📘 আমরা সেই জাতি > 📄 একজন শাহজাদার প্রকৃত কাজ

📄 একজন শাহজাদার প্রকৃত কাজ


গজনীর সুলতান সবুক্তগীন। মাহমুদ তাঁর সন্তান।
গজনীর কাছে শাহজাদা মাহমুদ একটি মনোরম বিনোদন প্রাসাদ তৈরী করেছিলেন। যখন এর নির্মাণ সমাপ্ত প্রায়, তখন একদিন তিনি তাঁর পিতা সবুক্তগীনকে এই বাড়ীটি দেখার জন্য আমন্ত্রণ করলেন।
তাঁর পিতা সবুক্তগীন সভাসদসহ সেই প্রাসাদ দেখতে এলেন। আমন্ত্রিতদের সকলেই সেই প্রাসাদের বিভিন্ন দিক, বিভিন্ন কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। কিন্তু মাহমুদ পিতার মন্তব্য কি তা জানার জন্য উদগ্রীব ছিলেন।
প্রাসাদ পরিদর্শন শেষে সুলতান সবুক্তগীন বললেন, "আমার বিবেচনায় গোটা জিনিসটাই একটা খেলনা। দেশের যে কোন প্রজাই অর্থ খরচ করে এ ধরনের প্রাসাদ গড়তে পারে। একজন শাহজাদার প্রকৃত কাজ হলো সুকর্ম-সুখ্যাতির এমন ভিত রচনা করা যা যুগ যুগ ধরে অনুকরণ করা হবে এবং কারও পক্ষে অনায়াসে যা অতিক্রম করা দুরূহ হবে।”
এই শাহাযাদা মাহমুদই পরবর্তীকালের মহান বিজেতা সুলতান মাহমুদ।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 ফকিরের দরবারেই সুলতান হাযির হলেন

📄 ফকিরের দরবারেই সুলতান হাযির হলেন


গজনীর সুলতান মাহমুদ একদিন সমরখন্দের খারকান গ্রামে গেলেন। শেখ আবুল হাসান নামে একজন বুযর্গ ব্যক্তি সেখানে বাস করতেন। সুলতানের ইচ্ছা তাঁরই সাথে দেখা করা।
তিনি সেখানে পৌঁছে বুযর্গ ব্যক্তিকে অনুরোধ করে পাঠালেন তাঁর তাঁবুতে আসার জন্য।
সুলতানের বেয়ারা যখন সুলতানের বার্তাটি ঐ বুযর্গ ব্যক্তিকে দিলেন, তখন তিনি বললেন, 'আমি উপরের মহারাজাধিরাজের হুকুম পালনে এতই ব্যস্ত যে, অধঃস্তন এই রাজার হুকুম পালনের জন্য আমার সময় নেই বলে আমি দুঃখিত।'
সুলতান মাহমুদ যখন এই খবর শুনলেন তিনি অভিভূত হয়ে পড়লেন এবং বললেন, 'উঠ তোমরা, আমরাই তাঁর কাছে যাব। তিনি এখানে আসবেন এমন মানুষ তিনি নন।
সুলতান শেখ আবুল হাসানের কাছে গেলেন এবং তাঁকে অভিনন্দন জানালেন। শেখ স্বাগত জানালেন সুলতানকে। কিন্তু আসন থেকে উঠলেন না।
সুলতান তাঁর কাছে কিছু উপদেশ চাইলেন। শেখ বললেন, 'মসজিদে নামায পড়বে, দান করবে এবং নিজ জনগণকে ভালবাসবে।'
সুলতান তাঁর আশীর্বাদ চাইলেন। শেখ বললেন, 'তুমি সর্বশেষ মাহমুদের (প্রশংসিতের) সাথে থাক।'
সুলতান এক থলে টাকা শেখের সামনে রাখলেন। শেখ এক খন্ড বার্লির রুটি তুলে নিয়ে সুলতানকে বললেন, 'খাও।' সুলতান মুখভরে রুটি চিবালেন কিন্তু গিলতে পারলেন না। শেখ বললেন, 'এই বার্লির রুটি যেমন তোমার গলায় বাধছে, তোমার স্বর্ণ মুদ্রাগুলো তেমনি আমার গলায় বাধবে।' এই স্বর্ণ মুদ্রাগুলো নিয়ে যাও এবং দরিদ্রদের মধ্যে বিলি করে দাও।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 হাকাম উত্তপ্ত উত্তেজনার মধ্যে এক খন্ড বরফ

📄 হাকাম উত্তপ্ত উত্তেজনার মধ্যে এক খন্ড বরফ


৮১৪ খৃষ্টাব্দের কথা। হাকাম তখন স্পেনের শাসক। কর্ডোভায় এক ভয়ানক বিদ্রোহ দেখা দিল। বিদ্রোহীরা সমুদ্র গর্জনের মত ভয়ানক রূপ নিয়ে এগিয়ে আসছে।
হাকাম ঘোড়সওয়ার এক বাহিনীকে নির্দেশ দিলেন ওদের প্রতিরোধ করতে। কিন্তু তারা পরাজিত হয়ে ফিরে এলো। তাঁর প্রাসাদের রক্ষীরাও হতাশ ও আতংকিত হয়ে পড়ল।
কিন্তু হাকামকে দেখা গেল অত্যন্ত শান্ত। চারদিকের উত্তপ্ত উত্তেজনার মধ্যে যেন তিনি একখন্ড বরফ। দরবারে বসেই তিনি তাঁর হেরেম থেকে মৃগনাভি আনালেন। তারপর তিনি চুল ও দাড়ি সুবিন্যস্ত করে তাতে মৃগনাভি লাগালেন।
তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন সহচর চিৎকার করে বলে উঠল, 'জাহাপনা, আমাকে মাফ করুন, নিজকে সুগন্ধচর্চিত করার আশ্চর্য এক সময় আপনি বেছে নিয়েছেন। যে বিপদ আমাদের আতংকিত করছে তা কি আপনি দেখতে পাচ্ছেন না?'
হাকাম ধমক দিলেন, 'চুপ কর বোকা, যদি আমার মুখ মাথা সুগন্ধচর্চিত না করি, তাহলে কেমন করে বিদ্রোহীরা শত মাথার মধ্যে আমার মাথা চিহ্নিত করবে।?'
তারপর হাকাম পূর্ণভাবে অস্ত্রসজ্জিত হয়ে সিংহাসন থেকে নামলেন। ধীর ও শান্তভাবে সেনাবাহিনী পরিদর্শন করলেন। তারপর তিনি তাঁর সৈন্যদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিলেন। বিদ্রোহীরা ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরাজিত হলো ও পশ্চাদপসরণ করল।

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত উযীরের মা

📄 মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত উযীরের মা


হাসান ছিলেন সুলতান মাহমুদের একজন বিখ্যাত উযীর। সুলতান মাহমুদের সন্তান ও উত্তরাধিকারী সুলতান মাসুদের সময় তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হলেন। তাঁকে বিদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলো। তাঁকে লাঞ্ছিত করা হলো। অবশেষে প্রাণদন্ড দেয়া হলো।
পাগড়ী-পাজামা পরে উজ্জ্বল মুখ এবং দ্যুতিময় দেহ নিয়ে বিজ্ঞ আসামী মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলেন। যারা হাযির ছিল, তারা কেউ এ বেদনাদায়ক মৃত্যুতে না কেঁদে থাকতে পারলো না।
শুধু কাঁদলো না হাসানের মা। একটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বললেন, 'আমার সন্তানের কি ভাগ্য। সুলতান মাহমুদ তাকে দিয়েছিল দুনিয়া আর মাসুদের মত সুলতান তাকে দান করলো আখিরাত।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00