📘 আমরা সেই জাতি > 📄 মহানবীর দূত মাথায় এক টুকরা মাটি নিয়ে ফিরলেন

📄 মহানবীর দূত মাথায় এক টুকরা মাটি নিয়ে ফিরলেন


পারস্য সম্রাট খসরু তখন সিংহাসনে সমাসীন। তাঁর প্রতাপে চারদিক প্রকম্পিত। ভান্ডারে তাঁর অফুরন্ত হীরা, জহরত, মনিমুক্তা। গর্বিত সম্রাট ভাবেন, তাঁর সাম্রাজ্য যেমন অজয় অক্ষয়, তেমনি তাঁর ধন-সম্পদের কোন শেষ নেই। এই সম্রাট খসরুর কাছেই গেলেন রাসূলুল্লাহর দূত। রাসূলের (সা) একটি পত্র ছিল তাঁর সাথে। পত্রে রাসূলুল্লাহ (সা) সম্রাট খসরুকে আহবান জানিয়েছিলেন সত্যের দিকে। সম্রাট খসরু মহানবীর সে চিঠি পাঠ করলেন। পাঠ করে ক্রোধে ফেটে পড়লেন। বললেন, "তোমাদের এত বড় স্পর্ধা। পারস্যের একচ্ছত্র অধিপতি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সম্রাট খসরুর দরবারে ধর্ম কথা নিয়ে আসতে সাহস করেছো? তোমরা তো অত্যন্ত ঘৃণিত ও নীচ লোক।”
দূত সহাস্যে বললেন, "নিশ্চয়ই আমরা অত্যন্ত নীচ ও ঘৃণিত ছিলাম। অতঃপর আমাদের মাঝে এলেন একজন মহামানব মহানবী। তিনি আমাদের সত্যের সন্ধান দিলেন। আমরা উন্নত হয়ে উঠলাম। আপনি যদি তাঁর শিক্ষা, তাঁর ধর্মমত গ্রহণ করেন, তবে আমরা ভাই ভাই। নচেৎ অসত্যের সাথে সত্যের দ্বন্দ্ব অনিবার্য।”
গর্বিত সম্রাট খসরু মহানবীর দূতের এই কথা শুনে বারুদের ন্যায় জ্বলে উঠলেন। বললেন, "ওহে কে আছ, এর মাথায় পারস্যের এক টুকরি মাটি উঠিয়ে দাও। সম্রাট খসরুর দরবারে এসে এমন ভালো লোক খালি হাতে ফিরে যাবে, তা বড়ই অশোভন।”
অবিলম্বে এক টুকরি মাটি এনে পারসিকেরা মহানবীর দূতের মাথায় চাপিয়ে দিল। সকৌতুকে সম্রাট খসরু বললেন, "যাও, এ ভাবেই তোমরা পারসিকদের দাসত্ব করবে।”
সাহাবা সে মাটির টুকরি আর মাথা থেকে নামালেন না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পারস্য থেকে হিজাযে উপস্থিত হলেন। মাথায় টুকরি, পরিশ্রান্ত দেহ। কিন্তু মুখে প্রসন্ন হাসি। তিনি হাজির হলেন মহানবীর নিকট। বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা), আমি পারসিকদের নিজহাতে দেয়া মাটি মাথায় তুলে নিয়ে এসেছি।”
শুনে মহানবীর মুখমন্ডল স্বর্গীয় হাসিতে দীপ্ত হয়ে উঠল। বললেন তিনি, "উত্তম, ইনশায়াল্লাহ এটাই হবে। অচিরেই সে দেশের মাটি ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেবে।”
মহানবীর এ ভবিষ্যতবাণী অতি অল্প দিনেই অক্ষরে অক্ষরে বাস্তব রূপ লাভ করলো। বিশাল পারস্য সাম্রাজ্য নিঃশেষে মুসলমানদের করতলগত হলো। আর সম্রাট খসরুর বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতাপশালী সম্রাট ইয়াজদগির্দ কপর্দকশূন্য কাংগাল সেজে রাজ- প্রাসাদ থেকে পথে গিয়ে দাঁড়ালেন।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 একদিনে যিনি এতগুলো সৎকাজ করেছেন তিনি নিশ্চয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবেন

📄 একদিনে যিনি এতগুলো সৎকাজ করেছেন তিনি নিশ্চয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবেন


একদিন মহানবী (সা) তাঁর সামনে উপস্থিত সাহাবাদের লক্ষ্য করে বললেন, "তোমাদের মধ্যে এমন কে আছ যে আজ রোযা রেখেছ?” হযরত আবুবকর (রা) বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি রোযা রেখেছি।” নবী (সা) আবার বললেন, "এমন কে আছ যে, আজ কোন শবাধারের সাথে গমন করে জানাযার নামায পড়েছ?” আবুবকর (র) বললেন, "এইমাত্র আমি একাজ সামাধা করে এখানে এসেছি।” মহানবীর (সা) কন্ঠ থেকে আবার ঘোষিত হলো, "আচ্ছা এমন ব্যক্তি এখানে কে আছ যে আজ কোন পীড়িতের সেবা করেছ?” হযরত আবুবকর বললেন, "আজ আমি এক পীড়িত ব্যক্তির সেবা করেছি।” মহানবী (সা) আবারও বললেন, "আজ কিছু দান করেছ, এমন ব্যক্তি এই মজলিসে কেউ আছ?” সলজ্জভাবে হযরত আবুবকর উত্তরে বললেন, "এক অতিথিকে আমি সামান্য কিছু অর্থ সাহায্য করতে পেরেছি।” অবশেষে বিশ্ব নবী (সা) বললেন, "একদিনে যিনি এতগুলো সৎকাজ করেছেন নিশ্চয়ই তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন।"

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও

📄 আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও


হযরত উমার (রা) তখন খলীফা। খলীফা উমার (রা) এরূপ একটি পানির কূপ। খলীফার সাক্ষাতপ্রার্থী একজন লোক দেখলেন, খলীফা কূপ থেকে পানি তুলছেন। শুধু পানি তোলা নয় আগন্তুক বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলেন, পৃথিবীর শাসক উমার, পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য পদানতকারী উমার (রা) সেই পানি ভরা কলসি কাঁধে তুলে নিলেন। আগন্তুক আর স্থির থাকতে পারলেন না। তিনি দ্রুত খলীফার নিকটে গেলেন। একজন অপরিচিত লোককে দেখে হযরত উমার (রা) বললেন, "ভাই, আপনার কি কোন কথা আছে, বলবেন আমাকে?”
লোকটি বললেন, "হে আমীরুল মুমিনীন, যদি কলসটি দয়া করে আমার কাঁধে দিতেন।”
হযরত উমার (রা) খেতে যেতেই বললেন, "আমার ছেলে-মেয়ের খাদ্য পানীয় সংগ্রহের মাধ্যমে পুণ্য সঞ্চয় করা কি আমার উচিত নয়? আচ্ছা, এ ছাড়া কি আপনি আর কিছু বলবেন?”
আগন্তুক লোকটি বললেন, "আপনার এই অবস্থায় বলার মত কোন কথা আমার মনে আসছেনা। আগে বাড়ী চলুন। তারপর বলব। আমি আপনাকে অপেক্ষা করতে বলব, আপনি কাঁধে বোঝা নিয়ে আমার কথা শুনবেন, এটা হতে পারে না।”
আগন্তুকের কথা শুনে হযরত উমার থমকে দাঁড়ালেন। বোধ হয় ভাবলেন, 'আমি আমার নিজের কাজ করছি, এ কাজের অজুহাতে আগন্তুককে দাঁড় করিয়ে রাখা ঠিক হবে না।' তিনি কাঁধ থেকে কলসি নামিয়ে জানুর উপর রাখলেন। তার পর বললেন, "বলুন, আপনার কথা।”
আগন্তুক ভীষণ বিব্রত বোধ করলেন। তার কথা শুনার জন্য আমীরাল মুমিনীন এ ভাবে কষ্ট করবেন। কলসটি মাটিতে নামিয়ে রাখলে তবু কিছুটা কষ্টের লাঘব হয় তাঁর। তিনি খলীফাকে নিবেদন করলেন, "জানুর উপর কলস রেখে কথা শুনতে আপনার কষ্ট হবে। কলসটি দয়া করে মাটিতে রাখুন।”
খলীফা বললেন, "তা কি করে হয় ভাই? কলসির তলা ভিজা। এ জমিটি আমার নয়। ভিজা কলসির তলায় লেগে অন্যের জমি আমার বাড়িতে চলে গেলে, আকি কি জওয়াবদিহি করব?”
লোকটি বলল, "আমার জিজ্ঞাসার জবাব আমি পেয়ে গেছি, আপনি দয়া করে যান।”
উমার (রা) বললেন, "বুঝলাম না, বুঝিয়ে বলুন।”
লোকটি বলল, "ইয়া আমীরাল মুমিনীন, আমি জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলাম বর্তমান জরীপে অন্যের জমির কতকাংশ আমার জমির সাথে উঠে এসেছে। তা আমার জন্য হালাল কিনা?”

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 সা’দের প্রাসাদে আগুন

📄 সা’দের প্রাসাদে আগুন


সেনাপতি সা'দ। মুসলিম বাহিনীর অধিনায়ক সা'দ পারস্য জয় করেছেন। বিজয়ের পর হযরত উমার তাঁকে কুফার শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন। সেনাপতি সা'দ তাঁর বিজয় অভিযান কালে পারস্য সম্রাটের বিলাসব্যসন ও আরাম আয়েশের অফুরান নজীর দেখেছেন।
কুফা নগরী সাজাবার সময় বোধ হয় তাঁর সেসব কথা মনে পড়েছিল। তিনি নিজের জন্যও তাই সেখানে একটি প্রাসাদ তৈরী করলেন এবং সম্রাট খসরুর প্রাসাদের একটি তোরণ এনে তাঁর প্রাসাদে সংযুক্ত করলেন। বোধ হয় বিজেতা সা'দের মনে আয়েশের কিঞ্চিত আমেজ এসে বাসা বেঁধেছিল। এনিষ্কলুষ ভোগ তাঁর কাছে কোন খারাপ বিষয় বলেও বোধ হয়নি।
কিন্তু খবরটা খলীফা উমারের কাছে পৌঁছতেই তিনি বারুদের মত জ্বলে উঠলেন। সেনাপতি সা'দের মতি বিভ্রম ঘটেছে কিনা তিনি ভেবে পেলেন না। হযরত উমার (রা) ত্বরিত একজন দূতকে সা'দের নামে একটি চিঠি দিয়ে বললেন, "শোন, পৌঁছেই তুমি সা'দের প্রাসাদে আগুন ধরিয়ে দেবে। সা'দ তোমাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলেই তাকে এ চিঠিখানা দেবে।” দূত ছুটল কুফার দিকে। হযরত উমারের যা নির্দেশ ছিল, তাই করল সে। সা'দের প্রাসাদে আগুন ধরিয়ে দিলো। স্তম্ভিত সা'দ খলীফার দূতের এই কান্ড দেখে তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন। দূত বিনা বাক্য ব্যয়ে খলীফার চিঠি তাঁর হাতে তুলে দিল। সা'দ চিঠিটি তাঁর চোখের সামনে মেলে ধরলেন। তাতে লিখা ছিলঃ "শুনতে পেলাম, নিজের আরাম-আয়েশের জন্য খসরুর প্রাসাদের মত তুমি এক প্রাসাদ গড়েছো। শুনেছি, খসরুর প্রাসাদের একটি কবাটও এনে তোমার প্রাসাদে লাগিয়েছ। দারোয়ান, সিপাইও রেখেছ। এতে প্রজাদের অভাব অভিযোগ জানাতে অসুবিধা হবে। তা বোধ হয় তুমি নিশ্চয়ই ভাবনি। নবীর পথ পরিত্যাগ করে খসরুর পথ ধরেছো। ভুলোনা, প্রাসাদে বাস করেও খসরুদের দেহ কবরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আর নবী সামান্য কুটিরে বাস করেও সর্বোচ্চ জান্নাতে উন্নীত হয়েছেন। মাসলামাকে তোমার প্রাসাদ পুড়িয়ে ফেলবার জন্য পাঠালাম। বাস করার জন্য একটি কুটির এবং একটি খাজাঞ্চি খানাই যথেষ্ট।” সা'দ নত মস্তকে, অশ্রুসিক্ত নয়নে খলীফার নির্দেশ মেনে নিলেন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00