📘 আমরা সেই জাতি > 📄 এক রাজা, এক রাজ্যের ইসলাম গ্রহণ

📄 এক রাজা, এক রাজ্যের ইসলাম গ্রহণ


১৫০১ খৃষ্টাব্দ। শেখ, আবদুল্লাহ নামে একজন আরব ধর্ম প্রচারক মালয় উপদ্বীপের সর্ব উত্তর কুঁয়েদায় আসলেন। শেখ কুয়েদার রাজার সাথে দেখা করতে চাইলেন। সাক্ষাতের ব্যবস্থা হলো। তারপর দু'জনের মধ্যে নিম্নোক্ত কথোপকথন হলো:
আবদুল্লাহ: আপনার দেশের ধর্ম কি?
রাজা: পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে যা আমরা পেয়েছি সেটাই আমাদের ধর্ম। আপনার ধর্ম কি?
আবদুল্লাহ: আমাদের ধর্ম স্বয়ং আল্লাহর কাছ থেকে তাঁর রাসূলের মাধ্যমে আমাদের কাছে এসেছে।
রাজা: স্বয়ং আল্লাহর কাছ থেকে? ঐ ধর্মের নাম কি?
আবদুল্লাহ: এর নাম ইসলাম। আমরা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সা)-এর মাধ্যমে এই ধর্ম পেয়েছি। সর্ব ধর্মের উপর এটা বিজয়ী হয়েছে।
রাজা: তাহলে ঐ ধর্ম সম্পর্কে আমাকে কিছু বলুন।
শেখ আবদুল্লাহ ইসলামের শিক্ষা ও সৌন্দর্যের কিছু বিবরণ দিলেন। সংগে সংগে রাজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন। তাঁর সাথে সাথে অন্যান্য সভাসদ এবং প্রজারাও ইসলামে দীক্ষিত হলো।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 আল-বেরুনীর জ্ঞান পিপাসা

📄 আল-বেরুনীর জ্ঞান পিপাসা


জ্ঞানানুসন্ধিৎসু আল-বেরুনীর মৃত্যুকালীন অবস্থা সম্পর্কে ফকীহ আবুল হাসান বলেনঃ
"যখন আমি তাঁর শয্যাপাশে গেলাম, তখন দেখলাম তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তিনি আমাকে দেখে বললেন, একদিন আপনি আমাকে নানীর সম্পত্তির অংশ ভাগ সম্পর্কে বলেছিলেন। আপনি কি অনুগ্রহ করে সে কথা বলবেন যাতে আমি তা আবার স্মরণ করতে পারি।"
আমি বললাম, 'আপনার এই অবস্থায় সেই আলোচনা আমি কিভাবে তুলি?' তিনি বললেন, 'এ বিষয়টি না জেনে পৃথিবী থেকে যাওয়ার চেয়ে জেনে যাওয়াই ভাল।'
আমি সেই ভাগ-বন্টনের ফর্মুলা বললাম। আল-বেরুনী তা মুখস্থ করে আমাকে শুনালেন তাঁর ভুল শুধরাবার জন্যে।
এর পর তাঁর শয্যাপাশ থেকে চলে এলাম। রাস্তায় পা দেবার আগেই শুনতে পেলাম সেই জ্ঞানতাপস আর দুনিয়াতে নেই।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 বাবরের আমানতদারী

📄 বাবরের আমানতদারী


ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর। মধ্যএশিয়ার ফারগানা রাজ্যের শাসন কর্তার তিনি ছেলে। পরে তিনি ফারগানার শাসনকর্তা হন। বহু উত্থান-পতনে ভরা ছিল তাঁর জীবন। সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর চরিত্র ছিল হিরকের মত উজ্জ্বল। তাঁর সততা, মানবিকতা ছিল কিংবদন্তির মত মানুষের মুখে মুখে।
বাবর যখন ফারগানার শাসনকর্তা, তখন একটি বাণিজ্য কাফিলার মালিক ইন্দিজান পাহাড় এলাকায় বজ্রপাতে মারা যায়। বাবর এ কাফিলার সমস্ত সম্পদ সংগ্রহ করে জমা করতে এবং মালিকের উত্তরাধিকারীদের কাছে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন।
দু'বছর পর এ উত্তরাধিকারীরা আসে এবং সমস্ত জিনিস ফেরত পায়। বাবরকে তারা উপঢৌকন দিতে চায়। কিন্তু বাবর শুধু প্রত্যাখ্যানই করেননি উপরন্তু তাদের আসা-যাওয়ার সব খরচ বহন করেন。

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 ইমাম ইউনুসের ব্যবসায়

📄 ইমাম ইউনুসের ব্যবসায়


ইমাম ইউনুস বিন ওবায়েদের কথা। তিনি ইসলামের একজন বড় খাদেম। এই সাথে সাথে বড় ব্যবসায়ীও। বিরাট তাঁর কাপড়ের ব্যবসা। বিভিন্ন দামের কাপড় থরে থরে সজ্জিত তাঁর দোকানে।
তাঁর দোকানে এক ধরনের প্রতি জোড়া কাপড়ের দাম ছিল ৪০০ দিরহাম। অন্য আর এক ধরনের কাপড়ের প্রতি জোড়ার দাম ছিল ২০০ দিরহাম।
একদিন তিনি ভাতিজাকে দোকানে রেখে আসরের নামায পড়তে গেলেন। এ সময় একজন খদ্দের তাঁর দোকানে গেল এবং ৪০০ দিরহাম দামের একজোড়া কাপড় চাইল।
ইমাম ইউনুসের ভাতিজা তাকে ২শ' দিরহাম দামের এক জোড়া দিল।
খদ্দের কাপড় জোড়া দেখে পছন্দ করল এবং ৪০০ দিরহাম দিয়ে কাপড়টি নিয়ে নিল।
যখন খদ্দেরটি কাপড় নিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন ইমাম ইউনুস নামায পড়ে ফিরছিলেন। লোকটির হাতে কাপড় জোড়া দেখে চিনতে পারলেন যে, তাঁর দোকানের কাপড়। তিনি খদ্দেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, সে কাপড়টি কত টাকা দিয়ে কিনেছে?
লোকটি বলল, ৪০০ দিরহাম। ইমাম বললেন, 'এটা তো দু'শ' দিরহামের কাপড়। যান কাপড় ফেরত দিয়ে আসুন।'
লোকটি বলল, আমি কাপড় পছন্দ করেই ঐ দাম দিয়ে কিনেছি। আমার এলাকায় এ কাপড়ের দাম ৫০০ দিরহাম। সুতরাং আমি ঠকিনি।
ইমাম বললেন, 'না কাপড় আপনাকে ফেরত দিতেই হবে। কারণ, ইসলামে মানুষের ব্যাপারে হিত কামনার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।'
ইমাম তাঁর ভাতিজাকে দারুণ ভর্ৎসনা করলেন, বললেন, 'তোমার মনে আল্লাহর ভয় হলো না?' ভাতিজা দুঃখ প্রকাশ করে বলল, 'খদ্দের মহোদয় কাপড় দেখে শুনে পছন্দ করে ঐ দামে কিনেছিলেন।'
ইমাম ইউনুস বললেন, নিজের জন্য যা পছন্দ কর, তা অপরের জন্যও পছন্দ করতে হয়, এ কথা ভুললে কেন?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00