📄 ‘এ দরবারে শুধু একজন আলেমই আছেন’
সুলতান আবদুল আজিজ মিসর সফরে আসছেন। সাড়া পড়ে গেছে গোটা মিসরে। মিসরের শাসক ইসমাঈল সম্বর্ধনার আয়োজনে মহাব্যস্ত। সুলতান খুশী হলে শুধু তার আসন পাকাপোক্ত হওয়াই নয়, বহু আকাঙ্ক্ষিত খেতাবও এবার মিলে যেতে পারে।
সুলতানের জন্যে আড়ম্বরপূর্ণ সম্বর্ধনার ব্যবস্থা করলেন। নির্দিষ্ট দিনে সুলতান আবদুল আজিজ মিসরে আসলেন। তাঁর সম্মানে বিশেষ দরবার বসানো হলো।
সুলতানকে সম্মান প্রদর্শনের জন্যে আলেমদেরও একত্রিত করা হয়েছে।
আলেমদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাঁরা অবনত মস্তকে দরবারে সুলতানের সামনে হাজির হবেন এবং মাথা ঝুঁকিয়ে কুর্নিশ করার পর পিছু হটে দরবার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, সুলতানকে পেছন দেখিয়ে অসম্মান করা যাবে না কিছুতেই। সুলতান খুশী হলে আলেমরা প্রচুর ইনাম পাবেন।
একে একে আলেমরা দরবারে প্রবেশ করতে লাগলেন অবনত মস্তকে এবং কুর্নিশ করে পিছু হটে বেরিয়ে এলেন।
আলেমদের মধ্যে ছিলেন শেখ হাসানুল আদাদী। সর্বশেষে এল তাঁর দরবারে প্রবেশের পালা।
তিনি উন্নত শিরে দরবারে প্রবেশ করলেন। সুলতানকে কুর্নিশ না করে তিনি সালাম দিলেন। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে যেভাবে দরবারে প্রবেশ করেছিলেন, সেইভাবে উন্নত শিরে দরবার থেকে বেরিয়ে এলেন।
সুলতানের কাছে বসা ইসমাঈলের মন হায় হায় করে উঠল। সুলতান নিশ্চয় অপমানিত বোধ করেছেন এবং ভীষণ ক্ষুব্ধ হবেন নিশ্চয়।
দরবার শুদ্ধ সকলের মুখ শুকিয়ে গেল। মহামান্য সুলতান কি করেন সেই শংকা দেখা দিল সকলের মনে।
দরবার থেকে বের হলে সকলেই শেখ হাসানুলকে ছেঁকে ধরলো। বলল তাঁকে, আপনি একি করলেন সবকিছু জানার পরেও।
শেখ বললেন, একজন সুলতান হিসেবে যে সম্মান পাওয়া উচিত তাঁকে তা দিয়েছি।
দরবার শেষ করার আগে সুলতান আবদুল আজিজ আলেমদের মধ্যে শুধু শেখ হাসানুল আদাদীকেই পুরস্কৃত করলেন এবং বললেন, 'এই দরবারে শুধু এই একজন আলেমই রয়েছেন।'
📄 হুসাইন স্বর্ণ বিক্রি করলেন
মহানবীর (সা) প্রিয় নাতি হুসাইন (রা)।
তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী (রা)-এর পুত্র।
দরিদ্রের জীবন তাঁর।
বিরাট ঋণের বোঝা তাঁর মাথায়।
কিন্তু 'আবী নাইজার' নামক অতি মূল্যবান ঝর্ণার মালিক তিনি।
অনেকেই হুসাইনকে (রা) পরামর্শ দেন যে, 'আবী নাইজার' ঝর্ণা বিক্রি করে ঋণ শেষার্ধ করেও বেশ অর্থের মালিক হতে পারেন তিনি।
কিন্তু আবী নাইজার ঝর্ণার পানি গরীব মুসলমানরা ব্যবহার করে। এ ঝর্ণার পানি থেকে সেচ করে তারা ফসল ফলায়। হুসাইন (রা) এ ঝর্ণা বিক্রি করলে গরীব মুসলমানরা এ ঝর্ণার পানি থেকে বঞ্চিত হবে। হুসাইন লাভবান হলেও মহাক্ষতিগ্রস্ত হবে বিরাট সংখ্যক গরীব মুসলমান।
এই চিন্তা করে হযরত হুসাইন (রা) আবী নাইজার ঝর্ণা বিক্রি করতে রাজী হননি। গরীব মুসলমানদের ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিবর্তে নিজের দারিদ্র ও ঋণের বোঝা বহনকেই বেত্তর মনে করেন তিনি।