📄 মুজাদ্দিদের মাথা মানুষ-সম্রাটের কাছে নত হলোনা
মোগল আমল। সম্রাট আকবরের ছেলে জাহাঙ্গীর তখন মোগল সাম্রাজ্যের প্রতাপশালী সম্রাট।
একদা তিনি শায়খ আহমদ সরহিন্দীকে দরবারে ডেকে পাঠালেন।
শায়খ আহমদ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের এক অকুতোভয় কর্মী পুরুষ। জাহাঙ্গীরের দরবারে এ রেওয়াজ ছিল যে, কোন ব্যক্তি দরবারে আগমন করলে প্রথমে বাদশাহকে কুর্নিশ করতে হতো।
বাদশাহ আশা করেছিলেন শায়খ আহমদ তাই করবেন। কিন্তু তিনি দরবারে প্রবেশ করে ইসলামী বিধান অনুযায়ী সালাম করলেন।
বাদশাহ রাগান্বিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'আপনার সাহস তো কম নয়। আপনি কেন দরবারের বিধি লংঘন করলেন? কেন সম্মানসূচক কুর্নিশ করেননি?'
জবাবে শায়খ আহমদ বললেন, 'হে সম্রাট! যে মস্তক প্রত্যহ কমপক্ষে পাঁচবার সম্রাটের সম্রাট রাবুল আলামীনের সামনে নত হয়, সে মাথা দুনিয়ার কোন মানুষের সামনে নত হতে পারে না, তিনি যত বড় শক্তিধরই হোন না কেন।'
📄 আও রঙ্গজেব নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সন্তানকে কারাগারে পাঠালেন
বাদশাহ আওরঙ্গজেব যে কত বড় ন্যায়বিচারক ছিলেন, তাঁর ৫০ বছর রাজত্বকালের হাজার হাজার ন্যায়বিচারের ঘটনা থেকে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলতেন, বিচার ক্ষেত্রে শাহজাদাদেরকেও আমি সাধারণ লোকের পর্যায়ভুক্ত মনে করি। বাদশাহ আওরঙ্গজেব ১০৮২ হিজরী সনে এক আদেশ জারি করেন, জিলায় জিলায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করে জনসাধারণকে জানিয়ে দেয়া হোক যে, বাদশাহর বিরুদ্ধেও যদি কারো কোন অভিযোগ থাকে, তাহলে নির্ভয়ে তা পেশ করতে পারবে।। সরকারী প্রতিনিধি সে সব অভিযোগের কৈফিয়ত প্রদান করবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অভিযোগকারী তার অধিকার ফিরে পাবে। বাদশাহ সরাসরি দায়ী হলে বাদশাহ নিজেই তার প্রতিকার করবেন।
মির্যা কামবখশ আলমগীরের অত্যন্ত স্নেহপরায়ণ পুত্র ছিলেন। তাঁর দুধ ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আরোপিত হয়।
আলমগীর আদেশ দিলেন যে, বিচারালয়ে এর তথ্যানুসন্ধান করা হোক। তদন্তের নিরপেক্ষতা যাতে কোনভাবেই নষ্ট না হয়, কোন সুফারিশ যেন গ্রাহ্য করা না হয়, সুফারিশকারী যদি বাদশাহর সন্তানও হয়।
কিন্তু কামবখশ তার দুধ ভাইয়ের পক্ষে দাঁড়ালেন। আলমগীর কামবখশকে দরবারে ডেকে পাঠালেন। কামবখশ দুধ ভাইকে সংগে নিয়ে আসলেন।
আলমগীর নিজ সন্তানকে গ্রেফতার করে তদন্ত কমিটিকে বললেন, 'এবার নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারবে।'
📄 জাভার রাজপুত্র হাজীপুরওয়া
জাভার পশ্চিম প্রান্তে পাজাজারান নামে একটি রাজ্য।
দ্বাদশ শতকের শেষ দিকে সেখানে এক রাজা ছিলেন। রাজার ছিল দুই ছেলে। বড় ছেলে ব্যবসায়ে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এবং ব্যবসায় উপলক্ষে তিনি ভারতে যান। এই সময় রাজার মৃত্যু হলে ছোট ছেলে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
রাজার বড় ছেলে তাঁর বাণিজ্য সফরের এক পর্যায়ে কিছু আরব বণিকের দেখা পান এবং তাদের কাছে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর নতুন নাম হাজী পূরওয়া। পরে রাজপুত্র হাজী পুরওয়া একজন আরব ধর্ম প্রচারকসহ দেশে ফিরে গেলেন এবং রাজা ও রাজ পরিবারকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকার করল এবং হাজী পুরওয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র করল।
ভাই এবং অন্যান্যের এই ষড়যন্ত্রের মুখে রাজপুত্র হাজী পুরওয়া জঙ্গলে আশ্রয় নিলেন।
তারপর কেউ আর তাঁর সন্ধান পায়নি। কিন্তু তাঁর চেষ্টা বৃথা যায়নি। গোটা জাভাই পরে ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নেয়।
হাজী পুরওয়া রাজা ও রাজ পরিবারকে ইসলাম গ্রহণ করাতে পারেননি, কিন্তু জঙ্গলে গিয়ে জনগণের কাতারে শামিল হয়ে গোটা দেশকেই ইসলাম গ্রহণ করিয়েছেন।
📄 বাদশাহ ইবনে সউদের বিচার
বহু বছরের অশান্তি, অবিচার, বিশৃংখলা, হানা-হানির পর বাদশাহ ইবনে সউদ আরব ভূখন্ডে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরে এসেছিল মানুষের মধ্যে।
বাদশাহ ইবনে সউদের বিচার কিংবদন্তির মত আলোচিত হয় মানুষের মুখে মুখে।
এক দিনের ঘটনা।
ইবনে সউদ তাঁর দরবারে বসেছিলেন। স্থানীয় শেখ ও গোত্র সর্দারেরা তাঁর চারদিকে ঘিরে বসেছিল। এ সময় একজন মহিলা এসে নালিশ করল, তার প্রতিবেশীর গরু তার বাগানে ঢুকে বাগানের সবটা ক্লোভার গাছ খেয়ে ফেলেছে।
ইবনে সউদ মহিলার প্রতিবেশীকে দরবারে হাজির করার পর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে শপথ করে অভিযোগ অস্বীকার করল।
অবশেষে ইবনে সউদ কসাইকে নির্দেশ দিলেন গরু জবাই করে পেট ফাঁড়ার জন্যে। গরুর পেট ফেঁড়ে গরুর পেটে ক্লোভার গাছ পাওয়া গেল।
ইবনে সউদের রায়ে মহিলার প্রতিবেশী দোষী সাব্যস্ত হলো। রায় অনুসারে তাকে মহিলার ক্লোভার গাছের পুরো ক্ষতিপূরণ দিতে হলো এবং মিথ্যা শপথ করার জন্য দিতে হলো বিরাট রকমের জরিমানা।