📘 আমরা সেই জাতি > 📄 জালেম শাসকের সামনে নির্ভীক আলেম

📄 জালেম শাসকের সামনে নির্ভীক আলেম


জাহির নামের এক সুলতান তখন দামেস্কের সিংহাসনে। বৃষ্টি না হওয়ায় পশুর মড়ক ইত্যাদি কারণে সিরিয়ায় তখন দুর্ভিক্ষাবস্থা। মানুষের দুর্গতির সীমা নেই।
এই সময় যুদ্ধ-প্রস্তুতির কথা বলে শাসক জাহির জনগণের উপর ট্যাক্স বসালেন। দামেক্কেই বাস করতেন শেখ মহিউদ্দিন নববী নামের এক বিখ্যাত আলেম। তিনি সুলতান জাহিরের কাছে এক চিঠি লিখে দুর্গত জনগণের উপর ট্যাক্স না বসাবার জন্যে অনুরোধ করলেন।
শেখ মহিউদ্দিনের এই চিঠি পেয়ে সুলতান ক্ষুব্ধ হলেন এবং তার ট্যাক্স বসাবার পক্ষে আলেমদের ফতোয়া জোগাড় করতে লাগলেন।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মাধ্যমে এ ধরনের বহুসংখ্যক ফতোয়া জোগাড় হবার পর জাহির ডাকলেন শেখ মহিউদ্দিনকে তাঁর দরবারে।
শেখ দরবারে এলে সুলতান তাঁকে ফতোয়ায় অন্য আলেমদের দস্তখত দেখিয়ে ট্যাক্স বৃদ্ধির পক্ষে তাঁকেও দস্তখত দিতে বললেন।
সুলতান জাহির-এর এই কৌশল ও তাঁর উপর চাপ প্রয়োগ দেখে শেখ মহিউদ্দিন নববী খুবই অসন্তুষ্ট হলেন। তিনি সুলতানকে বললেন, 'আমি জানি, আপনি একজন কয়েদী ক্রীতদাস ছিলেন। ছিলেন একজন দেউলিয়া। আল্লাহ আপনার উপর অনুগ্রহ করেন এবং আপনাকে বাদশাহর মর্যাদায় উন্নীত করেন। আমি জানি, আপনার কাছে জরিদার কাপড় পরিহিত এক হাজার ক্রীতদাস এবং আপাদমস্তক স্বর্ণালংকারে মণ্ডিত একশো ক্রীতদাসী রয়েছে। এখন আপনি যদি ক্রীতদাসদের এই জরিদার কাপড়গুলো এবং দাসীদের অলংকারসমূহ বিক্রি করে দেন, তাহলে আমি ফতোয়া দেব যে, প্রজাদের নিকট থেকে আপনার ট্যাক্স আদায় বৈধ।” সুলতান জাহির ক্রোধে ফেটে পড়লেন শেখ মহিউদ্দিনের এই কথায়। তৎক্ষণাত তাঁকে বহিষ্কার করলেন দামেস্ক থেকে।
দেশের সমস্ত আলেম ও ফকিহগণ আহত হলেন এই ঘটনায়। তাঁরা সকলে সুলতান জাহিরকে বললেন, "ইনি আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় ও সবার সেরা আলেম। তাঁকে দামেস্কে ফিরিয়ে আনুন।"
বাদশাহ জাহির অনুমতি দিলেন শেখ মহিউদ্দিনকে দামেস্কে আসার জন্যে। কিন্তু শেখ মহিউদ্দিন সুলতানের এই অনুগ্রহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বললেন, 'যতদিন জাহির সেখানে থাকবেন, আমি যাব না।' এই ঘটনার এক মাসের মধ্যে জাহির ইন্তিকাল করলেন。

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 ‘এ দরবারে শুধু একজন আলেমই আছেন’

📄 ‘এ দরবারে শুধু একজন আলেমই আছেন’


সুলতান আবদুল আজিজ মিসর সফরে আসছেন। সাড়া পড়ে গেছে গোটা মিসরে। মিসরের শাসক ইসমাঈল সম্বর্ধনার আয়োজনে মহাব্যস্ত। সুলতান খুশী হলে শুধু তার আসন পাকাপোক্ত হওয়াই নয়, বহু আকাঙ্ক্ষিত খেতাবও এবার মিলে যেতে পারে।
সুলতানের জন্যে আড়ম্বরপূর্ণ সম্বর্ধনার ব্যবস্থা করলেন। নির্দিষ্ট দিনে সুলতান আবদুল আজিজ মিসরে আসলেন। তাঁর সম্মানে বিশেষ দরবার বসানো হলো।
সুলতানকে সম্মান প্রদর্শনের জন্যে আলেমদেরও একত্রিত করা হয়েছে।
আলেমদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাঁরা অবনত মস্তকে দরবারে সুলতানের সামনে হাজির হবেন এবং মাথা ঝুঁকিয়ে কুর্নিশ করার পর পিছু হটে দরবার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, সুলতানকে পেছন দেখিয়ে অসম্মান করা যাবে না কিছুতেই। সুলতান খুশী হলে আলেমরা প্রচুর ইনাম পাবেন।
একে একে আলেমরা দরবারে প্রবেশ করতে লাগলেন অবনত মস্তকে এবং কুর্নিশ করে পিছু হটে বেরিয়ে এলেন।
আলেমদের মধ্যে ছিলেন শেখ হাসানুল আদাদী। সর্বশেষে এল তাঁর দরবারে প্রবেশের পালা।
তিনি উন্নত শিরে দরবারে প্রবেশ করলেন। সুলতানকে কুর্নিশ না করে তিনি সালাম দিলেন। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে যেভাবে দরবারে প্রবেশ করেছিলেন, সেইভাবে উন্নত শিরে দরবার থেকে বেরিয়ে এলেন।
সুলতানের কাছে বসা ইসমাঈলের মন হায় হায় করে উঠল। সুলতান নিশ্চয় অপমানিত বোধ করেছেন এবং ভীষণ ক্ষুব্ধ হবেন নিশ্চয়।
দরবার শুদ্ধ সকলের মুখ শুকিয়ে গেল। মহামান্য সুলতান কি করেন সেই শংকা দেখা দিল সকলের মনে।
দরবার থেকে বের হলে সকলেই শেখ হাসানুলকে ছেঁকে ধরলো। বলল তাঁকে, আপনি একি করলেন সবকিছু জানার পরেও।
শেখ বললেন, একজন সুলতান হিসেবে যে সম্মান পাওয়া উচিত তাঁকে তা দিয়েছি।
দরবার শেষ করার আগে সুলতান আবদুল আজিজ আলেমদের মধ্যে শুধু শেখ হাসানুল আদাদীকেই পুরস্কৃত করলেন এবং বললেন, 'এই দরবারে শুধু এই একজন আলেমই রয়েছেন।'

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 হুসাইন স্বর্ণ বিক্রি করলেন

📄 হুসাইন স্বর্ণ বিক্রি করলেন


মহানবীর (সা) প্রিয় নাতি হুসাইন (রা)।
তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী (রা)-এর পুত্র।
দরিদ্রের জীবন তাঁর।
বিরাট ঋণের বোঝা তাঁর মাথায়।
কিন্তু 'আবী নাইজার' নামক অতি মূল্যবান ঝর্ণার মালিক তিনি।
অনেকেই হুসাইনকে (রা) পরামর্শ দেন যে, 'আবী নাইজার' ঝর্ণা বিক্রি করে ঋণ শেষার্ধ করেও বেশ অর্থের মালিক হতে পারেন তিনি।
কিন্তু আবী নাইজার ঝর্ণার পানি গরীব মুসলমানরা ব্যবহার করে। এ ঝর্ণার পানি থেকে সেচ করে তারা ফসল ফলায়। হুসাইন (রা) এ ঝর্ণা বিক্রি করলে গরীব মুসলমানরা এ ঝর্ণার পানি থেকে বঞ্চিত হবে। হুসাইন লাভবান হলেও মহাক্ষতিগ্রস্ত হবে বিরাট সংখ্যক গরীব মুসলমান।
এই চিন্তা করে হযরত হুসাইন (রা) আবী নাইজার ঝর্ণা বিক্রি করতে রাজী হননি। গরীব মুসলমানদের ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিবর্তে নিজের দারিদ্র ও ঋণের বোঝা বহনকেই বেত্তর মনে করেন তিনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00