিম বাহিনী শুধু আত্মরক্ষা নয়, পাল্টা আক্রমণ চালাল। রোমকরা সেদিন জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, আর মুসলমানরা তো হয় জয় নয় শাহাদাতের আকাংখা নিয়েই যুদ্ধে নেমেছেন। সুতরাং সেদিন ইয়ারমুক প্রান্তরে যে যুদ্ধ শুরু হল তার বর্ণনা অসম্ভব। শত্রুনিধন ছাড়া কারো কোন বাহ্যিক জ্ঞান পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। অদ্ভুত সে দৃশ্য। ২লক্ষ ৪০ হাজার রোমক সৈন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে বলীয়ান, আর ৪০ হাজার মুসলিম সৈন্যের একমাত্র শক্তিই হলো তাদের ঈমান-সতের জন্য জীবন দেয়ার অদম্য আকাংখা। এক এক মুসলিম সৈন্য সেদিন একশ' জনে পরিণত হয়েছিল। অবশেষে রোমক শক্তি নেতিয়ে পড়ল, পরাজিত হলো। কিন্তু মুসলিম বাহিনীর সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। শত্রু হননে তখন মত্ত তারা। সেনাপতি সৈনিকদের মত্ততা দূর করার জন্য যুদ্ধবিরতির বাদ্য ধ্বনি করতে আদেশ দিলেন। সৈনিকদের সম্বিত ফিরে এলো। সম্বিত ফিরে পেয়ে তারা যখন চারদিকে চাইলেন, দেখলেন, চারদিকে রোমক সৈন্যের লাশ ছাড়া আর কিছু নেই। মুসলিম সৈন্যের মত্ততা সম্পর্কে জনৈক ঐতিহাসিক লিখেছেন, "ইয়ারমুক যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যরা শত্রু নিধনে এমনি একাগ্র ছিল যে, হারারা ইবন কায়েসের একটি পা যে কখন বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, সে টেরই পায়নি। যুদ্ধ শেষে সুপ্তোদিতের মত হাসতে হাসতে যুদ্ধ ক্ষেত্রে তিনি পা খুঁজে বড়াচ্ছিলেন।”
এই ভয়াবহ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর তিন হাজার মুজাহিদ শহীদ হয়েছিলেন, আর রোমক পক্ষে মারা গিয়েছিল ১লক্ষ ১৪ হাজার সৈন্য।
এই শোচনীয় পরাজয় বার্তা শ্রবণ করে রোম সম্রাট এশীয় ভূখণ্ড ছেড়ে কনষ্ট্যান্টিনোপলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। যাবার সময় যুগ যুগ ধরে ভোগ করা সিরিয়ার নয়নাভিরাম দৃশ্যের দিকে চেয়ে বলেছিলেন, "বিদায় হে সিরিয়া, শত্রুদের জন্য তুমি কি সুন্দর দেশ!"

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 যার ভাণ্ডার শুধু অভাবগ্রস্তদের জন্যই খোলা

📄 যার ভাণ্ডার শুধু অভাবগ্রস্তদের জন্যই খোলা


রাজধানী দামেসক। খলীফা উমার ইবন আব্দুল আযিয তখন খলীফার আসনে সমাসীন। মুসলিম বিশ্বের কয়েকজন খ্যাতনামা কবি এলেন দামেসকে। তাঁদের ইচ্ছা, অন্যান্য রাজ দরবারের মত উমার ইবন আবদুল আযিযের দরবারে গিয়েও খলীফার কিছু স্তুতিগান করে আর্থিক ফায়দা হাসিল করা। তাঁরা অনেকদিন রাজধানীতে থাকলেন। সবাই জানল ব্যাপারটা। কিন্তু খলীফার দরবার থেকে ডাকসাইটের কোন আহবান এলো না। অবশেষে তাঁরা নিজেরাই খলীফার সাথে সাক্ষাতের মনস্থ করলেন। সব কবি মিলে সবচেয়ে মুখর ও মশহুর কবি জরিরকে দরবারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
জরির দরবারের দ্বারে এসে সিরিয়ার বিখ্যাত ফকিহ আউস ইবন আবদুল্লাহ হাযালীর মাধ্যমে খলীফার সাক্ষাত প্রার্থনা করলেন। হযরত আউস গিয়ে জরিরের পরিচয় দিয়ে তাঁর সাক্ষাত প্রার্থনার কথা বললেন।
খলীফা তাঁকে ডেকে পাঠালেন। কবি জরির খলীফার সমীপে হাজির হয়ে বললেন, "আমি শুনেছি আপনি প্রশংসা-প্রশস্তি ভালোবাসেন না। জনগণের কল্যাণ কামনায় সর্বক্ষণ উদ্বিগ্ন আপনি। আমি এ ধরণের কিছু কবিতা রচনা করেছি শুনুন।” কবি জরির হিজাযের ইয়াতীম বালক বালিকা ও বিধবাদের দুঃখ-দুর্দশার বর্ণনা সম্বলিত কবিতা পাঠ করতে লাগলেন।
উমার ইবন আব্দুল আযিয মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ কবিতা শুনছিলেন। দৃষ্টি তাঁর আনত। মুখে অপরিসীম বেদনার ছায়া। দু'গন্ড বেয়ে অবিরাম ধারায় গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু।
কবিতা পাঠ শেষ হবার সাথে সাথে বাইতুল মালের প্রধান সচিবকে ডেকে পাঠালেন এবং টাকা পয়সা, শস্য, কাপড় ইত্যাদি সহ একটি সাহায্য কাফিলাকে তৎক্ষনাৎ হিজায যাত্রার নির্দেশ দিলেন। তার পর তিনি জরিরের দিকে ফিরে বললেন, "আপনি কি মুহাজির?” জরির বললেন, "না, আমি মুহাজির নই।” আবার জিজ্ঞাসা করলেন খলীফা, "আপনি কি অভাবগ্রস্ত আনসার অথবা তাদের কোন প্রিয়জন?” জরির বললেন, "না"। খলীফা পুণরায় প্রশ্ন করলেন, "যারা ইসলামের বিজয়ে অংশ গ্রহণ করেছিল, আপনি সেই জিহাদে অংশ গ্রহণকারীদের কোন আত্মীয়?” জরির বললেন, "না। আমি তাদেরও কেউ নই।” খলীফা তখন বললেন, "তাহলে আমার ধারণায় বাইতুল মালে এই মুহূর্তে আপনার কোন অংশ নেই।"
বাকপটু জরির তৎক্ষণাৎ বললেন, "আমি একজন মুসাফির। বহুদুর থেকে আপনার কাছে এসেছি এবং অনেক দিন থেকে আপনার সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছি।” খলীফা একটু হেসে বাইতুল মালের সচিবকে কানে কানে কিছু বললেন। বাইতুল মালের সচিব বিশটি দিনার নিয়ে এল।
খলীফা এই বিশটি দিনার কবির হাতে দিয়ে বললেন, "এই দিনার কয়টি আমার এই মুহূর্তের সম্বল। ইচ্ছা হলে এইগুলো গ্রহণ করুন এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন অথবা আমার বদনাম করুন।” কবি জরির বিস্ময় বিমূঢ়, কিন্তু চোখে তাঁর আনন্দের নৃত্য। বললেন তিনি, "বদনাম নয়, আমি এর জন্য গৌরবই বোধ করব,” বলে বিশটি দিনার নিয়েই কবি জরির দরবার ত্যাগ করলেন। এসে অপেক্ষমান সাথীদের বললেন, "আমি এমন এক রাজদরবার থেকে এসেছি যার ভান্ডার শুধু দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের জন্যই খোলা।”

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 কিছু অভাব-অভিযোগের কথা নিয়ে এসেছিলাম

📄 কিছু অভাব-অভিযোগের কথা নিয়ে এসেছিলাম


খলীফা সুলাইমান তাঁর মৃত্যুর পূর্বে গাসবা ইবন সাদ ইবন আসকে বিশ হাজার দীনার দান করে একটি দানপত্র লিখে দিয়ে ছিলেন। কিন্তু টাকাটা গাসবার হাতে যাওয়ার পূর্বেই খলীফা সুলাইমানের মৃত্যু ঘটে।
খলীফা সুলাইমানের মৃত্যুর পর উমার ইবন আবদুল আযিয খলীফা হন। তাঁর খলীফা পদে সমাসীন হবার কয়েকদিন পর গাসবা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বলল, "খলীফা সুলাইমান আমাকে কিছু অর্থ দান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে নির্দেশ কোষাগারে এসে পৌঁছেছে। আপনি আমার বন্ধুলোক, আশা করি আমার জন্য খলীফা সুলাইমানের সে নির্দেশ আনন্দের সাথেই কার্যকর করবেন।”
সত্যিই গাসবা উমার ইবন আবদুল আযিযের বন্ধু ছিল। তিনি সহাস্যে বললেন, "কতটাকা?” গাসবা উত্তর দিল "বিশ হাজার দিনার।” শুনে খলীফা উমারের ভ্রুদ্বয় কুঞ্চিত হয়ে উঠলো। তিনি বললেন, "সর্ব সাধারনের সম্পত্তি থেকে কোন একজনকে বিনা কারণে এত টাকা দেয়া কিভাবে সম্ভব? আল্লাহর কসম, আমার পক্ষে এটা কিছুতেই সম্ভব নয়।”
শুনে গাসবা খুবই রেগে গেল। কিন্তু রাগ চেপে সে চিন্তা করতে লাগল, কিভাবে খলীফাকে উচিত জবাব দেয়া যায়, কি করে তাকে জব্দ করা যায়।
সে উমার ইবন আব্দুল আযিযকে খোঁচা দেয়ার একটি পথ পেল। সে বিদ্রুপের হাসি হেসে বলল, "খলীফা সুলাইমান আপনাকেও জাবালুল ওয়ারস'-এর জায়গীর দান করেছেন। ওটা সম্পর্কে তাহলে আপনার সিদ্ধান্ত কি হবে?”
প্রশ্ন শুনে খলীফা হাসলেন, "তোমার ব্যাপারে সিদ্ধান্তের অনেক আগে খলীফার আসনে বসার সংগে সংগেই জাবালুল ওয়ারস' সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। ওটা যেখান থেকে এসেছে, সেখানেই ফিরে যাবে, তারপর উপযুক্ত প্রার্থীকে তা দিয়ে দেয়া হবে।” বলে তিনি ছেলেকে দিয়ে সিন্দুক থেকে দলিল-দস্তাবেজ আনালেন। তারপর 'জাবালুল ওয়ারস'-এর দলিলটি বের করে গাসবার সামনেই ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে দিলেন। গাসবা আর একটি কথাও না বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
ন্যায় ও সুবিচারের ভিত্তিতে যে সব ফরমান অতীতে জারি হয়নি, উমার ইবন আব্দুল আযিয সে সমস্তই বাতিল করে দিয়েছিলেন। ফলে পূর্ববর্তী খলীফারা বনু উমাইয়াকে অন্যায়ভাবে যেসব ভাতা মঞ্জুর করেছিলেন, সে সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই সাথে খলীফার এক ফুফুরও ভাতা বন্ধ হয়েছিল। একদিন ফুফু এই অভিযোগ নিয়ে তাঁর কাছে আসলেন। খলীফা তখন রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অল্পক্ষণ পরে আবার তাঁর সামনে গিয়ে দেখলেন খলীফা খেতে বসেছেন। তাঁর সামনে দু'টুকরো রুটি, একটু লবণ ও সামান্য কিছু তেল। ফুফু খলীফার খাবারের আয়োজন দেখে বললেন, "কিছু অভাব অভিযোগের কথা বলতে এসেছিলাম, কিন্তু এখন দেখি তোমার অভাব-অভিযোগের কথাই আমাকে আগে বলতে হবে।” ফুফুর অভিযোগের জবাবে খলিফা বললেন, "কি করব ফুফু আম্মা, এরচেয়ে ভালো খাবার সংগতি আমার নেই।”
ফুফু অনেক ভূমিকার পর বনি উমাইয়ার পক্ষ থেকে বললেন, “তুমি তাদের ভাতা বন্ধ করে দিয়েছ, অথচ তুমি সেসব দান করনি?” খলীফা বললেন, "সত্য ও ন্যায় যা আমি তাই করেছি।”
তারপর তিনি একটি দিনার, একটি জলন্ত অঙ্গারের পাত্র ও একটুকরো গোশত আনালেন। অঙ্গারপাত্রে দিনারটি গরম করলেন, তারপর অগ্নিসদৃশ উত্তপ্ত দিনার গোশতের উপর চেপে ধরলেন। গোশতটি পুড়ে গেল। খলীফা উমার ইবন আবদুল আযিয সেদিকে ইংগিত করে বললেন, "ফুফুজান, আপনি কি আপনার ভাতিজাকে এরূপ কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচাতে চান না?” ফুফু সবই বুঝলেন। লজ্জিতভাবে ফিরে এলেন খলীফার কাছ থেকে।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 এই বিরান ঘরের সাহায্যেই কি আপন ঘর ঠিক করতে এসেছি

📄 এই বিরান ঘরের সাহায্যেই কি আপন ঘর ঠিক করতে এসেছি


খলীফা উমার ইবন আব্দুল আযিযের বাসগৃহ। খলীফার পত্নী ঘরে বসে সেলাই করছিলেন। সে সময়ে একজন মহিলা খলীফার গৃহে প্রবেশ করলো। খলীফার ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল সে। পরিচয় দিল, "আমি সুদূর ইরাক থেকে এসেছি।” খলীফা পত্নী ফাতিমা মহিলাটিকে ঘরে এসে বসতে বললেন। মহিলাটি ঘরে প্রবেশ করে এদিক-ওদিক চাইতে লাগলো। বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলো, ঘরে কোন আসবাবপত্র নেই। সে খলীফা পত্নীর দিকে চেয়ে বললো, "এই বিরান ঘরের সাহায্যেই কি আপন ঘর ঠিক করতে এসেছি!”
খলীফা পত্নী তা শুনে বললেন, "লোকদের ঘর ঠিক করতে গিয়েই তো এ ঘর বিরান হয়েছে।”
এ সময় খলীফা উমার ইবন আব্দুল আযিয বাড়ি প্রবেশ করলেন। খলীফার ঘরের সামনেই একটা কূপ ছিল। খলীফা কূপ থেকে পানি তুলে উঠানের এক জলাধারে ঢালতে লাগলেন। তিনি পানি ঢালছিলেন আর মাঝে মাঝে ফাতিমার দিকে দেখছিলেন। এটা লক্ষ্য করে ইরাক থেকে আসা মহিলা খলীফা পত্নীকে বললো, "আপনি এ বেহায়া লোকটি থেকে কেন পর্দা করেন না? লোকটি তো নির্লজ্জের মত বার বার আপনাকে দেখছে।” খলীফা পত্নী ফাতিমা হেসে বললেন, "ইনিইতো আমীরুল মুমিনীন।”
খলীফা উমার ঘরের দিকে এগিয়ে এলেন। তারপর সালাম করে স্বীয় কক্ষের দিকে চলে গেলেন। জায়নামাযে যাওয়ার আগে খলীফা ফাতিমাকে ডেকে মহিলার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। ফাতিমা মহিলাটির আগমনের উদ্দেশ্য খলীফাকে জানালেন। মহিলার সব বিষয় জেনে খলীফা তাকে কাছে ডাকলেন এবং তার বক্তব্য জানতে চাইলেন। মহিলাটি বলল, "আমি খুবই অভাবগ্রস্ত, আমার পাঁচটি মেয়ে আছে। আমি তাদের ভরণ পোষণ করতে পারি না।” খলীফা তার দুঃখের কাহিনী শুনে খুবই ব্যথিত হলেন। সংগে সংগে তিনি দোয়াত কলম নিয়ে ইরাকের গভর্ণরকে চিঠি লিখলেন। খলীফা মহিলার ১মা, ২য়া, ৩য়া ও ৪র্থা মেয়ের জন্য ভাতা নির্ধারণ করে দিলেন। আর বললেন, "৫ম মেয়েকে ঐ চারজনের ভাতা থেকেই পরিপোষণ করতে হবে।”
মহিলা চিঠি নিয়ে ইরাক চলে এলো। পরে সময় করে দেখা করলো ইরাকের গভর্ণরের সাথে। গভর্ণর উমার ইবন আবদুল আযিযের চিঠি পড়ে কাঁদতে শুরু করলেন। মহিলাটি উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, "খলীফা কি মারা গেছেন?” গভর্ণর হাঁসূচক জবাব দিলেন। মহিলাও কাঁদতে শুরু করলো। গভর্ণর তাকে প্রবোধ দিয়ে বললেন, "তোমার আশংকার কোন কারণ নেই। ঐ মহা মানবের চিঠির অমর্যাদা আমি করব না।” গভর্ণর চিঠির মর্ম অনুসারে মহিলাটিকে তার প্রাপ্যের ব্যবস্থা করে দিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00