📘 আমরা সেই জাতি > 📄 আসল রাজ্যতো এ ব্যক্তিরই, হারুনের নয়

📄 আসল রাজ্যতো এ ব্যক্তিরই, হারুনের নয়


রাজার থাকে রাজ্য, থাকে শক্তি। রাজাকে মান্য করে কেউ ইচ্ছায়, অনেকেই অনিচ্ছায়। যেখানে ভয় মান্য করার মানদন্ড, সেখানে ভালোবাসা থাকেনা।
জ্ঞানীরা, আলেমরা, নিঃস্বার্থ ধর্মনেতারা রাজ্যহীন রাজা। মানুষের হৃদয়ে তাঁদের সাম্রাজ্য, তাই মানুষের হৃদয়ে সীমাহীন ভালোবাসা তাঁদেরই জন্যে। যা রাজা-বাদশারা কল্পনা করতে পারেনা।
একবার বাদশা হারুন-অর-রশীদ রাজকীয় জাঁকজমক ও শান-শওকতের সাথে রুক শহরে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ আবদুল্লাহ ইবনে মুবারকের আগমন ঘটল শহরে। শহরের সমস্ত লোক তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বের হয়ে আসল। ভিড়ের চাপে অনেকের জুতা ছিঁড়ে গেল। বাদশাহর এক বাঁদী উপর থেকে এ দৃশ্য দেখছিল। সে জিজ্ঞেস করল, 'ব্যাপার কি? কে এলো শহরে?' কে একজন তাকে জানাল, 'খুরাসান থেকে আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক নামে একজন আলিম এসেছেন।' বাঁদী বললো, 'আসল রাজত্ব তো এই ব্যক্তির—হারুনের নয়। কারণ পুলিশ ও সরকারী কর্মচারী ছাড়া বাদশাহর জন্য একটি লোকও জমা করা যায় না। অথচ এ ব্যক্তির আগমনে সমস্ত শহরটাই ভেঙ্গে পড়েছে।'

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 ইবনে আবজা যে কারণে গভর্নর হলেন

📄 ইবনে আবজা যে কারণে গভর্নর হলেন


উমর (রা)-এর ফিলাফত-কাল। মক্কায় গভর্নর নিযুক্ত করেছেন তিনি নাফে ইবনুল হারিসকে।
কোন এক প্রয়োজনে খলিফা উমর (রা) এসেছিলেন আরবেরই 'উসফান' নামক স্থানে। খলিফা সেখানে মক্কার গভর্নর নাফেকেও ডেকে পাঠিয়েছিলেন।
নাফের সাথে যখন উসফানে উমর (রা)-এর সাক্ষাৎ হলো, তখন তিনি নাফেকে (রা) জিজ্ঞাসা করলেন, 'মক্কায় তুমি কাকে তোমার স্থলাভিষিক্ত করে এসেছ?'
নাফে বললেন, 'আজাদকৃত গোলাম ইবনে আবজাকে আমার স্থলাভিষিক্ত করে এসেছি।'
উমর (রা) ইবনে আবজাকে পুরোপুরি জানতেন না। বললেন, "সেকি! একজন আজাদকৃত গোলামকে মক্কাবাসীদের উপর নিজের স্থলাভিষিক্ত করে দিয়ে এলে"?
নাফে বলল, "তিনি কুরআনে অভিজ্ঞ, শরীয়তে সুপণ্ডিত এবং সুবিচারক।”
উমর (রা) স্বগতোক্তির মত বললেন, "হবেই তো! রাসূল (সা) বলে গেছেন, আল্লাহ তায়ালা এই কিতাব দ্বারা অনেককে ওপরে তুলবেন, অনেককে নীচে নামাবেন।"

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 খলীফার উপঢৌকন ও ইমাম আবু হানিফা

📄 খলীফার উপঢৌকন ও ইমাম আবু হানিফা


স্বেচ্ছাচারী শাসকের অধীনে কোন চাকুরী নেয়া কিংবা তাকে কোন সহযোগিতা করা ইমাম আবু হানিফা ঠিক মনে করতেন না। শাসকদের বিশেষ কোন আনুকূল্যও তিনি চাইতেন না। এমনকি তাঁদের কোন উপঢৌকন তিনি স্পর্শ করতেন না। খলীফা আল-মানসূর একবার ইমাম আবু হানীফাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি তো আমার উপহার গ্রহণ করেন না।”
জবাবে আবু হানীফা বললেন, "আমীরুল মুমিনীন, আপনি নিজের সম্পদ থেকে কবে আমাকে দিয়েছেন যে আমি তা গ্রহণ করিনি? আপনি তো মুসলমানদের বাইতুলমাল থেকে আমাকে দিয়েছেন যাতে আমার কোন হক নেই। তাদের প্রতিরক্ষার জন্য আমি লড়ি না। কাজেই একজন সিপাহীর মতো প্রাপ্য আমার নেই। আমি মুসলিম সমাজের কোন শিশু-কিশোর নই যে, তাদের জন্য বরাদ্দ প্রাপ্য আমি বাইতুলমাল থেকে পাবো। আমি কোন ফকীর-মিসকীনও নই যে, তাদের মতো অধিকার আমি লাভ করবো।”

📘 আমরা সেই জাতি > 📄 ইমাম আবু হানিফা খলীফার কাছে হাত পাতলেন

📄 ইমাম আবু হানিফা খলীফার কাছে হাত পাতলেন


ইমাম আবু হানিফা (র)-এর একজন মুচি প্রতিবেশী ছিলো। মুচি তার ঘরের দরজায় বসে সারাদিন কাজ করতো এবং সারারাত ধরে মদ খেয়ে মাতলামি করতো এবং অশ্লীল হৈচৈ ও গন্ডগোল করে ইমামের মনোযোগ নষ্ট করতো।
এক রাতে ইমাম মুচির ঘর থেকে হৈচৈ শুনলেন না। সে রাতে তিনি নিরিবিলি ইবাদত করতে পারলেন, কিন্তু মনে শান্তি পেলেন না।
পরদিন খুব সকালে ইমাম মুচির ঘরে গেলেন এবং মুচির খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারলেন যে, তার মদ খেয়ে মাতলামির জন্যে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে জেলে পুরেছে।
খলীফা মানসুর তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। ইমাম আবু হানিফা (র) কোন দিন কোন ব্যাপারেই খলীফার দ্বারস্থ হননি। বরং খলীফাই মাঝে মাঝে তাঁর দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু আজ প্রতিবেশীর বিপদ তাকে অস্থির করে তুলল এবং তিনি দরবারে গিয়ে হাযির হলেন।
দরবারের দ্বাররক্ষকরা মহান অতিথির সম্মানে দ্বার খুলে দিলেন। ইমামকে দেখে দরবারের আমীর-উমারাদের চোখ বিস্ফারিত হলো এবং স্বয়ং খলীফা আসন থেকে উঠে তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি ইমামকে নিয়ে তাঁর আসনে বসালেন এবং জানতে চাইলেন, কষ্ট করে তাঁর এ আগমনের কারণ কি?
ইমাম বললেন, 'আপনার পুলিশ আমার একজন প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করে জেলে পুরেছে। আমি তার মুক্তির প্রার্থনা নিয়ে এসেছি।'
খলীফা একটু চিন্তা করলেন। তারপর বললেন, 'হে সম্মানিত ইমাম। শুধু তাকে নয়, আপনার সম্মানে ঐ জেলের সবাইকেই আমি মুক্তি দিলাম।'
ইমাম আবু হানিফা (রা) তাঁর প্রতিবেশীকে নিয়ে ফিরে এলেন। প্রতিবেশী ঐ মুচি এরপর আর কোনদিন মদ স্পর্শ করেনি。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00