📄 সুলতান বাহমানীর উচিত শিক্ষা
দক্ষিণ ভারতের বাহমনী রাজ্যের সুলতান আলাউদ্দিন শাহ বাহমানি (দ্বিতীয়) একজন বাগ্মী লোক ছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি মসজিদে খুতবা দিতেন এবং বলতেন তিনি সংযমী, ন্যায়পরায়ণ, উদার ও দয়ালু রাষ্ট্রনায়ক।
একজন আরবীয় বণিক শাহ বাহমানির কাছে একটি ঘোড়া বিক্রয় করেছিলেন, কিন্তু দাম তখনও পাননি।
শাহ বাহমানির খুতবা দেয়ার সময় একদিন তিনি মসজিদে হাযির ছিলেন এবং রাজা নিজের যে প্রশস্তি গাইছিলেন তা শুনছিলেন। এসব কথা শুনে তার প্রতি দুর্ব্যবহার এবং নিরপরাধ সাইয়েদদের সাম্প্রতিক হত্যাকান্ডের কথা তাঁর মনে পড়ে গেলো। তিনি চিৎকার করে উঠলেন এই বলে—"আপনি না ন্যায়পরায়ণ, না দয়ালু, না ধৈর্যশীল, না উদার; বরং আপনি সত্যিকার মু'মিনের জন্য নির্দিষ্ট মসজিদের মিম্বর থেকে বাগাড়ম্বর প্রকাশের সাহস করছেন?”
শাহ বাহমানি তৎক্ষণাৎ ঐ বণিকের ঘোড়ার দাম ঐখানেই দিয়ে দিতে বললেন এবং তিনি প্রাসাদে চলে গেলেন। এরপর তিনি আর মসজিদের মিম্বরে উঠেননি।
📄 এক রাজা, এক রাজ্যের ইসলাম গ্রহণ
১৫০১ খৃষ্টাব্দ। শেখ, আবদুল্লাহ নামে একজন আরব ধর্ম প্রচারক মালয় উপদ্বীপের সর্ব উত্তর কুঁয়েদায় আসলেন। শেখ কুয়েদার রাজার সাথে দেখা করতে চাইলেন। সাক্ষাতের ব্যবস্থা হলো। তারপর দু'জনের মধ্যে নিম্নোক্ত কথোপকথন হলো:
আবদুল্লাহ: আপনার দেশের ধর্ম কি?
রাজা: পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে যা আমরা পেয়েছি সেটাই আমাদের ধর্ম। আপনার ধর্ম কি?
আবদুল্লাহ: আমাদের ধর্ম স্বয়ং আল্লাহর কাছ থেকে তাঁর রাসূলের মাধ্যমে আমাদের কাছে এসেছে।
রাজা: স্বয়ং আল্লাহর কাছ থেকে? ঐ ধর্মের নাম কি?
আবদুল্লাহ: এর নাম ইসলাম। আমরা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সা)-এর মাধ্যমে এই ধর্ম পেয়েছি। সর্ব ধর্মের উপর এটা বিজয়ী হয়েছে।
রাজা: তাহলে ঐ ধর্ম সম্পর্কে আমাকে কিছু বলুন।
শেখ আবদুল্লাহ ইসলামের শিক্ষা ও সৌন্দর্যের কিছু বিবরণ দিলেন। সংগে সংগে রাজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন। তাঁর সাথে সাথে অন্যান্য সভাসদ এবং প্রজারাও ইসলামে দীক্ষিত হলো।
📄 আল-বেরুনীর জ্ঞান পিপাসা
জ্ঞানানুসন্ধিৎসু আল-বেরুনীর মৃত্যুকালীন অবস্থা সম্পর্কে ফকীহ আবুল হাসান বলেনঃ
"যখন আমি তাঁর শয্যাপাশে গেলাম, তখন দেখলাম তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তিনি আমাকে দেখে বললেন, একদিন আপনি আমাকে নানীর সম্পত্তির অংশ ভাগ সম্পর্কে বলেছিলেন। আপনি কি অনুগ্রহ করে সে কথা বলবেন যাতে আমি তা আবার স্মরণ করতে পারি।"
আমি বললাম, 'আপনার এই অবস্থায় সেই আলোচনা আমি কিভাবে তুলি?' তিনি বললেন, 'এ বিষয়টি না জেনে পৃথিবী থেকে যাওয়ার চেয়ে জেনে যাওয়াই ভাল।'
আমি সেই ভাগ-বন্টনের ফর্মুলা বললাম। আল-বেরুনী তা মুখস্থ করে আমাকে শুনালেন তাঁর ভুল শুধরাবার জন্যে।
এর পর তাঁর শয্যাপাশ থেকে চলে এলাম। রাস্তায় পা দেবার আগেই শুনতে পেলাম সেই জ্ঞানতাপস আর দুনিয়াতে নেই।
📄 বাবরের আমানতদারী
ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর। মধ্যএশিয়ার ফারগানা রাজ্যের শাসন কর্তার তিনি ছেলে। পরে তিনি ফারগানার শাসনকর্তা হন। বহু উত্থান-পতনে ভরা ছিল তাঁর জীবন। সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর চরিত্র ছিল হিরকের মত উজ্জ্বল। তাঁর সততা, মানবিকতা ছিল কিংবদন্তির মত মানুষের মুখে মুখে।
বাবর যখন ফারগানার শাসনকর্তা, তখন একটি বাণিজ্য কাফিলার মালিক ইন্দিজান পাহাড় এলাকায় বজ্রপাতে মারা যায়। বাবর এ কাফিলার সমস্ত সম্পদ সংগ্রহ করে জমা করতে এবং মালিকের উত্তরাধিকারীদের কাছে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন।
দু'বছর পর এ উত্তরাধিকারীরা আসে এবং সমস্ত জিনিস ফেরত পায়। বাবরকে তারা উপঢৌকন দিতে চায়। কিন্তু বাবর শুধু প্রত্যাখ্যানই করেননি উপরন্তু তাদের আসা-যাওয়ার সব খরচ বহন করেন。