📄 ঐতিহাসিক ওয়াকেদি এবং খলীফা মামুনের দানশীলতা
আরব ঐতিহাসিক ওয়াকেদি আব্বাসীয় খলীফা মামুনের অধীনে একজন বিচারক ছিলেন। তিনি তাঁর দানশীলতার জন্যে বিখ্যাত ছিলেন—যেমন মামুন ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিরাট সহযোগী।
এমনকি ওয়াকেদি ঋণ করেও দান করতেন। এইভাবে তিনি বিরাট ঋণে জড়িয়ে পড়লেন।
একদিন ওয়াকেদি মামুনকে লিখলেন, 'আমি আমার ঋণ নিয়ে বড় বিপদে পড়েছি।'
খলীফা মামুন তাঁর স্বহস্তলিখিত পত্রে তাঁকে বললেন, 'আপনার দু'টি বড় গুণ রয়েছে: একটা হলো দানের হাত, অপরটি প্রয়োজন। প্রথম গুণটি আপনাকে অপরিমিত খরচে বাধ্য করে। আর দ্বিতীয়টি আপনার যা ঋণ বা প্রয়োজন তার একটি অংশমাত্র প্রকাশে সুযোগ দিয়েছে। তাই আমি নির্দেশ দিয়েছি যা আপনি চেয়েছেন তার দ্বিগুণ আপনাকে দেবার জন্যে। এ দিয়েও যদি আপনার প্রয়োজন পূরণ না হয়, তাহলে দোষ আপনার। আর যদি এটা প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আগের চেয়েও মুক্তহস্ত হতে আপনার বাধা নেই। কারণ আল্লাহ দানশীলতাকে ভালবাসেন।'
📄 আসল রাজ্যতো এ ব্যক্তিরই, হারুনের নয়
রাজার থাকে রাজ্য, থাকে শক্তি। রাজাকে মান্য করে কেউ ইচ্ছায়, অনেকেই অনিচ্ছায়। যেখানে ভয় মান্য করার মানদন্ড, সেখানে ভালোবাসা থাকেনা।
জ্ঞানীরা, আলেমরা, নিঃস্বার্থ ধর্মনেতারা রাজ্যহীন রাজা। মানুষের হৃদয়ে তাঁদের সাম্রাজ্য, তাই মানুষের হৃদয়ে সীমাহীন ভালোবাসা তাঁদেরই জন্যে। যা রাজা-বাদশারা কল্পনা করতে পারেনা।
একবার বাদশা হারুন-অর-রশীদ রাজকীয় জাঁকজমক ও শান-শওকতের সাথে রুক শহরে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ আবদুল্লাহ ইবনে মুবারকের আগমন ঘটল শহরে। শহরের সমস্ত লোক তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বের হয়ে আসল। ভিড়ের চাপে অনেকের জুতা ছিঁড়ে গেল। বাদশাহর এক বাঁদী উপর থেকে এ দৃশ্য দেখছিল। সে জিজ্ঞেস করল, 'ব্যাপার কি? কে এলো শহরে?' কে একজন তাকে জানাল, 'খুরাসান থেকে আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক নামে একজন আলিম এসেছেন।' বাঁদী বললো, 'আসল রাজত্ব তো এই ব্যক্তির—হারুনের নয়। কারণ পুলিশ ও সরকারী কর্মচারী ছাড়া বাদশাহর জন্য একটি লোকও জমা করা যায় না। অথচ এ ব্যক্তির আগমনে সমস্ত শহরটাই ভেঙ্গে পড়েছে।'
📄 ইবনে আবজা যে কারণে গভর্নর হলেন
উমর (রা)-এর ফিলাফত-কাল। মক্কায় গভর্নর নিযুক্ত করেছেন তিনি নাফে ইবনুল হারিসকে।
কোন এক প্রয়োজনে খলিফা উমর (রা) এসেছিলেন আরবেরই 'উসফান' নামক স্থানে। খলিফা সেখানে মক্কার গভর্নর নাফেকেও ডেকে পাঠিয়েছিলেন।
নাফের সাথে যখন উসফানে উমর (রা)-এর সাক্ষাৎ হলো, তখন তিনি নাফেকে (রা) জিজ্ঞাসা করলেন, 'মক্কায় তুমি কাকে তোমার স্থলাভিষিক্ত করে এসেছ?'
নাফে বললেন, 'আজাদকৃত গোলাম ইবনে আবজাকে আমার স্থলাভিষিক্ত করে এসেছি।'
উমর (রা) ইবনে আবজাকে পুরোপুরি জানতেন না। বললেন, "সেকি! একজন আজাদকৃত গোলামকে মক্কাবাসীদের উপর নিজের স্থলাভিষিক্ত করে দিয়ে এলে"?
নাফে বলল, "তিনি কুরআনে অভিজ্ঞ, শরীয়তে সুপণ্ডিত এবং সুবিচারক।”
উমর (রা) স্বগতোক্তির মত বললেন, "হবেই তো! রাসূল (সা) বলে গেছেন, আল্লাহ তায়ালা এই কিতাব দ্বারা অনেককে ওপরে তুলবেন, অনেককে নীচে নামাবেন।"
📄 খলীফার উপঢৌকন ও ইমাম আবু হানিফা
স্বেচ্ছাচারী শাসকের অধীনে কোন চাকুরী নেয়া কিংবা তাকে কোন সহযোগিতা করা ইমাম আবু হানিফা ঠিক মনে করতেন না। শাসকদের বিশেষ কোন আনুকূল্যও তিনি চাইতেন না। এমনকি তাঁদের কোন উপঢৌকন তিনি স্পর্শ করতেন না। খলীফা আল-মানসূর একবার ইমাম আবু হানীফাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি তো আমার উপহার গ্রহণ করেন না।”
জবাবে আবু হানীফা বললেন, "আমীরুল মুমিনীন, আপনি নিজের সম্পদ থেকে কবে আমাকে দিয়েছেন যে আমি তা গ্রহণ করিনি? আপনি তো মুসলমানদের বাইতুলমাল থেকে আমাকে দিয়েছেন যাতে আমার কোন হক নেই। তাদের প্রতিরক্ষার জন্য আমি লড়ি না। কাজেই একজন সিপাহীর মতো প্রাপ্য আমার নেই। আমি মুসলিম সমাজের কোন শিশু-কিশোর নই যে, তাদের জন্য বরাদ্দ প্রাপ্য আমি বাইতুলমাল থেকে পাবো। আমি কোন ফকীর-মিসকীনও নই যে, তাদের মতো অধিকার আমি লাভ করবো।”