📄 যে যুদ্ধ অস্ত্রের নয় ধৈর্যের
মক্কা বিজয়ের অনেক আগের ঘটনা।
হোদায়বিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র। যুদ্ধটা অস্ত্রের নয়, ধৈর্যের। দুর্বলরা অপমান, অবমাননা বাধ্য হয়ে সহ্য করে। কিন্তু শক্তিমান, সামর্থবানরা অপমান, অবমাননা সহ্য করে সংযত থাকা অস্ত্রের যুদ্ধে জেতার চেয়ে কঠিন।
এই কঠিন যুদ্ধেরই মুখোমুখি হলো মুসলমানরা হোদায়বিয়ায়।
হজ্বের জন্যে মক্কার দ্বার শত্রু-মিত্র সকলের জন্যে উন্মুক্ত, এটাই আরবের প্রচলিত প্রথা। কিন্তু মুসলিম হজ্বযাত্রীদের মক্কায় প্রবেশ করতে দেয়া হলো না। কুরাইশ ছাড়া মক্কার আশেপাশের অন্যান্য গোত্র কুরাইশদের এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হয়নি তবুও।
উপরন্তু, নিরস্ত্র প্রায় মুসলমানদের উপর চড়াও হবার জন্যে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ও ইকরামা ইবনে আবু জেহেলের নেতৃত্বে কয়েকশ' কোরাইশ সৈন্য ঝড়ের বেগে অগ্রসর হলো মুসলমানদের উদ্দেশ্যে।
মহানবী (সা) যুদ্ধ এড়াবার জন্যে ভিন্ন পথ দিয়ে মক্কার সন্নিকটে হোদায়বিয়া প্রান্তরে গিয়ে উপনীত হলেন।
এই বৈরিতার উত্তরে মহানবী (সা) কুরাইশ সর্দারদের কাছে শান্তির প্রস্তাব পাঠালেন এবং তাদের পক্ষ থেকে একজন আলোচনাকারীকে আহ্বান করলেন।
কোরাইশদের পক্ষ থেকে একজন আলোচনাকারী এলেন। এলেন বটে, কিন্তু শান্তির জন্যে নয়, গণ্ডগোল পাকানোর লক্ষ্যে। কুরাইশ সর্দার উরওয়া এমন আচরণ করলেন এবং এমন সব কথা বললেন যে, সেই অপমান ও অবমাননা হযরত আবু বকরের পক্ষেও হজম করা সম্ভব হলো না। কঠোর ভাষায় তিনি উরওয়াকে আক্রমণ করলেন।
উরওয়া চলে গেলেন।
পরে মহানবী (সা) তাঁর শান্তি ও শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে নিজের প্রিয় উটে চড়িয়ে খেরাশ নামক সাহাবীকে পাঠালেন মক্কায় শান্তির প্রস্তাব নিয়ে। মক্কার লোকেরা মহানবীর এই শুভেচ্ছার জবাব দিলেন হযরতের উটকে হত্যা করে।
খেরাশকেও তারা হত্যা করতে যাচ্ছিলো। মক্কার পাশের এক গোত্র সর্দার তাকে বাঁচিয়ে নিরাপদে ফেরত পাঠালেন হোদায়বিয়ায়।
ঠিক এই সময়েই মক্কার একটি গুপ্ত ঘাতক দল মুসলমানদের একটা অংশের উপর চড়াও হতে এলো। তারা সবাই গ্রেফতার হলো কিন্তু মহানবী (সা) তাদের সঙ্গে সঙ্গেই মক্কায় ফেরত পাঠালেন।
পরে মহানবী (সা) হযরত উসমান (রা)-কে শান্তির বার্তা নিয়ে পাঠালেন মক্কায়। মক্কার লোকেরা তাঁকে বন্দী করলো।
মহানবীর কাছে খবর এলো উসমানকে হত্যা করা হয়েছে। গর্জে উঠলো দেড় হাজার মুসলমানের ক্ষুদ্র বাহিনী। তারা মহানবীর হাতে হাত রেখে শপথ নিলো 'মৃত্যুর জন্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যুদ্ধ করবো, কোন অবস্থায়ই একপদ পশ্চাৎবর্তী হবো না, আল্লাহর নামে আমাদের এই প্রতিজ্ঞা।'
কোরাইশরা মুসলমানদের চেনে। এই শপথের খবর মক্কায় পৌছার সাথে সাথে তাদের বীরত্বের আগুনে পানি পড়লো। উসমান (রা)-কে ছেড়ে দিয়ে তাঁর সাথেই সন্ধির বার্তা নিয়ে লোক পাঠালো মহানবীর কাছে।
হোদায়বিয়ার সন্ধি সম্পাদিত হলো। সন্ধির শর্ত অনুসারে মুসলমানদের এবার হজ্ব না করে ফিরে যেতে হবে। এছাড়া সন্ধির অন্যসব শর্তও সম্পূর্ণভাবে কোরাইশদের পক্ষে গেলো। এই সন্ধি সকল মুসলমানের মনে অপমানের অসহ্য জ্বালা ধরিয়ে দিলো। হযরত উমরের মত মহানবীর অতি ঘনিষ্ঠ সাথীর কন্ঠেও উত্তেজিত প্রতিবাদ উঠলো।
কিন্তু এরপরও মহানবীর নির্দেশ সবাই ভগ্ন হৃদয়ে মেনে নিলো।
অসহ্য অপমান, অবমাননার বিরুদ্ধে ধৈর্যের জয় হলো। যে পরীক্ষা মুসলমানদের মক্কার ১৩ বছরে দিতে হয়নি, যে পরীক্ষা তাদের বদর, ওহোদ ও খন্দক যুদ্ধেও দিতে হয়নি, সেই পরীক্ষা তাদের দিতে হলো হোদায়বিয়ায়। পরীক্ষা যেন তাদের সম্পূর্ণ হলো।
তাই বোধহয় হোদায়বিয়ার সন্ধির পর মুসলমানদের 'মহাবিজয়' (ফাতহুম্ মুবিন)-এর খোশ খবর এলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের তরফ থেকে।
📄 সিরিয়ার আকাশে প্রথম ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি
মুতা যুদ্ধ-যাত্রার একটি মুহূর্ত।
তিন হাজার সৈন্যের মুসলিম বাহিনী আরব সীমান্ত অতিক্রম করে সিরিয়া প্রদেশে প্রবেশের পর জানতে পারলো, খৃস্টান শাসনকর্তা শুরাহবিল এক লাখ সৈন্যের এক সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে সিরিয়ার মা'আব স্থানে অপেক্ষা করছেন। মুসলিম বাহিনী আরও জানতে পারলো, রোম সম্রাট স্বয়ং ২ লাখ সৈন্যের একটা বাহিনী তৈরী করছেন শুরাহবিলের সাহায্যের জন্যে। অর্থাৎ গোটা খৃস্টান সাম্রাজ্যই যেন এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
এ খবর পাওয়ার পর মুসলিম বাহিনীর অনেকেই পরিস্থিতি সম্পর্কে পরামর্শ করার প্রয়োজন অনুভব করল।
পরামর্শ সভায় মিলিত হবার জন্যে মুসলিম বাহিনীর যাত্রাবিরতি হলো।
বসল পরামর্শ সভা।
অনেক কথা হলো।
কিছু লোক পরামর্শ দিলেন, 'এই নতুন পরিস্থিতি সম্পর্কে মদীনায় খবর পাঠানো হোক। এ ব্যাপারে মহানবী (সা)-এর পরামর্শ আসার পর সে অনুসারে কাজ করা উচিত।'
যারা এই মত প্রকাশ করলেন, তারা যুক্তি হিসেবে বললেন, 'তিন হাজার সৈন্য নিয়ে লাখ অথবা তারও বেশী সুসজ্জিত সৈন্যের সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হওয়া সঙ্গত হবে না।'
যুক্তি খুবই শক্তিশালী। বিশেষ করে মহানবী (সা)-এর পরামর্শ নেয়ার প্রস্তাব অনেকের কাছে সঙ্গত বলে মনে হলো।
কিন্তু অনেকেই এই দ্বিধাগ্রস্ততাকে মেনে নিতে পারলেন না। তাদেরই একজন মহামতি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, যাকে মুতা যুদ্ধের তৃতীয় সেনাপতি হিসেবে মহানবী (সা) নিয়োগ দিয়েছিলেন, উঠে দাঁড়িয়ে গুরুগম্ভীর আওয়াজে তেজোদীপ্ত কণ্ঠে বললেন, 'মুসলিম সৈনিকবৃন্দ, তোমরা যে সাফল্য অর্জনের জন্যে বের হয়েছিলে, আল্লাহর কসম এখন সে সাফল্যই যেন তোমাদের কাছে অবাঞ্ছিত বলে মনে হচ্ছে। তোমরা তো বের হয়েছিলে শাহাদাত হাসিলের উদ্দেশ্যে, সত্যের নামে আত্মোৎসর্গ করার জন্যে। সংখ্যার গণনা মুসলমানরা কখনই করে না, পার্থিব শক্তির তুলনা করার কাজে কখনই তারা প্রবৃত্ত হয় না, তাদের একমাত্র শক্তি আল্লাহ। সেই আল্লাহর প্রেরিত মহাসত্যকে বক্ষে ধারণ করে, সত্যের তেজে উদ্দীপ্ত হয়ে কর্তব্যের কোরবান গাহে আল্লাহর নামে হৃৎপিণ্ডের শোণিত ঢেলে দেয়াই তো আমাদের সাফল্য। বিজয়ী হতে পারি ভাল, আর শাহাদাত যদি হয় আরও ভাল। সুতরাং এ সময় এত আলোচনা আর এই যুক্তি-পরামর্শ কিসের জন্যে?
রাওয়াহার এই তেজোদীপ্ত কথা প্রতিটি মুসলিম সৈনিকের দেহে যেন বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করলো। দুই চারজন যারা দূরদর্শিতা অবলম্বন ও হিসাব-নিকাশের কথা বলছিলেন, তারাও নতুন চেতনায় জেগে উঠলো। সকলে একবাক্যে বলে উঠল, 'আল্লাহর কসম, রাওয়াহার পুত্র ঠিক বলেছেন।'
তিন সহস্র মুসলিম সৈনিকের কণ্ঠে ধ্বনি উঠল, 'আল্লাহু আকবার।' সিরিয়ার আকাশে প্রথম উত্থিত এই সম্মিলিত তাকবির ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ল সিরিয়ার পথ-প্রান্তরে। মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধযাত্রা আবার শুরু হলো।
📄 খালিদ হলেন সেনাপতি
মুতার যুদ্ধ চলছে।
এক লাখ সুসজ্জিত সৈন্যের বিরুদ্ধে তিন হাজার সৈন্যের লড়াই। সেনাপতি যায়েদ ইবনে হারেসার শাহাদাতের পর সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জাফর ইবনে আবু তালিব। ভয়াবহ যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে সেনাপতি জাফরও শহীদ হলেন। তাঁর শাহাদাতের পর পতাকা তুলে ধরলেন আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। তিনিও শহীদ হলেন।
মুসলিম পতাকা ভূলুণ্ঠিত হলো রণাঙ্গনে।
পতাকা ভূলুণ্ঠিত হওয়ায় মুসলিম বাহিনীর কেন্দ্র ভেঙ্গে পড়লো। মুসলিম বাহিনীর তখন মহাবিপর্যয়কর অবস্থা। একদিকে শত্রুপক্ষের প্রবল চাপ, অন্যদিকে মুসলিম বাহিনীর সেনাপতিহীন বিশৃংখল অবস্থা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ালো যে, গোটা যুদ্ধক্ষেত্রে দু'জন মুসলিম সৈনিকও একসাথে ছিলো না। যুদ্ধের এই অবস্থা দেখে কেউ কেউ মদীনা অভিমুখে পালানো শুরু করেছিলেন। ভয়াবহ এই দুঃসময়ে উকবা ইবনে আমের নামক একজন সাহাবী উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলে উঠলেন, 'পলাতক অবস্থায় নিহত হওয়া অপেক্ষা সামনে অগ্রসর হয়ে জীবন দেয়া শ্রেয়তর।'
উকবার এই চিৎকারে অনেকের চেতনা হলো, কেন্দ্রও একটা খুঁজে পেলো তারা। কিছু মুসলিম যোদ্ধা ছুটে এলো তাঁর দিকে। সামনেই তাদের মুসলিম বাহিনীর ভূলুণ্ঠিত, পদদলিত পতাকা। সাবেত ইবনে আকরাম নামে একজন মুসলিম সৈনিক বিদ্যুৎবেগে ছুটলেন শুত্রুর মরণব্যূহ ভেদ করে পতাকার দিকে। তুলে ধরলেন তিনি পতাকা এবং সবেগে তা বাতাসে উড়াতে উড়াতে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, 'কে কোথায় আছ মুসলিম বীর, এদিকে ছুটে এসো'। একজন সেনাপতি নির্বাচন করতে হবে। ছুটে এলো আরও কিছু মুসলিম সৈনিক। সাবেত এবং উপস্থিত অন্যান্য সৈনিকরা সেনাপতি হিসেবে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ-এর নাম প্রস্তাব করলেন।
খালিদ বিনীতিভাবে বললেন, 'সাবেত, তুমি আমাদের সকলের ভক্তিভাজন, তুমিই এর উপযুক্ত পাত্র। তুমিই আমাদের সেনাপতি।' কিন্তু দূরদর্শী সাবেত তাঁকে বাধা দিয়ে বললেন, 'খালিদ, ভাবপ্রবণতা ছাড়, কথা কাটাকাটির সময় এটা নয়। আমরা সকলে তোমাকেই সেনাপতি মনোনীত করেছি। মহানবী (সা:)এর পতাকা তুমি গ্রহণ করো এবং বলো আমাদের কি করতে হবে।'
খালিদ আর অপেক্ষা করলেন না। ভক্তিভরে মহানবীর যুদ্ধ-পতাকা হাতে তুলে নিলেন।
📄 যে যুদ্ধে ৮টি তরবারী ভাঙ্গে সেনাপতির
মুতার যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন মহানবী (সা)।
মুতায় সৈন্যদল পাঠাবার কয়েকদিন পর যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহের জন্যে আবু আমের আশআরী নামক একজন সাহাবীকে তিনি পাঠালেন মুতা অঞ্চলে।
তিন সেনাপতি শহীদ হওয়ার মর্মান্তিক খবর পেয়ে আবু আমের ছুটে এলেন মদীনায়। বললেন মহানবীকে, তিন সেনাপতি শহীদ হওয়ার পর খালিদ ইবনে ওয়ালিদ এখন সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
শহীদ তিন সেনাপতির মধ্যে জাফর ছিলেন মহানবী (সা)-এর চাচাতো ভাই। শহীদের আত্মীয়-স্বজনকে সান্ত্বনা দিয়ে মহানবী (সা) জনসমক্ষে এসে দাঁড়ালেন। বললেন সকলকে উদ্দেশ্য করে, 'সকলে যুদ্ধ যাত্রা কর, ভাইদের সাহায্য কর। একজন সমর্থ ব্যক্তিও যেন বাদ না পড়ে।'
যে যুদ্ধে যায়েদ, জাফর, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার মত বীর সেনাপতি পর পর শহীদ হন সে যুদ্ধ যে কতটা ভয়াবহ তা বুঝতে মদীনার কারোরই বাকী রইল না। তার উপর মহানবীর আহ্বান পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। অভূতপূর্ব এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো মদীনায়।
সাহাবীরা যে যে অবস্থায় ছিল, যে যা পেল তা নিয়ে ছুটলো মুতার দিকে। কেউ হেঁটে কেউ ঘোড়ায় বা উটে চড়ে। এই যুদ্ধ-যাত্রার ক্ষেত্রে কেউ কারও অপেক্ষা করেনি। কে কার আগে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছতে পারে তারই যেন প্রতিযোগিতা। মহানবী (সা), হযরত আবু বকর (রা) এবং হযরত ওমর (রা)-একইভাবে মুতা যাত্রা করলেন।
মদীনা থেকে প্রেরিত এই সাহায্যের কি পরিমাণ যথাসময়ে মুতা যুদ্ধে খালিদ ইবনে ওয়ালিদের মুসলিম সেনাদলে শামিল হতে পেরেছিলেন, এটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো মদীনা থেকে সাহায্য পৌঁছেছিল। খৃস্টান শুরাহবিলের বাহিনীর জন্যে এটা ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক ধরনের বড় খবর।
সেদিন রাত শেষে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ মুতা প্রান্তরে মুসলিম বাহিনীকে এমন কৌশলে ছকে ছকে দাঁড় করালেন যাতে মনে হতে লাগল মদীনা থেকে অসংখ্য সৈন্য মুতায় পুরাতন সেনাদলের সাথে যোগ দিয়েছে।
খৃস্টান বাহিনীকে স্তম্ভিত করল এই ঘটনা।
আর সেদিন মুসলিম বাহিনীও এমনভাবে যুদ্ধ শুরু করল যেন তারা শতগুণ শক্তিতে আজ উদ্দীপ্ত।
ভয়াবহ এক যুদ্ধ সংঘটিত হলো সেদিনও। অবশেষে খৃস্টান বাহিনী পিছু হটল। সেদিন প্রথমে তাদের মানসিক পরাজয় সূচিত হয়েছিল। সেই মানসিক পরাজয় ডেকে আনল যুদ্ধে তাদের এক শোচনীয় পরাভব।
মুতার যুদ্ধ চলেছিল প্রায় ৭ দিন ধরে। এক খালিদ ইবনে ওয়ালিদের হাতেই ৮টি তরবারি টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধের শেষ মুহূর্তে তিনি ব্যবহার করেছিলেন নবম তরবারী।
মুতা ছিল তদানীন্তন আরব এলাকার বাইরে মুসলমানদের প্রথম যুদ্ধ এবং প্রথম বিজয়।